গ্রাম বাংলার প্রতিটি ইঞ্চি মাটি শুধু সবুজ ফসলেরই নয়, সেখানকার মানুষের জীবন-জীবিকারও আকর। কুশমণ্ডি ব্লকও তার ব্যতিক্রম নয়। এই ব্লকের প্রকৃত চরিত্র বোঝার জন্য আমরা উঁকি দেব ২০১১ সালের জনগণনার খাতায়। চলুন, সংখ্যার ভিড়ে হারিয়ে না গিয়ে, সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানুষের গল্পটা খুঁজে দেখি ।
📊 ২০১১ সালের পরিসংখ্যান: এক নজরে কুশমণ্ডি ব্লক
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, কুশমণ্ডি ব্লকের মোট জনসংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭৫২ জন । এই বিশাল জনগোষ্ঠী ছড়িয়ে ছিল ব্লকের ২৩১টি গ্রামে। এখানে কোনো শহরাঞ্চল নেই, পুরোটাই গ্রামীণ জনপদ ।
জনসংখ্যার ঘনত্ব: প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৬৪০ জন মানুষ বাস করতেন ।
লিঙ্গ অনুপাত: প্রতি ১০০০ পুরুষের বিপরীতে নারীর সংখ্যা ছিল ৯৮১ জন, যা জেলা গড়ের (৯৫৪) চেয়ে কিছুটা বেশি ।
শিশু অনুপাত: ০-৬ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ৯.৪% (৩৭১ জন) এবং শিশু লিঙ্গানুপাত ছিল ৮৭৪ ।
সাক্ষরতার হার: ২০১১ সালে এই ব্লকের সাক্ষরতার হার ছিল ৬৫.৪৩% ।
👥 সম্প্রদায় ও ধর্ম: বৈচিত্র্যের মেলবন্ধন
কুশমণ্ডি ব্লকের সমাজ গঠিত হয়েছে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনে। জনগণনার তথ্য বলছে, এখানে তপশিলি জাতি (Scheduled Castes)-এর মানুষ রয়েছেন ৪৪.৮% এবং তপশিলি উপজাতি (Scheduled Tribes)-এর মানুষ রয়েছেন ৭.৯% ।
📈 ২০০১ থেকে ২০১১: এক দশকের পরিবর্তন
২০০১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, কুশমণ্ডি ব্লকের জনসংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪৭ জন । ২০১১ সালের মধ্যে এই ব্লকের জনসংখ্যা বেড়েছে ১৩.৫২% হারে । এর আগের দশকে (১৯৯১-২০০১) এই বৃদ্ধির হার ছিল ২১.১৬% । জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই হার কিছুটা কমেছে, যা উন্নয়নের একটি ইঙ্গিত বহন করে।
🌾 অর্থনীতি: কৃষি নির্ভর জনপদ
কুশমণ্ডি মূলত একটি কৃষি প্রধান অঞ্চল। ২০১১ সালে ব্লকের মোট জনসংখ্যার ৩৮.১% (৭৫,৭৪৮ জন) ছিলেন কর্মী। এদের মধ্যে চাষি (কৃষক) ছিলেন ২৮,৭৬১ জন এবং কৃষি শ্রমিক ছিলেন ২১,৪৯৭ জন । এই তথ্য প্রমাণ করে, এই ব্লকের মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস এখনও কৃষি ও তার সঙ্গে যুক্ত কাজ।
পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালে কুশমণ্ডি ব্লকের মানুষজন যেন একটু একটু করে আমাদের সামনে নিজেদের তুলে ধরে। সংখ্যার ভিড়ে তাদের হাসি-কান্না, সংগ্রাম আর সম্ভাবনাগুলো লুকিয়ে আছে। শুধু একটু ভালো করে দেখার চোখ আর অনুভব করার মন দরকার।

