পশ্চিমবঙ্গের কুশমণ্ডি থানার সমস্ত হাটের দিন ও স্থানের তালিকা। পানিশালা, মঙ্গলপুর, বড়গাছি, সরলা, পিচাকালী সহ প্রতিটি এলাকার বড় হাট ও ছোট হাটের বিস্তারিত তথ্য।
কুশমণ্ডি থানা এলাকার হাটপাতি
গ্রামবাংলার প্রাণ হলো হাট। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে চড়ক-বাঁধা চালের ওপর বসে যায় চোখ ধাঁধানো সাজ। কেউ আসে সবজি নিয়ে, কেউ মাছ-মাংস নিয়ে, আবার কেউ হাতের তৈরি জিনিসপত্র নিয়ে। কুশমণ্ডি থানার আশপাশের এলাকাগুলোতেও সেই একই চিত্র। নীচে দেওয়া হলো ওই থানার অন্তর্গত বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারের হাটের দিনের তালিকা। কোন এলাকায় কোন দিন বসে, সব এক ঝলকে দেখে নাও।
পানিশালা (Panishala) – শুক্রবার ও মঙ্গলবার
পানিশালা এলাকায় সপ্তাহে দুদিন হাট বসে।
| দিন | হাটের ধরণ |
|---|---|
| শুক্রবার | বড় হাট |
| মঙ্গলবার | ছোট হাট |
শুক্রবারের হাটটাই এখানকার প্রধান। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জমজমাট থাকে। সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায় – শাকসবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, মসলা, কাপড়চোপড়, এমনকি গৃহস্থালির ছোটখাটো জিনিসও। মঙ্গলবারের হাটটা কিছুটা ছোট। স্থানীয় মানুষদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতেই এই হাট বেশি কাজে লাগে।
মঙ্গলপুর – রবিবার ও মঙ্গলবার
মঙ্গলপুরেও দুদিন হাট বসে।
| দিন |
|---|
| রবিবার |
| মঙ্গলবার |
রবিবার এখানকার বড়দিন। ছুটির দিন হওয়ায় আশপাশের গ্রাম থেকেও লোকজন ভিড় জমান। মঙ্গলবার আবারো হাট বসে, তবে সেই দিন তুলনামূলক কম লোকসমাগম হয়।
বড়গাছি – বুধবার ও রবিবার
বড়গাছি এলাকায় বুধবার আর রবিবার – এই দুইদিন হাট বসে।
বুধবার: সপ্তাহের মাঝামাঝি এই হাট খুব চনমনে থাকে। অনেক দূরের গ্রাম থেকেও ব্যাপারীরা আসেন।
রবিবার: ছুটির দিন হওয়ায় এদিনও বেশ জমে ওঠে হাট। সকাল ৯টা থেকে শুরু করে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে।
ঊশাহণ – বুধবার ও রবিবার
বড়গাছির মতোই ঊশাহণ অঞ্চলেও বুধবার ও রবিবার হাট বসে।
ঊশাহণের হাট মূলত মুদি জিনিস ও শুকনো মসলার জন্য বিখ্যাত। এছাড়া পশুপাখির বেচাকেনাও এখানে বেশ হয়।
কুশমন্ডি – তিনদিন হাট
কুশমণ্ডি থানার সবচেয়ে বেশি হাট বসে কুশমন্ডি গ্রামে। সপ্তাহে তিনদিন।
| দিন |
|---|
| সোমবার |
| বৃহস্পতিবার |
| শনিবার |
এটা দেখে বোঝাই যাচ্ছে, কুশমন্ডি হলো এই এলাকার প্রধান হাটকেন্দ্র। সোমবার সপ্তাহ শুরুর দিনে হাট বসে। বৃহস্পতিবার ব্যস্ততা কিছুটা কম তবে মাছের বাজারে বেশ ভিড় থাকে। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির আগের দিন হওয়ায় কেনাকাটার জন্য দারুণ সময়।
সরলা – মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার ও শনিবার
সরলা এলাকায় তিনদিন হাট বসে।
| দিন |
|---|
| মঙ্গলবার |
| বৃহস্পতিবার |
| শনিবার |
সরলার হাট ধান, চাল, ডাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের জন্য বেশ নামডাক আছে। শনিবার এখানে হাট সবচেয়ে জমজমাট হয়।
পিচাকালী – বৃহস্পতিবার ও সোমবার
পিচাকালী গ্রামে দুদিন হাট বসে।
বৃহস্পতিবার
সোমবার
এখানকার হাট তুলনামূলক ছোট। তবে মৌসুমি ফলমূল আর হাতের তৈরি ঝুড়ি-চাটাই পাওয়া যায় ভালো। বৃহস্পতিবারে রমরমা বেশি থাকে।
কাটাবাড়ি – শনি বার
কাটাবাড়ি এলাকায় সপ্তাহে একদিন মাত্র হাট বসে – শনিবার।
এটি খুবই দাগি হাট। তবে এখানকার গরু-ছাগলের বাজার বেশ বিখ্যাত। শনিবার সকাল থেকেই লোকজন আসতে শুরু করে, দুপুরের মধ্যে সব শেষ।
লক্ষিতলা – শনি বার
কাটাবাড়ির মতোই লক্ষিতলা গ্রামেও হাট বসে শনিবার।
লক্ষিতলার হাট মূলত মাটির জিনিস আর মচকা-মুড়কির দোকানের জন্য পরিচিত। শনিবার যারা পশুর হাটে যান, তারা ফেরার পথে লক্ষিতলায় থামেন নাস্তা করে নিতে।
সংক্ষিপ্ত তালিকা (এক নজরে)
| এলাকা | হাটের দিন |
|---|---|
| পানিশালা (Panishala) | শুক্রবার (বড় হাট), মঙ্গলবার |
| মঙ্গলপুর | রবিবার, মঙ্গলবার |
| বড়গাছি | বুধবার, রবিবার |
| ঊশাহণ | বুধবার, রবিবার |
| কুশমন্ডি | সোমবার, বৃহস্পতিবার, শনিবার |
| সরলা | মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার, শনিবার |
| পিচাকালী | বৃহস্পতিবার, সোমবার |
| কাটাবাড়ি | শনিবার |
| লক্ষিতলা | শনিবার |
এখন প্ল্যান করে বেরিয়ে পড়ো
হাট দেখতে ভালোবাসলে উপরের তালিকা কাজে দেবে। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলো এই হাটগুলো। কোথাও জমে ওঠে সবজির আড়ৎ, কোথাও আবার মাছের পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। কেউ কিনতে আসেন, কেউ দেখতে আসেন, কেউ বা শুধু চা আর সিঙাড়ার স্বাদ নিতে আসেন।
হাটে যাবার আগে একবার দেখে নাও কোন এলাকায় কোনদিন পৌঁছাতে পারবে। কিছু কিছু হাটই সকাল ৯-১০টার মধ্যে চনমনে হয়ে যায়। আবার কোনটা দুইটার পরেই হাট বসে।
প্রয়োজনে স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিতে পারো – হঠাৎ করে কোনো বিশেষ কারণে হাট বন্ধ থাকলে বিরক্ত লাগবে না।
