মূল কনটেন্টে যান

সাম্প্রতিক লেখা

শ্রী মা সরস্বতী বিদ্যাদেবী সম্পর্কে জানুন | ইতিহাস, মাহাত্ম্য, পূজা ও প্রতীক Sarawsati Devi Festivals

শ্রী মা সরস্বতী বিদ্যাদেবী সম্পর্কে জানুন | ইতিহাস, মাহাত্ম্য, পূজা ও প্রতীক Sarawsati Devi

শ্রী মা সরস্বতী বিদ্যাদেবীর ইতিহাস, উৎপত্তি, মাহাত্ম্য, প্রতীক, পূজা, মন্ত্র এবং বিদ্যার দেবী হিসেবে তাঁর গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। [ মা সরস্বতী, Maa Saraswati Devi, সরস্বতী পূজা, বিদ্যার দেবী, বাগদেবী, বসন্ত পঞ্চমী, Hindu Goddess Saraswati, Hello Kushmandi ]
শ্রী মা সরস্বতী বিদ্যাদেবী সম্পর্কে জানুন



সরস্বতী শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থে 'সরস্+বতু' স্ত্রী লিঙ্গে 'ঈ' প্রত্যয় যুক্ত যোগে 'সরস্বতী'। 'সতত রসে সমৃদ্ধা'। তিনি শুক্লবর্ণা, শুভ্র হংসবাহনা, 'বীণা-রঞ্জিত পুস্তক হস্তে' অর্থাৎ এক হাতে বীণা ও অন্য হাতে পুস্তক।

এটিও পড়ুন - শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা পদ্ধতি - সরস্বতী নিয়ম নীতি - Saraswati Puja Rules

সেগুলোর গূঢ় রহস্য তথা যথার্থ তাৎপর্য হৃদয়ে ধারণ করে মাকে পূজার্চনা করা উচিত। নয়তো পূজার আড়ম্বরতা যতই হোক না কেন তা অর্থহীন। শিক্ষার্থীরা দেবী সরস্বতীর পূজা বেশি করে। কেন? কারণ তিনি জ্ঞানদায়িনী বিদ্যার দেবী সরস্বতী। বিদ্যা দান করেন তিনি। মানুষ জ্ঞান পিপাসু। সর্বদা জ্ঞানের সন্ধান করে। 'শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়'(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-৪/৩৯) অর্থাৎ শ্রদ্ধাবান ব্যক্তি জ্ঞান লাভ করে থাকেন।

রীশ্রী মা সরস্বতী বিদ্যাদেবী সম্পর্কে জানুন

শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হয় কীভাবে? শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার জন্য পারিবারিক শিক্ষা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বাল্যকাল থেকেই ধর্মীয় আচার-আচরণের শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ছোটদেরকে ধর্মীয় চেতনা দান করার জন্য শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা অন্যতম একটি উৎসব।

পূজার আগের দিন সংযম পালন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গভীর শিক্ষা দেয়। ছোটবেলায় শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজায় সংযমের দিন মাছ-মাংস পরিহার, নিরামিষ আহার, আতপ চালের ভাত খাওয়া, উপোস থাকা সম্ভব হবে কি-না এসব নিয়ে এবং পূজার দিন উপবাস থাকা, পুষ্পাঞ্জলি অর্পণে হয় আনন্দঘন এক আয়োজন! আর এ সময়ই একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী তথা কোমলমতি শিক্ষার্থীও ধর্মীয় চেতনা পেয়ে থাকে। লক্ষণীয়, আমরা (বড়রা) প্রতিমায় ভক্তি নিবেদনের ক্ষেত্রে ওই প্রতিমার প্রণাম-মন্ত্রটুকুও জানি না! প্রণাম নিবেদনেও যে কত আধুনিকতা যুক্ত হয়েছে, তা ভাবলে অবাক হতে হয়!

শিক্ষার্থীসহ পূজিত সবাই যেন তার তাৎপর্য ও পূজার মূল আচরণে পূজিত হন সে কথা বিচার্য রেখে তার বর্ণনায় লক্ষ্য করা যাক:

দেবী শুক্লবর্ণা: 

শুক্লবর্ণ মানে সাদা রং। সত্ত্বগুণের প্রতীকও হলো সাদা। পবিত্র গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের ৬নং শ্লোকে আছে 'তত্র সত্ত্বং নির্মলত্বাৎ' অর্থাৎ সত্ত্ব, রজঃ ও তমোগুণের মধ্যে সত্ত্বগুণ অতি পবিত্র গুণ, স্বচ্ছতার প্রতীক, নির্মলতার প্রতীক। আবার ওই অধ্যায়েরই ১৭নং শ্লোকে আছে, 'সত্ত্বাৎ সংজায়তে জ্ঞানং' অর্থাৎ সত্ত্বগুণে জ্ঞান লাভ হয়। তাই জ্ঞানময়ী সর্বশুক্লা দেবী শ্রীশ্রী সরস্বতী জ্ঞানে গুণান্বিত বলে তার গায়ের রং শুক্লবর্ণা অর্থাৎ দোষহীনা ও পবিত্রতার মূর্তি। আর জ্ঞানদান করেন বলে তিনি জ্ঞানদায়িনী। 'নহি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে'(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-৪/৩৯) অর্থাৎ 'জ্ঞানের মতো পবিত্র আর কিছু নেই'। আমরাও যেন সে গুণের অধিকারী হতে পারি এ আমাদের প্রার্থনা।

হংসঃ 

 জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর বাহন শ্বেতহংস। হাঁস অসারকে ফেলে সার গ্রহণ করে। দুধ ও জল মিশ্রণ করে দিলে হাঁস জল ফেলে শুধু দুধটুকু গ্রহণ করে নেয়। কিংবা কাঁদায় মিশ্রিত স্থান থেকেও তার খাদ্য খুঁজে নিতে পারে। মায়ের সঙ্গে পূজিত হয়ে শিক্ষা দিচ্ছে- সবাই যেন সবার অসার বা ভেজাল/অকল্যাণকর পরিহার করে সার বা ভালো কিছু অর্থাৎ নিত্য পরমাত্মাকে গ্রহণ করেন এবং পারমার্থিক জ্ঞান অর্জন করে সুন্দর পথে চলতে পারি।

বীণাঃ '

জীবন ছন্দময়'। বীণার ঝংকারে উঠে আসে ধ্বনি বা নাদ। বিদ্যাদেবী সরস্বতীর ভক্তরা সাধনার দ্বারা সিদ্ধি লাভ করলে বীণার ধ্বনি শুনতে পান। বীণার সুর মধুর। পূজার্থী বা বিদ্যার্থীর মুখ নিঃসৃত বাক্যও যেন মধুর হয় এবং জীবনও মধুর সংগীতময় হয় এ কারণেই মায়ের হাতে বীণা। হাতে বীণা ধারণ করেছেন বলেই তার অপর নাম বীণাপাণি।

পুস্তকঃ 

বিদ্যার্থীর লক্ষ্য জ্ঞান অন্বেষণ। আর সে জ্ঞান ও বিদ্যা অন্বেষণের জন্য জ্ঞানের ভাণ্ডার 'বেদ' তার হাতে রয়েছে। 'বেদই বিদ্যা'। তিনি আমাদের আশীর্বাদ করছেন- 'জীবনকে শুভ্র ও পবিত্র রাখ। সত্যকে আঁকড়ে রাখ। মূল গ্রন্থের বাণী পালন কর। জীবন ছন্দময় কর। স্বচ্ছন্দে থাক।'

উল্লেখ্য, প্রতিটি দেব-দেবীর প্রণাম-মন্ত্র ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান মন্ত্র আমাদের সবার জানা উচিত। আর তাই নিম্নোক্ত মন্ত্রগুলি বিদ্যার্থীদের অবশ্যই জানা উচিত।

দেবী সরস্বতীর প্রতিটি অলংকার ও উপকরণের একটি গভীর আধ্যাত্মিক অর্থ রয়েছে।

  • 🎼 বীণা — সঙ্গীত, সৃজনশীলতা ও জীবনের সামঞ্জস্যের প্রতীক।
  • 📖 বেদ বা গ্রন্থ — জ্ঞান, শিক্ষা ও প্রজ্ঞার প্রতীক।
  • 📿 অক্ষমালা — সাধনা, একাগ্রতা ও আত্মজ্ঞান।
  • 🌸 সাদা পদ্ম — পবিত্রতা ও নির্মলতার প্রতীক।
  • 🦢 হংস — সত্য-মিথ্যার বিচার করার জ্ঞান ও বিবেকের প্রতীক। 

মা সরস্বতীর আশীর্বাদ কেন প্রার্থনা করা হয়?

দেবীর আশীর্বাদে ভক্তরা প্রার্থনা করেন—

  • বিদ্যা ও বুদ্ধি লাভের জন্য
  • পরীক্ষায় সফলতার জন্য
  • সংগীত ও শিল্পকলায় উন্নতির জন্য
  • বাকশক্তির উন্নতির জন্য
  • সৎ জ্ঞান ও বিবেক অর্জনের জন্য

মা সরস্বতীর জনপ্রিয় মন্ত্র

ওঁ আইং সরস্বত্যৈ নমঃ।

এই সংক্ষিপ্ত মন্ত্রটি বহু ভক্ত নিয়মিত জপ করেন বিদ্যা ও জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে।

সরস্বতী দেবীর প্রণাম ও পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্রঃ

ওঁ সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাং দেহী নমোহস্তুতে।।
ওঁ ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈই নমো নমঃ।
বেদ বেদান্ত বেদাঙ্গ বিদ্যাস্থানভ্যঃ এব চ
এষ সচন্দন পুষ্প বিল্বপত্রাঞ্জলি ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ।।

জ্ঞানদায়িনী সরস্বতী মায়ের পূজাতে ফাঁকি না দিয়ে আমরা সবাই সঠিকভাবে তার পূজা করি। তার পূজার শিক্ষায় আমরা সর্বদা সবাই শুদ্ধ জ্ঞানচর্চায় যেন রত থাকি এবং প্রার্থনা করি-

ওঁ অসতো মা সদ্গময়
তমসো মা জ্যোতির্গময়
মৃত্যুর্মা অমৃতংগময়
আবিরাবির্ম এধি।

অর্থাৎ- হে ঈশ্বর, আমাকে অসৎ থেকে সৎ লোকে, অন্ধকার থেকে আলোতে এবং মৃত্যু থেকে অমৃতে নিয়ে যাও।

সরস্বতী পূজায় কী নিবেদন করা হয়?

সাধারণত ভক্তরা নিবেদন করেন—

  • সাদা বা হলুদ ফুল
  • ফল
  • মিষ্টি
  • দুধ ও দই
  • বই, খাতা, কলম
  • বাদ্যযন্ত্র

অনেক স্থানে হলুদ রঙের পোশাক পরারও প্রচলন রয়েছে, যা বসন্ত ও শুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

মা সরস্বতীর শিক্ষা

মা সরস্বতী আমাদের শেখান—

  • জ্ঞানই প্রকৃত শক্তি।
  • শিক্ষা মানুষকে আলোকিত করে।
  • নম্রতা ছাড়া বিদ্যার মূল্য নেই।
  • শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি মানুষের মননকে সমৃদ্ধ করে।
  • সত্য, শুদ্ধতা ও বিবেকই জীবনের প্রকৃত পথপ্রদর্শক।
শ্রী মা সরস্বতী শুধুমাত্র বিদ্যার দেবী নন, তিনি জ্ঞান, সৃজনশীলতা, শুদ্ধতা এবং মানবিকতার আলোকবর্তিকা। তাঁর আরাধনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত শিক্ষা কেবল পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য নয়, বরং একজন আদর্শ, জ্ঞানী ও সৎ মানুষ হয়ে ওঠার জন্য।

FAQ

প্রশ্ন: মা সরস্বতী কিসের দেবী?
উত্তর: তিনি বিদ্যা, জ্ঞান, বুদ্ধি, সঙ্গীত, শিল্প, বাকশক্তি ও সংস্কৃতির অধিষ্ঠাত্রী দেবী।

প্রশ্ন: সরস্বতী পূজা কবে হয়?
উত্তর: মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে, যা বসন্ত পঞ্চমী নামে পরিচিত।

প্রশ্ন: সরস্বতী দেবীর বাহন কী?
উত্তর: হংস (রাজহাঁস), যা জ্ঞান ও বিবেকের প্রতীক।

প্রশ্ন: ছাত্রছাত্রীরা কেন মা সরস্বতীর পূজা করেন?
উত্তর: বিদ্যা, স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধি ও পরীক্ষায় সফলতার আশীর্বাদ লাভের জন্য।


ব্রিটিশ শাসনে কুশমণ্ডির অজানা ইতিহাস — জমিদারি, তেভাগা আন্দোলন ও দেশভাগের গল্প। Kushmandi Histiory

ব্রিটিশ শাসনে কুশমণ্ডির অজানা ইতিহাস — জমিদারি, তেভাগা আন্দোলন ও দেশভাগের গল্প। Kushmandi

ব্রিটিশ শাসনে কুশমণ্ডির অজানা ইতিহাস — জমিদারি শাসন, তেভাগা আন্দোলন, মহিপাল দিঘির ঐতিহ্য ও দেশভাগের গল্প জানুন এই বিস্তারিত ব্লগে। [ ব্রিটিশ শাসনে কুশমণ্ডির অজানা ইতিহাস, কুশমণ্ডির জমিদারি ব্যবস্থা, তেভাগা আন্দোলন দিনাজপুর, মহিপাল দিঘি, দক্ষিণ দিনাজপুর ইতিহাস, রাজবংশী সম্প্রদায় কুশমণ্ডি ]


ব্রিটিশ শাসনে কুশমণ্ডির অজানা ইতিহাস

ব্রিটিশ শাসনে কুশমণ্ডির অজানা ইতিহাস — জমিদারি, তেভাগা আন্দোলন ও দেশভাগের গল্প

আপনি কি জানেন, আজ থেকে মাত্র দেড়শো বছর আগে কুশমণ্ডির মানুষ কেমন জীবন কাটাতেন? যে মাটিতে আজ আমরা মুক্ত বাতাসে হেঁটে বেড়াই, সেখানে একসময় ব্রিটিশ নীলকুঠির সাহেবদের চাবুকের শব্দ শোনা যেত।

দিনাজপুরের এই ছোট্ট ব্লকের ইতিহাস আসলে রক্ত, ঘাম আর চরম লড়াইয়ের গল্প। শান্ত, স্নিগ্ধ এই জনপদের গভীরে লুকিয়ে আছে এক উত্তাল অতীত, যা আমাদের অনেকেরই অজানা।

আমি যখন প্রথম এই অঞ্চলের পুরনো ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করি, তখন অবাক হয়ে দেখেছিলাম কীভাবে সাধারণ কৃষকেরা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন শোষকদের বিরুদ্ধে। চলুন, আজ কুশমণ্ডির সেই ধুলোবালি মাখা ইতিহাসের পাতাগুলো আরেকবার উল্টে দেখা যাক।


কুশমণ্ডির ব্রিটিশ অধ্যায়ের টাইমলাইন

ইতিহাস বুঝতে গেলে তার সময়রেখা জানা খুব দরকার। কুশমণ্ডির ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। নিচে সংক্ষেপে এর মূল বাঁকগুলো তুলে ধরা হলো:

  • ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি লাভ করে এবং দিনাজপুর অঞ্চল সরাসরি ব্রিটিশ রাজস্ব নিয়ন্ত্রণে আসে। কুশমণ্ডি তখন অবিভক্ত দিনাজপুরের অংশ।

  • ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দ: দিনাজপুর জেলা আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। কুশমণ্ডি অঞ্চল এই নতুন জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়ে রাজস্ব বিভাগীয় কাঠামোয় স্থান পায়।

  • ১৭৮৩–১৮১২ খ্রিস্টাব্দ: বিখ্যাত গবেষক ফ্রান্সিস বুকানান হ্যামিলটন দিনাজপুর জরিপ করেন। তার বিবরণে কুশমণ্ডি অঞ্চলের প্রাচীন কূপ, দিঘি ও বৌদ্ধ নিদর্শনের স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়।

  • ১৮NT খ্রিস্টাব্দ: সিপাহি বিদ্রোহের ঢেউ উত্তরবঙ্গেও আছড়ে পড়ে। দিনাজপুর অঞ্চলে ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব তীব্র হয় এবং কুশমণ্ডির কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।

  • ১৮৮৫–১৯০০ খ্রিস্টাব্দ: ব্রিটিশ আমলে জমিদারি ব্যবস্থা পূর্ণ প্রভাবে আসে। কুশমণ্ডি অঞ্চলের কৃষকরা নীলচাষ ও অতিরিক্ত খাজনার চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

  • ১৯৪৬–১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ: তেভাগা আন্দোলন দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলে তীব্র আকার নেয়। কুশমণ্ডির কৃষকরাও এই আন্দোলনে সামিল হন। পরবর্তীতে দেশভাগের ধাক্কায় অবিভক্ত দিনাজপুর ভেঙে যায়।

জমিদারি শাসন — কুশমণ্ডির আলো-আঁধারি

দিনাজপুর রাজের অধীনে এই অঞ্চলের জমিদারি কাঠামো পরিচালিত হতো। মুঘল আমলে যাদের উত্থান ঘটেছিল, তারা ব্রিটিশ আমলেও নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হন।

এই ব্যবস্থার কারণে স্থানীয় কৃষকদের জীবন ছিল বেশ কঠিন। স্থানীয় জমিদার পরিবারগুলো কর আদায়ের জন্য কঠোর সব নিয়ম তৈরি করেছিল। ফসলের একটা বিশাল অংশ চলে যেত তাদের সিন্দুকে।

আমার মনে আছে, আমার এক বন্ধু একবার কুশমণ্ডির এক প্রবীণের সাথে কথা বলিয়ে দিয়েছিল। সেই বৃদ্ধ আবেগ জড়ানো গলায় বলেছিলেন, "যে মাটিতে জমিদারের ঘোড়া দৌড়াতো, সেই মাটিতেই লাঙল ধরেছিল আমার দাদার বাপ।"

মহিপাল দিঘির ভূমিকা

পাল আমলের এই বিশাল জলাশয়টি ব্রিটিশ আমল বা তারও আগে থেকে কুশমণ্ডির কৃষির মূল ভিত্তি ছিল। চাষাবাদের জন্য পানির প্রধান উৎস ছিল এই দিঘি।

কিন্তু এই দিঘির পানির ওপরও সাধারণ মানুষের অধিকার সব সময় একরকম ছিল না। জমিদার ও জোতদারদের নিয়ন্ত্রণের কারণে কৃষকদের অনেক সময় চরম সংকটে পড়তে হতো।

তেভাগা আন্দোলনের বীজ

ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ জমিদারকে দিতে হতো। এই চরম শোষণের ফলেই সাধারণ কৃষকদের মনে ক্ষোভের আগুন জমতে থাকে।

শোষণের এই ধারাবাহিকতাই পরবর্তীতে তেভাগা আন্দোলনের মূল বীজ বপন করেছিল। মানুষ আর মুখ বুজে অত্যাচার সহ্য করতে রাজি ছিল না।

অবিভক্ত দিনাজপুরে ২০০-এরও বেশি জাতের সুগন্ধি চাল উৎপন্ন হতো। কুশমণ্ডির মাটি ছিল এই ধানের অন্যতম আধার। — দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বিবরণী।

ব্রিটিশ আমলে কুশমণ্ডির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন

শত প্রতিকূলতার মধ্যেও কুশমণ্ডির মানুষ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেননি। বরং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই তৈরি হয়েছে অনন্য সব শিল্প।

নিচে কুশমণ্ডির সামাজিক জীবনের দুটি প্রধান দিক আলোচনা করা হলো, যা ব্রিটিশ আমলেও টিকে ছিল।

১. গোমিরা মুখোশ শিল্প

কুশমণ্ডি ব্লক বরাবরই গোমিরা নৃত্যের মুখোশ তৈরির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। গামার কাঠের এই মুখোশগুলো ব্রিটিশ আমলেও অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তৈরি হতো।

স্থানীয় লোক-দেবতার পূজায় এই মুখোশগুলো উৎসর্গ করা হতো। আজও এই শিল্পের কদর বিশ্বজুড়ে রয়েছে এবং এটি কুশমণ্ডির সবচেয়ে বড় পরিচয়।

২. রাজবংশী ও দেশি-পলি সম্প্রদায়

দিনাজপুরের রাজবংশী ও দেশি-পলি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন এই অঞ্চলের মূল চালিকাশক্তি। তাদের সহজ-সরল জীবনযাত্রা আর প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে থাকার অভ্যাস কুশমণ্ডির সমাজকে এক অনন্য রূপ দিয়েছিল।

কৃষিভিত্তিক এই সমাজ ব্যবস্থার ওপর যখনই বাইরের আঘাত এসেছে, তারা একজোট হয়ে তার প্রতিরোধ করেছেন।

দেশভাগের ক্ষত এবং নতুন কুশমণ্ডি

১৯৪৭ সালের দেশভাগ এই অঞ্চলের মানুষের বুকে এক গভীর ক্ষত তৈরি করে দিয়েছিল। রেডক্লিফ সাহেব এক কলমে মানচিত্রে দাগ টানলেন, আর মানুষের ভিটেমাটি রাতারাতি দুই ভাগ হয়ে গেল।

অবিভক্ত দিনাজপুর ভেঙে যাওয়ার পর ওপার থেকে অসংখ্য পরিবার সবকিছু হারিয়ে কুশমণ্ডি অঞ্চলে চলে আসেন। ভিটে-মাটি ছাড়ার কষ্ট আর নতুন করে জীবন গড়ার লড়াইয়ের গল্প আজও এখানকার বাতাসে ভেসে বেড়ায়।

আগেকার দিনে দাদু-ঠাকুমাদের মুখে শোনা যেত সেইসব কঠিন দিনগুলোর কথা। কীভাবে তারা শূন্য হাতে এসে আবার এই মাটিকে ভালোবেসে নিজেদের ঘর বেঁধেছিলেন।

আজকের যে কুশমণ্ডি আমরা দেখছি, তা কিন্তু সেইসব সংগ্রামী মানুষের রক্ত ও ঘামের ফসল। অতীতের সেই কঠিন দিনগুলো পার করেই আজকের এই শান্ত ও সুন্দর জনপদ গড়ে উঠেছে। তাই ইতিহাসের এই পাতাগুলো জানা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।

FAQ — কুশমণ্ডির ইতিহাস নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন

১. ব্রিটিশ আমলে কুশমণ্ডি কোন জেলার অধীনে ছিল?

ব্রিটিশ আমলে কুশমণ্ডি অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার অধীনে ছিল। দেশভাগের পর এটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বর্তমানে এটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক।

২. কুশমণ্ডির কৃষকদের প্রধান সমস্যা কী ছিল?

প্রধান সমস্যা ছিল জমিদারি শোষণ এবং অতিরিক্ত খাজনা। কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমের ফসলের সিংহভাগ জমিদার ও জোতদারদের দিতে হতো, যা তাদের চরম দারিদ্র্যের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।

৩. মহিপাল দিঘির ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?

মহিপাল দিঘি পাল আমলে খনন করা একটি বিশাল জলাশয়। এটি কুশমণ্ডি ও তার আশেপাশের অঞ্চলের কৃষিকাজের জন্য পানির প্রধান উৎস ছিল এবং এর সাথে অনেক ঐতিহাসিক লোকগাথা জড়িয়ে আছে।

৪. গোমিরা মুখোশ শিল্পের সাথে কুশমণ্ডির সম্পর্ক কী?

কুশমণ্ডি হলো গোমিরা মুখোশ শিল্পের আদি জন্মস্থান। গামার কাঠ দিয়ে তৈরি এই মুখোশগুলো পরে গোমিরা নৃত্য পরিবেশন করা হয়, যা ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই অঞ্চলের সংস্কৃতির প্রধান অঙ্গ।

লেখাটি ভালো লাগলে এবং কুশমণ্ডির এই অজানা ইতিহাস অন্যদের জানাতে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে ভুলবেন না!

কুশমণ্ডির স্কুলগুলো: শিক্ষার আলো কতদূর পৌঁছেছে? Histiory

কুশমণ্ডির স্কুলগুলো: শিক্ষার আলো কতদূর পৌঁছেছে?

কুশমণ্ডির স্কুল শিক্ষা, অবকাঠামো, ডিজিটাল শিক্ষার অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত জানুন। [ কুশমণ্ডি স্কুল, কুশমণ্ডি শিক্ষা, দক্ষিণ দিনাজপুর শিক্ষা, গ্রামীণ শিক্ষা, পশ্চিমবঙ্গ স্কুল, কুশমণ্ডি ব্লক, শিক্ষার উন্নয়ন ]
কুশমণ্ডির স্কুলগুলো


কুশমণ্ডির স্কুলগুলো: শিক্ষার আলো কতদূর পৌঁছেছে?

কুশমণ্ডি মানেই শুধু কৃষি, সংস্কৃতি বা ঐতিহ্য নয়। এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠছে এখানকার স্কুলগুলোকে কেন্দ্র করেই। আজকের কুশমণ্ডিতে এমন অনেক ছাত্রছাত্রী রয়েছে যারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, সরকারি কর্মী কিংবা সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—কুশমণ্ডির স্কুলগুলো কি সেই স্বপ্নপূরণের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত?

শিক্ষার আলো কতদূর পৌঁছেছে গ্রামের ঘরে ঘরে?

চলুন একটু কাছ থেকে দেখি।

কুশমণ্ডির শিক্ষার বর্তমান চিত্র

কুশমণ্ডি ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম জুড়ে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুল।

আজ থেকে ২০-৩০ বছর আগে অনেক গ্রামে স্কুলে পৌঁছানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কয়েক কিলোমিটার হেঁটে পড়তে যাওয়া ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।

বর্তমানে সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে।

প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপস্থিতি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা: ভিত্তি কতটা শক্ত?

একটি অঞ্চলের শিক্ষার মান নির্ভর করে তার প্রাথমিক শিক্ষার উপর।

কুশমণ্ডির অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে পাওয়া যায়:

  • মিড-ডে মিল
  • বিনামূল্যে পাঠ্যবই
  • স্কুল ইউনিফর্ম
  • ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি সহায়তা

ফলে স্কুলে ভর্তি ও উপস্থিতির হার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার প্রসার

কুশমণ্ডির বিভিন্ন এলাকায় একাধিক মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

আজ অনেক ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল করে জেলার বাইরে উচ্চশিক্ষার জন্যও যাচ্ছে।

বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো।

কন্যাশ্রী প্রকল্পের প্রভাব

কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু হওয়ার পর বহু ছাত্রী স্কুলে টিকে থাকার উৎসাহ পেয়েছে।

অনেক পরিবার মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়েছে।

ডিজিটাল শিক্ষা: কতটা এগিয়েছে?

কোভিডের সময় শিক্ষাব্যবস্থার একটি বড় পরিবর্তন দেখা যায়।

স্মার্টফোন, অনলাইন ক্লাস, ইউটিউব শিক্ষা—এসব ধীরে ধীরে গ্রামীণ শিক্ষার অংশ হয়ে ওঠে।

তবে বাস্তবতা হলো, এখনও কুশমণ্ডির অনেক পরিবারে:

  • উচ্চগতির ইন্টারনেট নেই
  • পর্যাপ্ত স্মার্ট ডিভাইস নেই
  • ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ সীমিত

এই জায়গাতেই এখনও অনেক কাজ বাকি।

শিক্ষার পথে চ্যালেঞ্জগুলো

শিক্ষার আলো পৌঁছেছে ঠিকই, কিন্তু সব সমস্যা মিটে যায়নি।

১. অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা

কিছু স্কুলে এখনও প্রয়োজন:

  • অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ
  • উন্নত লাইব্রেরি
  • আধুনিক ল্যাবরেটরি
  • উন্নত খেলাধুলার পরিকাঠামো

২. শিক্ষক সংকট

কিছু ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার গুণগত মান প্রভাবিত হয়।

৩. অর্থনৈতিক সমস্যা

অনেক ছাত্রছাত্রী এখনও পারিবারিক আর্থিক সমস্যার কারণে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সংগ্রাম করে।

ভালো দিকগুলোও কম নয়

সব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কুশমণ্ডির শিক্ষা ক্ষেত্রে কিছু বড় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

✔ মেয়েদের শিক্ষায় অগ্রগতি

আগের তুলনায় অনেক বেশি ছাত্রী এখন উচ্চমাধ্যমিক ও কলেজে যাচ্ছে।

✔ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

বর্তমানে অনেক ছাত্রছাত্রী:

  • WBCS
  • SSC
  • Rail
  • Banking
  • NEET
  • JEE

এর মতো পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

✔ সচেতনতা বৃদ্ধি

অভিভাবকদের মধ্যে শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

আমার দেখা একটি পরিবর্তন

একসময় গ্রামের অনেক পরিবার মনে করত মাধ্যমিক পাশ করলেই যথেষ্ট।

আজ সেই ধারণা বদলেছে।

আমার পরিচিত এক ছাত্র কুশমণ্ডির একটি সাধারণ স্কুল থেকে পড়াশোনা করে বর্তমানে কলকাতার একটি কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে।

এমন গল্প এখন আর ব্যতিক্রম নয়।

বরং ধীরে ধীরে সাধারণ হয়ে উঠছে।

ভবিষ্যতে কী প্রয়োজন?

কুশমণ্ডির শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজন:

  1. আরও ডিজিটাল ক্লাসরুম
  2. উন্নত কম্পিউটার শিক্ষা
  3. ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং
  4. বিজ্ঞান গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি
  5. লাইব্রেরি ও ল্যাবরেটরি উন্নয়ন
  6. দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা

শিক্ষার আলো কি সত্যিই পৌঁছেছে?

উত্তর যদি এক কথায় দিতে হয়—হ্যাঁ, পৌঁছেছে।

তবে যাত্রা এখনও শেষ হয়নি।

অনেক দূর এগিয়েছে কুশমণ্ডি। আরও অনেক পথ বাকি।

স্কুলের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষা যখন প্রতিটি পরিবারে, প্রতিটি শিশুর স্বপ্নে জায়গা করে নেয়—তখনই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।

আর সেই পথেই এগোচ্ছে কুশমণ্ডি।

FAQ

১. কুশমণ্ডিতে কি পর্যাপ্ত স্কুল রয়েছে?

ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে আরও উন্নয়নের প্রয়োজন আছে।

২. কন্যাশ্রী প্রকল্প শিক্ষায় কী প্রভাব ফেলেছে?

মেয়েদের স্কুলে উপস্থিতি ও উচ্চশিক্ষার আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

৩. কুশমণ্ডিতে ডিজিটাল শিক্ষা কতটা উন্নত?

কিছু স্কুলে ডিজিটাল সুবিধা রয়েছে, তবে আরও সম্প্রসারণ প্রয়োজন।

৪. শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

অবকাঠামো, ডিজিটাল সুবিধা এবং কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষক সংকট।

৫. ভবিষ্যতে কী ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন?

ডিজিটাল ক্লাসরুম, কম্পিউটার শিক্ষা, ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং আধুনিক শিক্ষা পরিকাঠামো।

📚 একটি স্কুল শুধু একটি ভবন নয়, এটি একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কারখানা। কুশমণ্ডির শিক্ষা নিয়ে আপনার মতামত কী? পোস্টটি শেয়ার করুন এবং আলোচনায় অংশ নিন।

কুশমণ্ডি: দক্ষিণ দিনাজপুরের ১টি অজানা রত্নের গল্প - Kushmandi Histiory

কুশমণ্ডি: দক্ষিণ দিনাজপুরের ১টি অজানা রত্নের গল্প - Kushmandi

কুশমণ্ডি—দক্ষিণ দিনাজপুরের সেই জনপদ যেখানে গোমিরার মুখোশ কথা বলে, তাঁগন নদী মহাভারতের স্মৃতি বহন করে আর মহীপাল দিঘির জলে ভাসে হাজার বছর।[ কুশমণ্ডি, দক্ষিণ দিনাজপুর, কুশমণ্ডি থানা, কুশমণ্ডি ব্লক পশ্চিমবঙ্গ, গোমিরা মুখোশ, মহীপাল দিঘি, তাঁগন নদী ]

দক্ষিণ দিনাজপুরের ১টি অজানা রত্নের গল্প

কুশমণ্ডি — দক্ষিণ দিনাজপুরের এক অজানা রত্ন

পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে একটি ছোট্ট জায়গা — কুশমণ্ডি। কলকাতার অনেকে হয়তো এর নামই শোনেননি, সাধারণ পর্যটকরাও চট করে এখানে আসেন না। কিন্তু এই মাটির তলায় লুকিয়ে আছে হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস, বাতাসে ওড়ে গোমিরার মুখোশের কাঠ-খোদাইয়ের গন্ধ, আর বুকে ধরে আছে শান্ত তাঁগন নদীর গান।

কুশমণ্ডির কথা মনে পড়লে আসলে প্রথমে আপনার চোখে কী ভেসে ওঠে? তাঁগন নদীর ভোরের সেই চাদর বিছানো কুয়াশা? শীতের সরিষা মাঠের চোখ ধাঁধানো হলুদ রঙ? নাকি কার্তিকের মেলায় গোমিরার মুখোশের সেই চেনা ভয়-মেশানো আনন্দ? যতদূরেই থাকুন না কেন, কুশমণ্ডি নামটার মধ্যেই কেমন যেন একটা নাড়ির টান লুকিয়ে আছে।

আমি নিজে যখন কুশমণ্ডির এই মেঠো সংস্কৃতির খোঁজখবর নেওয়া শুরু করি, তখন বুঝতে পেরেছিলাম গুগলের দুনিয়ায় এই জনপদ কতটা উপেক্ষিত। প্রায় দুই লক্ষ মানুষের এই সংসারে কেউ হয়তো চেনা কৃষক, কেউ মৎস্যজীবী, কেউ বা কাঠ-খোদাইয়ের শিল্পী। হিন্দু-মুসলমান পাশাপাশি বাস করেন পরম শান্তিতে — এই গভীর সম্প্রীতিই কুশমণ্ডির আসল সম্পদ। শহরের কৃত্রিম কোলাহল এখানে পাবেন না, পাবেন শুধু মাটির কাছের ২২৮টি গ্রামের আদিম উষ্ণতা।

সংখ্যায় কুশমণ্ডি: এক নজরে ভেতরের কিছু তথ্য

তথ্যকে শুষ্ক তালিকা হিসেবে না দেখে, চলুন আমাদের এই চেনা অঞ্চলের কিছু গাণিতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া যাক।

  • মোট আয়তন: ৩১০.৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এর বিস্তার, যেখানে কোনো বড় শহরের কোলাহল নেই — এটি সম্পূর্ণ গ্রামীণ সংস্কৃতির চাদরে ঢাকা।

  • জনসংখ্যা: ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী প্রায় ১,৯৮,৭৫২ জনের বাস। প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৬৪০ জন মানুষ একে অপরকে চিনে বড় হচ্ছেন।

  • গ্রামের সংখ্যা: মাটির গন্ধমাখা ২২৮টি বাসযোগ্য গ্রাম ছড়িয়ে আছে ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।

  • ধর্ম ও জাতি: এই অঞ্চলের ৬০.৩২% সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং ৩৮.৮৬% মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এক অদ্ভুত সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। এছাড়াও ৪৪.৮% তপশিলি জাতি ও ৭.৯% তপশিলি উপজাতির মানুষ এই সংস্কৃতির মূল ভিত্তি।

ভৌগোলিক মানচিত্রে কুশমণ্ডির অবস্থান

ভৌগোলিক অবস্থানটি একটু খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর মহকুমার অন্তর্গত। ১৯৯২ সালের ১ এপ্রিল অবিভক্ত পশ্চিম দিনাজপুর ভেঙে যখন নতুন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৈরি হয়, তখন থেকেই কুশমণ্ডির এই নতুন প্রশাসনিক পথচলা।

এই অঞ্চলের একপাশে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ সীমান্ত। প্রায় ২৫২ কিলোমিটারের এই আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায়, দুই বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি আর জীবনযাত্রার এক চমৎকার মেলবন্ধন এখানে দেখতে পাওয়া যায়।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩৭ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত বারিন্দ ট্র্যাক্ট বা বরেন্দ্র অঞ্চলের সামান্য ঢেউখেলানো সমতল ভূমি এটি। এখানকার সুপিয়াবী মাটিতে কৃষিই মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। আর যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা বললে, স্টেট হাইওয়ে ১০-এ কুশমণ্ডির বুক চিরেই চলে গেছে। কালিয়াগঞ্জ থেকে বুনিয়াদপুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত নতুন রেললাইনের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের রূপ অনেকটাই বদলে যাবে।

কুশমণ্ডির ৫টি অজানা রত্ন: যা আমাদের গর্বিত করে

কুশমণ্ডির আসল সম্পদ লুকিয়ে আছে তার সংস্কৃতি আর প্রাচীন ঐতিহ্যের মাঝে। এমন পাঁচটি রত্নের কথা নিচে তুলে ধরা হলো, যা প্রতিটি কুশমণ্ডিবাসীর বুক গর্বে ভরিয়ে দেবে।

১. বিশ্ববিখ্যাত গোমিরা মুখোশ

কুশমণ্ডি ব্লক হলো এই অনন্য কাঠের মুখোশ শিল্পের মূল প্রাণকেন্দ্র। স্থানীয় গামার কাঠ নিখুঁতভাবে খোদাই করে তৈরি হয় এই মুখোশ। গ্রামচণ্ডীর পুজোয় অশুভ শক্তি দূর করার উদ্দেশ্যে এই মুখোশ পরে যে আদিম নৃত্য পরিবেশিত হয়, তা আজ বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত। আমাদের মহিষবাথানের শিল্পীদের কাজ এখন পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশনের অন্যতম বড় স্বীকৃতি।

২. হাজার বছরের প্রাচীন মহীপাল দিঘি

কুশমণ্ডি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই বিশাল জলাশয়টি কোনো সাধারণ দিঘি নয়। পাল সম্রাট প্রথম মহীপাল (৯৮৮–১০৩৮ খ্রিস্টাব্দ) নিজের রাজত্বকালে এটি খনন করিয়েছিলেন। হাজার বছর পার করেও এই দিঘি আজ এই অঞ্চলের কৃষি, মৎস্যচাষ ও শীতকালীন পর্যটনের অন্যতম বড় কেন্দ্র।

৩. বৈরহাট্টার ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ

কুশমণ্ডি থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণে বৈরহাট্টায় রয়েছে মহাভারত খ্যাত বিরাট রাজার প্রাসাদের ধ্বংসস্তূপ। লোকশ্রুতি রয়েছে, পাণ্ডবরা তাদের অজ্ঞাতবাসের দিনগুলোয় ছদ্মবেশে এখানেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভাবা যায়, মহাভারতের সেই প্রাচীন যুগের সাথে আমাদের এই চেনা মাটির সরাসরি সংযোগ রয়েছে!

৪. মহাভারতের সেই নদী — তাঁগন

কুশমণ্ডির জীবনরেখা বলা চলে এই তাঁগন নদীকে। নদীটির প্রাচীন নাম ছিল অত্রেয়ী, যার উল্লেখ প্রাচীন মহাভারতের পাতাতেও স্পষ্ট পাওয়া যায়। শিলিগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর অরণ্য থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ঘুরে এসে আবার কুশমণ্ডির বুক চিরে বয়ে গেছে এই নদী।

৫. মাটির গান — খান গান

পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত লোকসংগীত 'খান গান'-এর শিল্পীদের সবচেয়ে বড় জমায়েত এই কুশমণ্ডি ও বাঁশিহারি ব্লকেই। সাধারণত মাঠের ফসল কাটার পর কার্তিক পূজাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জীবন ও সমাজকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ফুটিয়ে তুলতে এই গান গাওয়া হয়।

কুশমণ্ডির মাটির বয়স: এক নজরে এর ইতিহাস

আমাদের এই মাটির বয়স কিন্তু এক বা দুই শতাব্দী নয় — হাজার বছরের প্রাচীন। নিচের ছোট্ট টাইমলাইনের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে কুশমণ্ডি কত চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী।

  • প্রাচীন যুগ: পুন্ড্রবর্ধন জনপদের অংশ (খ্রিস্টপূর্ব ১০০০)। চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি এখানে বৌদ্ধ বিহার গড়ে উঠেছিল, যার প্রাচীন নিদর্শন ২০২৪ সালেও ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI) কুশমণ্ডির মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করেছে।

  • মধ্যযুগ: অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত পাল রাজাদের রাজত্ব। এরপর ১২০১ সালে মুসলিম শাসন এবং পরবর্তীতে মুঘলদের অধীনে আসে এই অঞ্চল। ১৭৮৬ সালে এটি ব্রিটিশদের অধীনে থাকা বিশাল দিনাজপুরের অন্তর্ভুক্ত হয়।

  • আধুনিক যুগ: ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তৈরি হয় পশ্চিম দিনাজপুর। সবশেষে ১৯৯২ সালের ১ এপ্রিল জন্ম নেয় আমাদের আজকের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা।

প্রবাসীদের জন্য কুশমণ্ডির এই ব্লগ কেন?

আমার এক বন্ধু যে কর্মসূত্রে এখন ব্যাঙ্গালোরে থাকে, সে কিছুদিন আগে আমায় বলেছিল, "জানিস, ইন্টারনেটে কুশমণ্ডি নিয়ে সার্চ করলে গোমিরা মুখোশ ছাড়া আর কোনো তথ্যই পাওয়া যায় না।" সেই আক্ষেপ থেকেই এই উদ্যোগের শুরু।

আমরা আগামী ৬০ দিনে কুশমণ্ডির ৬০টি একদম খাঁটি গল্প বলব। এর ইতিহাস, সংস্কৃতি, মেঠো পথ, নদী, সাধারণ মানুষ আর তাদের সুখ-দুঃখের কথা উঠে আসবে এই পাতায়। কিছু গল্প হয়তো আপনার খুব চেনা, আবার কিছু তথ্য জানলে আপনি নিজেই চমকে উঠবেন। কুশমণ্ডি হয়তো বাইরের পৃথিবীর কাছে এক অজানা রত্ন, কিন্তু যারা এই মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে বড় হয়েছেন, তারা জানেন এর মূল্য কোনো সোনার চেয়ে কম নয়।

FAQ — কুশমণ্ডি সম্পর্কিত কিছু সাধারণ প্রশ্ন

১. কুশমণ্ডির সবচেয়ে বিখ্যাত লোকশিল্প কোনটি?

কুশমণ্ডির সবচেয়ে বিখ্যাত লোকশিল্প হলো কাঠের 'গোমিরা মুখোশ'। গামার কাঠ দিয়ে তৈরি এই মুখোশ পরে গ্রামীণ উৎসবের সময় এক ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করা হয়, যা আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতি পেয়েছে।

২. কুশমণ্ডি থেকে মহীপাল দিঘির দূরত্ব কত এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?

কুশমণ্ডি ব্লক থেকে মহীপাল দিঘির দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এটি পাল বংশের রাজা প্রথম মহীপাল খনন করেছিলেন, যা প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন।

৩. বৈরহাট্টা জায়গাটির সাথে মহাভারতের কী সম্পর্ক রয়েছে?

কুশমণ্ডির কাছে অবস্থিত বৈরহাট্টাকে মহাভারতের 'বিরাট রাজ্য' বলে মনে করা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, পাণ্ডবরা তাদের অজ্ঞাতবাসের সময় এখানকার রাজা বিরাটের প্রাসাদে ছদ্মবেশে দিন কাটিয়েছিলেন।

কুশমণ্ডি মানে আপনার কাছে ঠিক কী? শৈশবের কোনো মেলা, নাকি তাঁগন নদীর শান্ত জল? একটি শব্দে কমেন্ট করে আমাদের জানান! যদি মনে হয় আমাদের এই নিজের অঞ্চলের গল্পটা প্রতিটি মানুষের জানা উচিত, তবে পোস্টটি একটু শেয়ার করে সবার কাছে পৌঁছে দিন।

কুশমণ্ডি নামের রহস্য: এই নামকরণের ৩টি অজানা লোকগাথা |  Kushmandi Histiory

কুশমণ্ডি নামের রহস্য: এই নামকরণের ৩টি অজানা লোকগাথা | Kushmandi

কুশমণ্ডি নামের পিছনে কোন গল্প লুকিয়ে আছে? কুশ ঘাস, মণ্ডপ নাকি মা কুষ্মাণ্ডার প্রাচীন মহিমা—জানুন দক্ষিণ দিনাজপুরের এই ব্লকের নামকরণের ইতিহাস।

কুশমণ্ডি নামের ইতিহাস, কুশমণ্ডি নামকরণের গল্প, দক্ষিণ দিনাজপুর কুশমণ্ডি, মা কুষ্মাণ্ডা দেবী, কুশ ঘাসের মহিমা, কুশমণ্ডি ব্লকের প্রাচীন ইতিহাস

কুশমণ্ডি নামের রহস্য

কুশমণ্ডি নামের পিছনে কোন গল্প লুকিয়ে আছে? নামকরণের অজানা ইতিহাস

আমাদের চারপাশের চেনা জায়গাগুলোর নামের পেছনে কত যে অদ্ভুত সব গল্প লুকিয়ে থাকে, তা আমরা অনেকেই খেয়াল করি না। এই যেমন দক্ষিণ দিনাজপুরের একটা ছোট্ট অথচ ভীষণ সুন্দর ব্লক—কুশমণ্ডি। এই নামটা শুনলেই কেমন যেন একটা প্রাচীন, গম্ভীর একটা অনুভূতি হয়।

কখনও কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই "কুশমণ্ডি" শব্দটা আসলে এলো কোত্থেকে? এর পেছনে কি কোনো রাজকাহিনী আছে, নাকি স্রেফ সাধারণ মানুষের মুখের কথা থেকে এই নামের জন্ম?

আমি নিজে যখন প্রথম এই অঞ্চলের লোকসংস্কৃতি নিয়ে একটু পড়াশোনা শুরু করি, তখন ভেবেছিলাম হয়তো খুব সাধারণ কোনো কারণ হবে। কিন্তু না, একটু গভীরে যেতেই এমন কিছু দারুণ লোকগাথা আর তথ্য সামনে এলো, যা সত্যি অবাক করার মতো। চলুন, আজ চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কুশমণ্ডি নামের সেই হারিয়ে যাওয়া রহস্যের গল্পগুলো জেনে নেওয়া যাক।

কুশ ঘাস আর মণ্ডপের সেই অদ্ভুত মেলবন্ধন

সবচেয়ে প্রচলিত এবং লোকমুখে সবচেয়ে বেশি কাটতি পাওয়া গল্পটা জড়িয়ে আছে এ অঞ্চলের প্রকৃতির সাথে। একসময় এই বিস্তীর্ণ এলাকায় নাকি প্রচুর পরিমাণে কুশ ঘাস জন্মাত। সনাতন ধর্মে বিভিন্ন পূজাপার্বণ আর ধর্মীয় কাজে এই কুশ ঘাসের ব্যবহার কিন্তু অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়।

এখন প্রশ্ন হলো, ঘাস তো বুঝলাম, কিন্তু "মণ্ডি" বা "মণ্ডপ" শব্দটা কোথা থেকে এলো?

  • কুশ সংগ্রহের কেন্দ্র: দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসতেন যজ্ঞ বা ধর্মীয় কাজের জন্য পবিত্র কুশ ঘাস সংগ্রহ করতে।

  • মণ্ডপের ধারণা: যেখানে এই ঘাস স্তূপ করে রাখা হতো বা যেখানে বসে এটি দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা হতো, স্থানীয়রা তাকে বলতেন 'মণ্ডপ' বা 'মণ্ডি'।

  • নামের বিবর্তন: এই 'কুশ' আর 'মণ্ডি' শব্দ দুটি কালক্রমে মানুষের মুখে মুখে একসাথে জুড়ে গিয়ে তৈরি হয় আজকের এই মিষ্টি নাম—কুশমণ্ডি।

আমার এক বন্ধু, যে কুশমণ্ডিরই আদি বাসিন্দা, সে একবার আড্ডার ছলে বলেছিল যে তাদের পুরোনো দলিলের কিছু জায়গায় নাকি এই অঞ্চলের নাম 'কুশমণ্ডপ' হিসেবেও উল্লেখ ছিল। ভাবা যায়, কীভাবে একটা সাধারণ ঘাস একটা পুরো অঞ্চলের পরিচয় হয়ে গেল!

মা কুষ্মাণ্ডার প্রাচীন মহিমা ও দেবীত্ব

আরেকটি দল অবশ্য এই নামকরণের পেছনে সম্পূর্ণ ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। তাদের মতে, এই নামের সাথে জড়িয়ে আছেন দেবী দুর্গার চতুর্থ রূপ—মা কুষ্মাণ্ডা।

এই জনশ্রুতি অনুসারে, প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে মা কুষ্মাণ্ডার একটি অত্যন্ত জাগ্রত মন্দির বা উপাসনা স্থল ছিল।

কুষ্মাণ্ডা থেকে কুশমণ্ডি

সংস্কৃত 'কুষ্মাণ্ডা' শব্দটির অপভ্রংশ বা সহজ রূপান্তরই হলো আজকের কুশমণ্ডি। আদিবাসীরা বা স্থানীয় লোকায়ত সমাজের মানুষ জটিল সংস্কৃত উচ্চারণ সহজ করতে করতে এটিকে কুশমণ্ডি বানিয়ে ফেলেছেন।

আজও এই অঞ্চলের বাতাসে যেন এক ধরণের প্রাচীন আধ্যাত্মিকতার গন্ধ পাওয়া যায়। হয়তো সত্যিই কোনো এক যুগে এই অরণ্যঘেরা অঞ্চলে দেবীর আরাধনা হতো, যার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছে এই নাম।

হাট-বাজার আর 'মণ্ডি'র বাণিজ্যিক ইতিহাস

একটু অন্যভাবে ভাবলে, উত্তরবঙ্গের একটা বড় অংশের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে হাট এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র বা 'মণ্ডি'। প্রাচীনকাল থেকেই যেখানে বড় বাজার বা শস্যের গুদাম থাকত, তাকে মণ্ডি বলা হতো।

কুশমণ্ডি অঞ্চলটিও এককালে পাট, ধান এবং স্থানীয় কাঠের ব্যবসার জন্য বেশ নামডাক ওয়ালা জায়গা ছিল।

  • আঞ্চলিক বাণিজ্য: আশেপাশের গ্রাম থেকে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে এই নির্দিষ্ট মণ্ডিতে জড়ো হতেন।

  • ভৌগোলিক অবস্থান: পুনর্ভবা আর টাঙ্গন নদীর কাছাকাছি হওয়ায় জলপথে ব্যবসার একটা বড় সুবিধা ছিল এই অঞ্চলের।

  • জনবসতি গড়ে ওঠা: ব্যবসার খাতিরে মানুষ যখন স্থায়ীভাবে বাস করতে শুরু করল, তখন এই 'মণ্ডি' শব্দটাই স্থায়ী রূপ নিল।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, কুশমণ্ডির বিখ্যাত গোমিরা মুখোশ তৈরি শিল্পও কিন্তু এই প্রাচীন হাট বা মণ্ডিগুলোকেই কেন্দ্র করে একসময় বিকশিত হয়েছিল। শিল্প আর বাণিজ্য যেখানে হাত মিলিয়েছিল, তার নামই কুশমণ্ডি।

ইতিহাসের ধুলোবালি ও আমাদের দায়িত্ব

আসলে ইতিহাসের কোনো একটা নির্দিষ্ট সূত্র ধরে নিশ্চিত করে বলা মুড়ো কাটা মুশকিল যে ঠিক কোন গল্পটা একশো ভাগ সত্যি। হতে পারে তিনটি কারণই কোনো না কোনোভাবে একে অপরের সাথে জড়িয়ে আছে।

প্রকৃতির কুশ ঘাস, দেবীর কুষ্মাণ্ডা রূপ আর ব্যবসার মণ্ডি—সবকিছু মিলেই তো তৈরি হয়েছে আমাদের এই প্রিয় কুশমণ্ডির সংস্কৃতি।

আমরা যারা আজকের প্রজন্মের মানুষ, আমাদের উচিত এই ছোট ছোট লোকগাথাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা। কারণ একটা জায়গার নাম শুধু একটা ঠিকানা নয়, এর সাথে জড়িয়ে থাকে হাজার বছরের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই আর ঐতিহ্য। এই গল্পগুলো হারালে কিন্তু আমাদের শিকড়টাই আলগা হয়ে যাবে।

FAQ — কুশমণ্ডির নাম ও ইতিহাস নিয়ে কিছু জরুরি প্রশ্ন

১. কুশমণ্ডি নামের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উৎস কোনটি?

সবচেয়ে জনপ্রিয় মতানুযায়ী, এই অঞ্চলে প্রচুর 'কুশ' ঘাস পাওয়া যেত এবং তা বিক্রির বা সংগ্রহের 'মণ্ডি' (বাজার) ছিল বলেই এর নাম কুশমণ্ডি হয়েছে। তবে মা কুষ্মাণ্ডার নাম থেকে উৎপত্তির তত্ত্বটিও অনেকেই বিশ্বাস করেন।

২. কুশমণ্ডি কোন জেলায় অবস্থিত এবং এর বিশেষত্ব কী?

কুশমণ্ডি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক। এই জায়গাটি তার বিশ্ববিখ্যাত কাঠের তৈরি 'গোমিরা মুখোশ' শিল্পের জন্য সারাবিশ্বে অত্যন্ত পরিচিত।

৩. 'মণ্ডি' শব্দের অর্থ কী?

সাধারণত বাংলা ও হিন্দি ভাষায় 'মণ্ডি' বলতে বড় বাজার, পাইকারি হাট বা বাণিজ্য কেন্দ্রকে বোঝানো হয়। কুশমণ্ডির ক্ষেত্রেও এটি একটি প্রাচীন বাণিজ্যিক কেন্দ্রের ইঙ্গিত দেয়।

৪. কুশমণ্ডি নামের পেছনে কোনো নদীর ভূমিকা আছে কি?

সরাসরি নামের পেছনে ভূমিকা না থাকলেও, এই অঞ্চলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া টাঙ্গন ও পুনর্ভবা নদী প্রাচীনকালে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটিয়ে একে একটি বড় 'মণ্ডি' বা কেন্দ্রে পরিণত করতে সাহায্য করেছিল।

কুশমণ্ডি নামকরণের এই অজানা ইতিহাস কি আপনাকেও ভাবিয়ে তুলেছে? আপনার এলাকায় বা চেনা কোনো জায়গার নামের পেছনে এমন কোনো মজার গল্প থাকলে নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান! আর লেখাটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে একদম ভুলবেন না।

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি পুলিশ স্টেশন: সুরক্ষার এক আলোকবর্তিকা | Kushmandi Police Station Histiory

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি পুলিশ স্টেশন: সুরক্ষার এক আলোকবর্তিকা | Kushmandi Police Station

 দক্ষিণ দিনাজপুরের সবুজ আর শান্ত পরিবেশে অবস্থিত কুশমণ্ডি, তার নিজস্ব ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর এই কুশমণ্ডির শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো কুশমণ্ডি পুলিশ স্টেশন। কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে নয়, এই স্টেশনটি এলাকার মানুষের কাছে ভরসা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।



একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল

যখনই কোনো সমস্যা বা বিপদের সম্মুখীন হন, কুশমণ্ডি পুলিশ স্টেশন তার দরজা খোলা রাখে সকলের জন্য। এখানকার পুলিশ কর্মীরা শুধুমাত্র অপরাধ দমনে নয়, এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যা সমাধানেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। চুরি, ডাকাতি, পারিবারিক বিবাদ বা অন্য কোনো আইনি জটিলতা – যে কোনো পরিস্থিতিতেই আপনি তাদের সাহায্য চাইতে পারেন। তাদের দ্রুত এবং পেশাদারী পদক্ষেপ স্থানীয়দের মনে এনে দেয় এক বিশেষ নিরাপত্তা বোধ।

মানুষের বন্ধু পুলিশ

"পুলিশ জনগণের বন্ধু" - এই স্লোগানটি কুশমণ্ডি পুলিশ স্টেশনে এসে যেন আরও বেশি বাস্তব মনে হয়। এখানকার পুলিশ কর্মীরা শুধু উর্দিধারী কঠিন মানুষ নন, তারা এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নেন। বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান, যেমন ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নারী সুরক্ষা, বা সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধের মতো বিষয়ে তারা নিয়মিত কাজ করেন। স্থানীয় স্কুল-কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপচারিতা করেন এবং তাদের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করেন।

প্রযুক্তি ও আধুনিকতার ছোঁয়া

আধুনিক সময়ে অপরাধের ধরন পাল্টাচ্ছে, আর তার সাথে তাল মিলিয়ে কুশমণ্ডি পুলিশ স্টেশনও নিজেদের উন্নত করছে। প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে তারা এখন আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে অপরাধীদের শনাক্ত করতে ও ধরতে সক্ষম। সিসিটিভি নজরদারি, অনলাইন অভিযোগ দায়েরের সুবিধা এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা তাদের কাজকে আরও সহজ ও গতিময় করেছে।

এক নজরে কুশমণ্ডি পুলিশ স্টেশন:

  • অবস্থান: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি

  • ভূমিকা: আইন প্রয়োগ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি

  • বৈশিষ্ট্য: দ্রুত পদক্ষেপ, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রযুক্তি নির্ভরতা

আপনি যদি কুশমণ্ডি বা তার আশেপাশে বসবাস করেন, তাহলে জেনে রাখুন যে আপনার সুরক্ষার জন্য কুশমণ্ডি পুলিশ স্টেশন সর্বদা সজাগ এবং প্রস্তুত। যেকোনো প্রয়োজনে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে দ্বিধা করবেন না। আপনার নিরাপত্তা আপনার অধিকার, আর কুশমণ্ডি পুলিশ স্টেশন সেই অধিকার রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

জামবাড়ী দুর্গা পূজা: কুশমণ্ডির অন্যতম জনপ্রিয় শারদ উৎসব | Jambari Durga Puja Festivals

জামবাড়ী দুর্গা পূজা: কুশমণ্ডির অন্যতম জনপ্রিয় শারদ উৎসব | Jambari Durga Puja

জামবাড়ী নেতাজী ক্লাব পরিচালিত জামবাড়ী দুর্গা পূজা সম্পর্কে জানুন। কুশমণ্ডির জামবাড়ী (ঘটসা) বাস স্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত এই পূজার অবস্থান, বিশেষ আকর্ষণ, যাতায়াত ও দর্শনার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
জামবাড়ী দুর্গা পূজা কুশমণ্ডির অন্যতম জনপ্রিয় শারদ উৎসব

উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর সংলগ্ন কুশমণ্ডি এলাকার মানুষের কাছে দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আবেগ, ঐতিহ্য এবং মিলনমেলার এক অনন্য সময়। সেই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হলো “জামবাড়ী দুর্গা পূজা”, যা প্রতি বছর জামবাড়ী নেতাজী ক্লাবের উদ্যোগে অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে আয়োজন করা হয়।

গ্রামবাংলার সহজ-সরল পরিবেশ, স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা এবং পূজার ঐতিহ্য— সব মিলিয়ে জামবাড়ী দুর্গা পূজা আজ কুশমণ্ডির অন্যতম পরিচিত দুর্গোৎসবে পরিণত হয়েছে।

কোথায় অবস্থিত জামবাড়ী দুর্গা পূজা?

জামবাড়ী দুর্গা পূজার মূল মণ্ডপটি অবস্থিত জামবাড়ী (ঘটসা) বাস স্ট্যান্ডের একেবারে পাশে। জামবাড়ী গ্রামটি রায়গঞ্জ–বুনিয়াদপুর রোড (SH 10A)-এর ধারে অবস্থিত হওয়ায় এখানে পৌঁছানো খুবই সহজ।

সঠিক অবস্থান:

  • স্থান: জামবাড়ী গ্রাম
  • নিকটবর্তী বাস স্ট্যান্ড: জামবাড়ী (ঘটসা) বাস স্ট্যান্ড
  • রাস্তা: রায়গঞ্জ–বুনিয়াদপুর রোড (SH 10A)
  • পরিচালনায়: জামবাড়ী নেতাজী ক্লাব

আশেপাশের পরিচিত স্থান

জামবাড়ী দুর্গা পূজার মণ্ডপ খুঁজে পেতে বিশেষ কোনো অসুবিধা হয় না, কারণ এটি এলাকার কয়েকটি পরিচিত স্থানের খুব কাছেই অবস্থিত। যেমন:

  • জামবাড়ী কিষাণ মান্ডির কাছে
  • স্থানীয় জুনিয়র হাই স্কুলের পাশে
  • হ্যালো কুশমণ্ডি App-এর অফিসের নিকটে
  • জামবাড়ী (ঘটসা) বাস স্ট্যান্ড থেকে হাঁটা পথ

এই কারণেই আশেপাশের গ্রাম ও শহর থেকে বহু মানুষ সহজেই পূজা দেখতে এখানে আসেন।

জামবাড়ী নেতাজী ক্লাবের ভূমিকা

জামবাড়ী দুর্গা পূজার আয়োজনের মূল দায়িত্বে রয়েছে “জামবাড়ী নেতাজী ক্লাব”। বহু বছর ধরে এই ক্লাব স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পূজার আয়োজন করে আসছে। শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও ক্লাবটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

দুর্গাপূজার সময় ক্লাবের সদস্যরা মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা, ভক্তদের বসার ব্যবস্থা, প্রসাদ বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নিরাপত্তার মতো নানা দায়িত্ব পালন করেন।

জামবাড়ী দুর্গা পূজার বিশেষ আকর্ষণ

প্রতি বছর জামবাড়ী দুর্গা পূজায় এমন কিছু বিশেষ আয়োজন থাকে, যা স্থানীয় মানুষ এবং দর্শনার্থীদের কাছে এই পূজাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

১. মনোরম প্রতিমা ও মণ্ডপ

প্রতিমা তৈরিতে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার সুন্দর মেলবন্ধন দেখা যায়। মণ্ডপে থাকে আলাদা সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং শিল্পের ছোঁয়া। সন্ধ্যার পর মণ্ডপের পরিবেশ আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে।

২. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

দুর্গাপূজার চারদিন ধরে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে গান, নাচ, আবৃত্তি, নাটক এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ছোটদের জন্যও থাকে বিশেষ অনুষ্ঠান।

৩. ভোগ ও প্রসাদ বিতরণ

অষ্টমী ও নবমীর দিন বহু ভক্তদের মধ্যে ভোগ ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। স্থানীয় মানুষজন নিজেরাই এই আয়োজনের অংশ হন।

৪. গ্রামের মিলনমেলা

জামবাড়ী দুর্গা পূজা শুধুমাত্র একটি পূজা নয়, এটি পুরো এলাকার মানুষের একত্র হওয়ার উপলক্ষ। বহু মানুষ কর্মসূত্রে বাইরে থাকলেও পূজার সময় নিজের গ্রামে ফিরে আসেন।

কীভাবে পৌঁছাবেন?

জামবাড়ী দুর্গা পূজায় পৌঁছানো খুবই সহজ।

রায়গঞ্জ থেকে:

রায়গঞ্জ থেকে বুনিয়াদপুরগামী বাস বা ছোট গাড়িতে SH 10A ধরে জামবাড়ী (ঘটসা) বাস স্ট্যান্ডে নামলেই মণ্ডপ দেখা যাবে।

বুনিয়াদপুর থেকে:

বুনিয়াদপুর থেকেও একই রাস্তায় খুব সহজে জামবাড়ী পৌঁছানো যায়। বাস স্ট্যান্ডের একেবারে কাছেই পূজার স্থান।

স্থানীয় যাতায়াত:

অটো, টোটো, মোটরভ্যান বা ব্যক্তিগত গাড়িতে সহজেই এখানে আসা যায়।

কেন একবার অন্তত জামবাড়ী দুর্গা পূজা দেখতে যাবেন?

যদি আপনি কুশমণ্ডি বা আশেপাশের এলাকায় থাকেন, তাহলে জামবাড়ী দুর্গা পূজা অবশ্যই একবার দেখে আসা উচিত। কারণ:

  • এটি কুশমণ্ডির অন্যতম পরিচিত দুর্গাপূজা
  • গ্রামীণ পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী পূজার স্বাদ পাওয়া যায়
  • সহজে যাতায়াত করা যায়
  • পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ জায়গা
  • স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানুষের আন্তরিকতা অনুভব করা যায়

উপসংহার

জামবাড়ী দুর্গা পূজা কুশমণ্ডির মানুষের কাছে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ঐক্য, সংস্কৃতি ও আনন্দের প্রতীক। জামবাড়ী নেতাজী ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই পূজা প্রতি বছর আরও বড় ও সুন্দর হয়ে উঠছে।

আপনি যদি এই শারদীয়ায় কুশমণ্ডি এলাকায় থাকেন, তাহলে অবশ্যই জামবাড়ী (ঘটসা) বাস স্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত জামবাড়ী দুর্গা পূজা দেখতে যেতে ভুলবেন না।

📲 কুশমণ্ডি ও আশেপাশের সমস্ত দুর্গাপূজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জামবাড়ী দুর্গা পূজার প্রতিদিনের আপডেট সবার আগে পেতে আজই Google Play Store থেকে Download করুন “Hallo Kushmandi” App।

জামবাড়ী থেকে কুশমণ্ডির বিভিন্ন প্রান্তের পূজার খবর, ছবি, ভিডিও ও বিশেষ আয়োজন— সব কিছু একসাথে, একদম আপনার হাতের মুঠোয়।

শিব রাত্রি ব্রতকথা - শিবরাত্রি ব্রত ইতিহাস ও পূজার মন্ত্র - Shivaratri Brata Katha Festivals

শিব রাত্রি ব্রতকথা - শিবরাত্রি ব্রত ইতিহাস ও পূজার মন্ত্র - Shivaratri Brata Katha


ব্রতের নিয়মঃ
শিবরাত্রির আগের দিন হবিষ্যান্ন বা নিরাময় আহার করতে হয়। রাতে বিছানায় না শুয়ে  খড় বা কম্বলে শুতে হয়। ব্রতের দিন উপবাসী থেকে গঙ্গামাটি দিয়ে চারটি শিব গড়ে চার প্রহরে একটি করে শিবের পুজা করতে হয়।  প্রতিষ্ঠিত শিব থাকলে তাতেই পুজা করতে হয় চার প্রহরে চার বার। প্রথম প্রহরে দুগ্ধ দ্বারা, দ্বিতীয় প্রহরে দধি দিয়ে, তৃতীয় প্রহরে ঘৃত দিয়ে ও চতুর্থ প্রহরে মধু দিয়ে স্নান করাতে হয়। সেদিন সারারাত্রি জাগরণ করে পরদিন ব্রতকথা শুনে, ব্রাহ্মণ ভোজন করিয়ে ও সাধ্যমত দক্ষিণা দান করে পারণ করতে হয়।
ব্রতের উপকরণঃ 
গঙ্গা মাটি , বিল্মপত্র , গঙ্গা জল, ফুল, দুগ্ধ, ঘৃত, দধি, মধু ও কলা।

ব্রতের ফলঃ- 
যজ্ঞের মধ্যে যেমন অশ্বমেধ যজ্ঞ , তীর্থের মধ্যে যেমন যেমন গঙ্গা , তেমনি ব্রতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্রত হল শিব চতুর্দশী ব্রত। শিব চতুর্দশী ব্রত পালন করলে ধর্ম, অর্থ , কাম , মোক্ষ চতুর্বিধ ফল লাভ হয়ে থাকে। এই ব্রত পালণের মন্ত্র-
সংসার ক্লেশদগ্ধস্য  ব্রতেনানেন শঙ্কর। প্রসীদ, সুমুখো নাথ জ্ঞানদৃষ্টিপ্রদ ভব।।

মহাশিবরাত্রি ব্রতকথা

শিবমহাপুরাণ অনুসারে, বহুকাল আগে বারাণসী তথা কাশীধামে এক নিষ্ঠুর ব্যাধ বাস করত। সে দিনরাত শুধু  জীবহত্যা করে বেড়াত। একদিন ব্যাধ শিকার করতে গিয়ে , অনেক পশু পাখি শিকার করে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই বাড়ির দিকে রওনা হল। কিছুদূর আসতেই রাত্রি হয়ে গেল। ফলে সে জঙ্গলে পথ হারিয়ে রাতে হীংস্র জন্তুর ভয়ে এক গাছের উপর আশ্রয় নেয় ।

ব্যাধ যে গাছে আশ্রয় নিয়েছিল, সেই গাছটি ছিল বেলগাছ। আর সেই গাছের নিচে ছিল শিবলিঙ্গ । ব্যাধ গাছে নড়ে-চড়ে বসার সময় শিশির জলে ভেজা একটি একটি বেলপাতা খসে পড়লো ঐ শিবলিঙ্গের মাথার উপর। সেদিন ছিল শিবচতুর্দশী অর্থাৎ মহাশিবরাত্রি। আর ব্যাধও ছিল উপবাসী। তার ফেলা বেলপাতাগুলো শিবলিঙ্গের মাথায় পড়ে এর ফলে তার শিবচতুর্দশী ব্রতের ফল লাভ হয় তার অজান্তেই। পরদিন ব্যাধ সকালে বাড়ি ফিরে এলো। সবাই তো তার জন্য ভাবছিল। ব্যাধ ফিরে আসতে তাকে তার বৌ খেতে দিল। এমন সময় একজন অতিথি বাড়িতে এলো। ব্যাধ কি ভেবে তার নিজের খাবারগুলি অতিথিকে দিল । এতে তার ব্রতের পারণ ফল লাভ হলো।

এর কিছুদিন পরে সেই ব্যাধ মারা গেলে।  যমদূতরা তাকে নিতে আসে, এমন সময় সেখানে এলো শিবের দুতেরা। দুই দলে যুদ্ধ বেধে গেল, যম দুতেরা যুদ্ধে হেরে গেল। শিবদূতরা ব্যাধকে কৈলাসে নিয়ে এলো। যমদূতেরাও তার পিছনে পিছনে ধাওয়া করলো।
কৈলাসের দ্বারে নন্দী পাহারায় ছিল, সে ব্যাধের শিব রাত্রির কথা বললো, তাই শুনে যমদূতেরা গিয়ে যমকে সব কথা বললে। যমরাজ শুনে বললেন - হ্যাঁ, যে শিব বা বিষ্ণুর ভক্ত কিংবা যে  শিবচতুর্দশী ব্রত পালন করে আর যে বারানসী ধামে মরে, তার উপর যমের কোনো অধিকার থাকেনা। সে মুক্তিলাভ করে। এইভাবে মর্ত্যলোকে শিবচতুর্দশী ব্রতের প্রচার ঘটে।

(সাধারণ শিবলিঙ্গে দশোপচার পূজার মন্ত্র)
ওঁ নমো শিবায় এতৎ পাদ্যং শিবায় নমঃ। (সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন)
ওঁ নমো শিবায় এষঃ অর্ঘ্যঃ শিবায় নমঃ। (আতপচাল ও দূর্বা একটি সচন্দন বেলপাতায় করে ফুল সহ দিন)
ওঁ নমো শিবায় ইদমাচমনীয়ং শিবায় নমঃ। (সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন)
ওঁ নমো শিবায় ইদং স্নানীয়ং শিবায় নমঃ। (সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন)
ওঁ নমো শিবায় এষ গন্ধঃ শিবায় নমঃ। (চন্দনের ফোঁটা দিন)
ওঁ নমো শিবায় ইদং সচন্দনপুষ্পং শিবায় নমঃ। (একটি চন্দনমাখানো ফুল দিন)
ওঁ নমো শিবায় ইদং সচন্দনবিল্বপত্রং শিবায় নমঃ। (একটি চন্দনমাখানো বেলপাতা দিন)
ওঁ নমো শিবায় এষ ধূপঃ শিবায় নমঃ। (ধূপটি শিবের সামনে তিনবার ঘুরিয়ে দেবতার বাঁদিকে, অর্থাৎ নিজের ডানদিকে রাখুন)
ওঁ নমো শিবায় এষ দীপঃ শিবায় নমঃ। (প্রদীপটি শিবের সামনে তিনবার ঘুরিয়ে দেবতার ডানদিকে, অর্থাৎ নিজের বাঁদিকে রাখুন)
ওঁ নমো শিবায় ইদং সোপকরণনৈবেদ্যং শিবায় নিবেদয়ামি।
(নৈবেদ্যের উপর অল্প সামান্যার্ঘ্য জল ছিটিয়ে দিন)
ওঁ নমো শিবায় ইদং পানার্থোদকং শিবায় নমঃ।
(পানীয় জলের উপর অল্প সামান্যার্ঘ্য জল ছিটিয়ে দিন)
ওঁ নমো শিবায় ইদং পুনরাচমনীয়ং শিবায় নমঃ।
(সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন)
ওঁ নমো শিবায় ইদং তাম্বুলং শিবায় নমঃ। (একটি পান দিন, অভাবে সামান্যার্ঘ্য জল একটু দিন।)
ওঁ নমো শিবায় ইদং মাল্যং শিবায় নমঃ। (মালা থাকলে মালাটি পরিয়ে দিন)
(বাণেশ্বর শিবলিঙ্গে দশোপচার পূজার মন্ত্র)
ভাইফোঁটা কি এবং কেন পালন করা হয় ? Bhai Phota Festivals

ভাইফোঁটা কি এবং কেন পালন করা হয় ? Bhai Phota

ভাইফোঁটা হিন্দুদের একটি উৎসব। এই উৎসবের পোষাকি নাম ভ্রাতৃদ্বিতীয়া অনুষ্ঠান। কার্তিক মাসের শুক্লাদ্বিতীয়া তিথিতে (কালীপূজার দুই দিন পরে) এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বাঙালি হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, এই উৎসব কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ২য় দিন উদযাপিত হয়। মাঝেমধ্যে এটি শুক্লপক্ষের ১ম দিনেও উদযাপিত হয়ে থাকে। পশ্চিম ভারতে এই উৎসব ভাইদুজ নামেও পরিচিত। সেখানে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পাঁচ-দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসবের শেষদিন। আবার, মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকে ভাইফোঁটাকে বলে ভাইবিজ। নেপালে ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে এই উৎসব পরিচিত ভাইটিকা নামে। সেখানে বিজয়াদশমীর পর এটিই সবচেয়ে বড় উৎসব।

ভাইফোঁটা

এই উৎসবের আরও একটি নাম হল যমদ্বিতীয়া। কথিত আছে, এই দিন মৃত্যুর দেবতা যম তাঁর বোন যমুনার হাতে ফোঁটা নিয়েছিলেন। অন্য মতে, নরকাসুর নামে এক দৈত্যকে বধ করার পর যখন কৃষ্ণ তাঁর বোন সুভদ্রার কাছে আসেন, তখন সুভদ্রা তাঁর কপালে ফোঁটা দিয়ে তাঁকে মিষ্টি খেতে দেন। সেই থেকে ভাইফোঁটা উৎসবের প্রচলন হয়। ভাইফোঁটার দিন বোনেরা তাদের ভাইদের কপালে চন্দনের ফোঁটা পরিয়ে দিয়ে ছড়া কেটে বলে-
এইভাবে বোনেরা ভাইয়ের দীর্ঘজীবন কামনা করে। তারপর ভাইকে মিষ্টি খাওয়ায়। ভাইও বোনকে কিছু উপহার বা টাকা দেয়।
অনেক সময় এই ছড়াটি বিভিন্ন পরিবারের রীতিনীতিভেদে পরিবর্তিত হয়ে থাকে। অতঃপর, বোন তার ভাইএর মাথায় ধান এবং দুর্বা ঘাসের শীষ রাখে। এই সময় শঙ্খ বাজানো হয় এবং হিন্দু নারীরা উলুধ্বনি করেন। এরপর বোন তার ভাইকে আশীর্বাদ করে থাকে (যদি বোন তার ভাইয়ের তুলনায় বড় হয় অন্যথায় বোন ভাইকে প্রণাম করে আর ভাই বোনকে আশীর্বাদ করে থাকে)। তারপর বোন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি দ্বারা ভাইকে মিষ্টিমুখ করায় এবং উপহার দিয়ে থাকে। ভাইও তার সাধ্যমত উক্ত বোনকে উপহার দিয়ে থাকে।
পশ্চিমবঙ্গে ভাইফোঁটা একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান হলেও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে পালিত হয়। পশ্চিম ভারতের ভাইবিজ একটি বর্ণময় অনুষ্ঠান। সেখানে এই উপলক্ষে পারিবারিক সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়। মহারাষ্ট্রে মেয়েদের ভাইবিজ পালন অবশ্যকর্তব্য। এমনকি, যেসব মেয়েদের ভাই নেই, তাঁদেরও চন্দ্র দেবতাকে ভাই মনে করে ভাইবিজ পালন করতে হয়। এই রাজ্যে বাসুন্দি পুরী বা শ্রীখণ্ড পুরী নামে একটি বিশেষ খাবার ভাইবিজ অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করার রেওয়াজ আছে।

রীতিনীতি

বোন চন্দন কাঠ জল দিয়ে ঘষে ( কেউ কেউ দইও মিশ্রিত করেন চন্দন কাঠের সাথে), নিজের কনিষ্ঠা আঙ্গুল দিয়ে ভাইয়ের কপালে নিচের মন্ত্রটি পড়তে পড়তে তিনবার ফোঁটা দিয়ে দেয়। তথ্যসূত্র - উইকিপিডিয়া
শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা পদ্ধতি - সরস্বতী নিয়ম নীতি - Saraswati Puja Rules Festivals

শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা পদ্ধতি - সরস্বতী নিয়ম নীতি - Saraswati Puja Rules

উপবেশন ও আসন
সকালে স্নান-আহ্নিক সেরে ইষ্টমন্ত্র জপ বা স্তব পাঠ করতে করতে পূজাস্থলে গিয়ে শুদ্ধাসনে পূর্বমুখে বা উত্তরমুখে বসবেন।
শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা পদ্ধতি

আচমন
গোকর্ণাকৃতি ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলের গোড়ায় মাষকলাই ডুবতে পারে এমন পরিমাণ জল নিয়ে ‘ওঁ বিষ্ণু’ মন্ত্রে তিনবার পান করে ডান
অঙ্গুষ্ঠের মূল দেশ দিয়ে মিলিত ঠোঁটদুটি ডান থেকে বামে দু’বার মার্জনা করবে ও হাত ধুয়ে ফেলবে।
এবারে তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকার মিলিত অগ্রভাগ দ্বারা ওষ্ঠ ও অধর স্পর্শ করবে। এভাবে অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনীর মিলিত অগ্রভাগ দিয়ে
ডান ও বাম নাসাপুট, অঙ্গুষ্ঠ ও অনামিকার মিলিত অগ্রভাগ দিয়ে প্রথমে ডান ও পরে বাম চোখ, তারপরে ডান ও বাম কান ছোঁবে।
এরপরে অঙ্গুষ্ঠ ও কনিষ্ঠার অগ্রভাগ দিয়ে নাভি স্পর্শ করবে ও হাত ধুয়ে ফেলবে।
অতঃপর করতল দিয়ে হৃদয়, সমস্ত আঙ্গুলের অগ্রভাগ দিয়ে মাথা এবং ডান ও বাম বাহুমূল স্পর্শ করবে ও হাত ধুয়ে হাত জোড় করে
পাঠ করবেঃ
ওঁ তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ
দিবীব চক্ষুরাততম্।
ওঁ অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোহপি বা
যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তরঃ শুচিঃ।
গন্ধাদির অর্চনা- ‘ওঁ এতেভ্যো গন্ধাদিভ্যো নমঃ’ -মন্ত্রে পুষ্পপাত্রে সাজানো গন্ধ ও পুষ্পাদিতে জলের দ্বারা তিনবার প্রোক্ষণ ( চিৎ হাতে
জলের ছিটা ) করবে। পরে গন্ধপুষ্প নিয়ে ‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে এতেভ্যো গন্ধাদিভ্যো নমঃ’ বলে পুষ্পপাত্রে দিবে এবং হাতে এক একটি
গন্ধপুষ্প নিয়ে নিচের এক একটি মন্ত্র বলে বলে গন্ধপুষ্প তাম্রকুণ্ডে দিয়ে দিয়ে পূজা করবে।
‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে এতদধিপতয়ে দেবায় শ্রীবিষ্ণবে নমঃ’;
‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে এতৎসম্প্রদানেভ্যঃ পূজনীয়দেবতাভ্যো নমঃ’;
‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীগুরবে নমঃ’;
‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে গণেশাদিপঞ্চদেবতাভ্যো নমঃ’;
‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে নমো নারায়ণায় নমঃ’;
‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ব্রাহ্মণেভ্যো নমঃ’।
সূর্যার্ঘ্য- কুশীতে জল, রক্তপুষ্প, রক্তচন্দন, আতপ চাল, যব, তিল, সরিষা, কুশের অগ্র ও দুর্বা নিয়ে নিম্নোক্ত মন্ত্রে নিবেদন করবেঃ
‘ওঁ নমো বিবস্বতে ব্রহ্মন্ ভাস্বতে বিষ্ণুতেজসে।
জগৎসবিত্রে শুচয়ে সবিত্রে কর্মদায়িনে।
এষোহর্ঘ্যঃ শ্রীসূর্যায় নমঃ’- মন্ত্রে সন্মুখস্থ বাণেশ্বরাদি যন্ত্রের উপর দিবে ও নিচের মন্ত্রে প্রণাম করবে-
ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্ ।
ধ্বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্।
[ জ্ঞাতব্যঃ রক্তপুষ্প, রক্তচন্দন, আতপ চাল, যব, তিল, সরিষা, কুশের অগ্র ও দুর্বা সকল দেবতা বিষয়ক অর্ঘ্যেই প্রদান করা যায়।
অন্যান্য দ্রব্যের অভাব হলে শুধু আতপ চাল ও দুর্বা দ্বারা প্রদান করা যায়। ]
স্বস্তিবাচন- ‘ওঁ কর্তব্যেহস্মিন্ লক্ষ্ম্যাদি দেবতা সহিত সরস্বতীপূজাকর্মণি ওঁ পুণ্যাহং ভবন্তো ব্রুবন্তু’। পরে ‘ওঁ পুণ্যাহং’ তিনবার বলতে বলতে
ঘণ্টাবাদনপূর্বক আতপ চাল ছড়াবে।
‘ওঁ কর্তব্যেহস্মিন্ লক্ষ্ম্যাদি দেবতা সহিত সরস্বতীপূজাকর্মণি ওঁ স্বস্তি ভবন্তো ব্রুবন্তু’। পরে ‘ওঁ স্বস্তি’ তিনবার বলতে বলতে ঘণ্টাবাদনপূর্বক
আতপ চাল ছড়াবে।
‘ওঁ কর্তব্যেহস্মিন্ লক্ষ্ম্যাদি দেবতা সহিত সরস্বতীপূজাকর্মণি ওঁ ঋদ্ধিং ভবন্তো ব্রুবন্তু’। পরে ‘ওঁ ঋদ্ধ্যতাম্’ তিনবার বলতে বলতে
ঘণ্টাবাদনপূর্বক আতপ চাল ছড়াবে। পরে নিম্নোক্ত মন্ত্রপাঠ ও ঘণ্টাবাদনসহ আতপ চাল ছড়াবেঃ
ওঁ স্বন্তি ন ইন্দ্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ স্বস্তি নঃ পূষা বিশ্ববেদাঃ ।
স্বস্তি নস্তার্ক্ষো অরিষ্টনেমিঃ স্বস্তি নো বৃহস্পতির্দধাতু।
ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি।
তারপর করজোড়ে পাঠ করবে-
ওঁ সূর্যঃ সোমো যমঃ কালঃ সন্ধ্যে ভূতান্যহঃ ক্ষপা।
পবনো দিকপতির্ভূমিরাকাশং খচরামরাঃ।
ব্রাহ্ম্যং শাসনমাস্থায় কল্পধ্বমিহ সন্নিধিম্।
ওঁ তৎসৎ অয়মারম্ভঃ শুভায় ভবতু।
সঙ্কল্প- তাম্রপাত্রে ( কুশীতে ) মূল ও অগ্রভাগের সহিত তিনটি কুশ, তিল, তুলসী, হরিতকী, গন্ধ, পুষ্প, আতপ চাল ও জল নিয়ে
বীরাসনে (দক্ষিণ জানু পেতে ) পূর্বমুখী ( বা উত্তরমুখী ) বসবে। বাম করতলে কুশী স্থাপন করে দক্ষিণ করতল দ্বারা আচ্ছাদনপূর্বক পাঠ
করবেঃ
বিষ্ণুরোম্ তৎসদদ্য মাঘে মাসি মকর রাশিস্থে ভাস্করে শুক্লে পক্ষে পঞ্চম্যান্তিথৌ অমুকগোত্রঃ শ্রীঅমুকদেবশর্মা ( পরার্থে- অমুকগোত্রস্য
অমুকদেবশর্মণঃ ) [অমুকগোত্রঃ শ্রীঅমুকঃ
(যজমানের গোত্র ও নাম)] সরস্বতী প্রীতিকামনায়া গণপত্যাদি নানাদেবতাপূজাপূর্বক-লক্ষ্মী-মস্যাধার-লেখনী-সহিত সরস্বতী পূজাকর্ম অহং
করিষ্যে ( পরার্থে- করিষ্যামি )।
পরে হাতের পাত্রটি ঈশান কোণে উপুড় করে রেখে তার উপর নিম্নোক্ত মন্ত্রে আতপ চাল ছড়াবে এবং ঘণ্টা বাজাবে-
ওঁ যজ্জাগ্রতো দূরমুদৈতি দৈবং তদু সুপ্তস্য তথৈবৈতি।
দূরঙ্গমং জ্যোতিষাং জ্যোতিরেকং তন্মে মনঃ শিবসঙ্কল্পমস্তু।
অতঃপর করজোড়ে পাঠ করবে-
ওঁ সঙ্কল্পিতার্থাঃ সিধ্যন্তু সিদ্ধাঃ সন্তু মনোরথাঃ।
ভক্তিজ্ঞানোদয়ায় অয়মারম্ভঃ শুভায় ভবতু।
হরিঃ ওঁ তৎসৎ।
ঘটস্থাপন- অতঃপর নিম্নোক্ত রীতিতে সংক্ষেপে ঘটস্থাপন করা যেতে পারে। ভূমিতে সর্বতোভদ্রমণ্ডল অথবা ভূপুরমধ্যগত অষ্টদল পদ্ম এঁকে
অঞ্জলি পরিমান শুক্ল্যধান্যের ওপর ঘট বসাবে। ঘট মধ্যে জল, সোনা ও ঘটোপরি আম্রপল্লব বসিয়ে তদুপরি একটি সশীষ ডাব অথবা কলা
বা হরীতকী স্থাপন করবে। সম্ভব হলে ফলটি বস্ত্রখণ্ডে আচ্ছাদিত করে তদুপরি একটি অর্ঘ্য (বিল্বপত্র, গন্ধপুষ্প, দুর্বা ও আতপ চাল)
সাজিয়ে দিবে। ঘটগাত্রে সিন্দুর দিয়ে একটি স্বস্তিক বা পুত্তলিকা অঙ্কন করবে। অনন্তর করজোড়ে পাঠ করবে-
ওঁ সর্বতীর্থোদ্ভবং বারি সর্বদেবসমন্বিতম।
ইমং ঘটং সমারুহ্য তিষ্ঠ দেবি গণৈঃ সহ।
ঘটস্পর্শ করে পাঠ করবে- ওঁ স্থাং স্থীং স্থিরো ভব। বৈদিক গায়ত্রী- ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি ধিয়ো যো নঃ
প্রচোদয়াৎ ওঁ।। -এই মন্ত্রও ঘট স্পর্শ করে তিনবার পাঠ করবে।
সামান্যার্ঘ্যস্থাপন- নিজের সামনে একটু বামদিকের ভূমিতে অধোমুখ ত্রিকোণ (পুং দেবতা হলে উর্ধমুখ), বৃত্ত ও চতুর্ভুজ মণ্ডল এঁকে তদুপরি
পূজা করবে-
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে আধারশক্তাদিভ্যো নমঃ।
পরে ‘ফট্’ মন্ত্রে কোশা ধুয়ে মণ্ডলোপরি স্থাপন করে ‘নমঃ’ মন্ত্রে জলপূর্ণ করবে এবং ‘ওঁ’ মন্ত্রে কোশার অগ্রভাগে একটি অর্ঘ্য (বিল্বপত্র,
গন্ধপুষ্প, দুর্বা ও আতপ চাল) সাজিয়ে দিবে। ‘ওঁ’ মন্ত্রে দূর্বা, অক্ষত বিল্বপত্র, চন্দন, পুষ্প, তুলসীপত্র, আতপ চাল কোশার জলে নিক্ষেপ
করবে। পরে অঙ্কুশ মুদ্রায় জল স্পর্শ করে নিম্নোক্ত মন্ত্রে সূর্যমণ্ডল হতে তীর্থ আবাহন করবে-
ওঁ গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরি সরস্বতি।
নর্মদে সিন্ধু কাবেরি জলেহস্মিন্ সন্নিধিং কুরু।।
অতঃপর ‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে তীর্থেভ্যো নমঃ’ মন্ত্রে জলে তীর্থপূজা করে ‘হূঁ’ মন্ত্রে অবগুণ্ঠন মুদ্রা ও ‘বং’ মন্ত্রে ধেনুমুদ্রা প্রদর্শনপূর্বক
মৎস্যমুদ্রায় জল আচ্ছাদন করে ১০ বার ‘ওঁ’ মন্ত্র জপ করবে। এরপর সামান্যার্ঘ্যের জল নিজের মাথায় ও দ্বারদেশে ছিটিয়ে দিয়ে
দ্বারদেবতার পূজা করবে।
দ্বারদেবতাপূজা- ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে দ্বারদেবতাভ্যো নমঃ (নৈঋতকোণে); তাম্রকুণ্ডে- ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ব্রহ্মণে নমঃ; ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে
বাস্তুপুরুষায় নমঃ।
ভূতাপসারণ- ‘ফট্’ মন্ত্র আতপ চালে সাতবার জপ করে তা ঘন্টাবাদন করতে করতে নিম্নোক্ত মন্ত্রে নারাচ মুদ্রায় চারদিকে ছড়াবে-
ওঁ সর্ববিঘ্নানুৎসারয় হূঁ ফট্ স্বাহা।
ওঁ অপসর্পন্তু তে ভূতা যে ভূতা ভুবি সংস্থিতাঃ।
যে ভূতা বিঘ্নকর্তারস্তে নশ্যন্তু শিবাজ্ঞয়া।।
ভূমিশুদ্ধি- ‘ওঁ রক্ষ রক্ষ হূঁ ফট্ স্বাহা’-মন্ত্রে মুষ্টি-নিঃসৃত জল ভূমিতে নিক্ষেপ করবে।
আসনশুদ্ধি- স্ববামে আসনের নিম্নবর্তী ভূমিতে ত্রিকোণ মণ্ডল এঁকে ‘ওঁ হ্রীঁ এতে গন্ধপুষ্পে আধারশক্ত্যাদিভ্যো নমঃ’ –মন্ত্রে মণ্ডল পূজা
করবে। অতঃপর আসন স্পর্শ করে পাঠ করবে- ‘ওঁ অস্য আসনোপবেশনমন্ত্রস্য মেরুপৃষ্ঠ ঋষিঃ সুতলং ছন্দঃ কূর্মো দেবতা আসনোপবেশনে
বিনিয়োগঃ’। পরে কৃতাঞ্জলিপূর্বক পাঠ-
ওঁ পৃথ্বি ত্বয়া ধৃতা লোকা দেবি ত্বং বিষ্ণুনা ধৃতা।
ত্বঞ্চ ধারয় মাং নিত্যং পবিত্রং কুরু চাসনম্ ।।
অতঃপর আসনের উপর ত্রিকোণ মণ্ডল এঁকে ‘হ্রীঁ এতে গন্ধপুষ্পে আধারশক্তয়ে কমলাসনায় নমঃ’- মন্ত্রে ঐ মণ্ডল গন্ধপুষ্প দ্বারা পূজা করবে।
গুরুপ্রণাম- হাত জোড় করে প্রণাম করবে। বামকর্ণোর্ধ্বে- ঐঁ গুরুভ্যো নমঃ; তদূর্ধ্বে- ঐঁ পরমগুরুভ্যো নমঃ; তদূর্ধ্বে- ঐঁ পরাপরগুরুভ্যো
নমঃ; তদূর্ধ্বে- ঐঁ পরমেষ্ঠিগুরুভ্যো নমঃ; দক্ষিণকর্ণোর্ধ্বে- ওঁ গণেশায় নমঃ; মধ্যে অর্থাৎ ললাটে বা হৃদয়ে- ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ।
করশুদ্ধি- ‘হেঁসৌঃ’ মন্ত্রে একটি সচন্দন রক্তবর্ণ পুষ্প নিয়ে ‘আং হূং ফট্ স্বাহা’ মন্ত্রে উভয় করতল দিয়ে মর্দন করে বাম হাতের নারাচ মুদ্রায়
সেই ফুলটিকে মাথার চারদিকে ‘ক্লীং’ মন্ত্রে ঘুরিয়ে ‘ঐং’ মন্ত্রে ঘ্রাণ নিয়ে ‘ফট্’ মন্ত্রে ঈশানকোণে নিক্ষেপ করবে।
পুষ্পশুদ্ধি- ‘ওঁ শতাভিষেক হূঁ ফট্ স্বাহা’ মন্ত্রে পুষ্পে জলের ছিটা দিয়ে ‘ওঁ পুষ্পে পুষ্পে মহাপুষ্পে সুপুষ্পে পুষ্পসম্ভবে পুষ্পচয়াবকীর্ণে চ হূঁ
ফট্ স্বাহা’ মন্ত্রে পুষ্প স্পর্শ করে শোধন করবে।
ত্রিবিধ বিঘ্নাপসারণ- ‘ওঁ ঐঁ’ মন্ত্র উচ্চারণ করে ঊর্ধ্বে দৃষ্টিপাতকরতঃ দিব্যবিঘ্নাপসারণ করবে। তারপর তর্জনী ও মধ্যমা দ্বারা বাম করতলে
ঊর্ধ্ব ঊর্ধ্ব ক্রমে তালত্রয় দিয়ে দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনী দ্বারা পূর্বদিক থেকে আরম্ভ করে ঈশানকোণ পর্যন্ত এবং অধঃ ও ঊর্ধ্ব- এই
দশ দিকে ‘ফট্’ মন্ত্রে তুড়ি দিয়ে দিগবন্ধন করবে। তারপর ‘ফট্’ মন্ত্রে বামপায়ের গোড়ালি দ্বারা ভূমিতে তিনবার আঘাত করে ভূমিবিঘ্ন
অপসারণ করে ‘অস্ত্রায় ফট্’ মন্ত্রে ঊর্ধ্বদিকে জলের ছিটা দিয়ে অন্তরিক্ষবিঘ্ন দূর করবে।
দেবতা ও পূজাদ্রব্যশুদ্ধি- ‘ওঁ ঐং ফট্’ মন্ত্রে দেবতা ও পূজাদ্রব্য সামান্যার্ঘ্যের জলে তিনবার প্রোক্ষণ (জলের ছিটা) করবে ও ধেনুমুদ্রা
দেখাবে আর ভাবনা করবে যে সকলই চিন্ময়, ঈশ্বরময়।
মন্ত্রশুদ্ধি- ‘অং হ্রীং অং; কং হ্রীং কং; চং হ্রীং চং; টং হ্রীং টং; তং হ্রীং তং; পং হ্রীং পং; যং হ্রীং যং; শং হ্রীং শং’ –এই মন্ত্র একবার জপ
করবে।
বহ্নিপ্রাকারচিন্তা-
‘রং’ মন্ত্রে নিজের চারদিকে বৃত্তাকার জলধারা দিয়ে আগুনের প্রাচীর চিন্তা করবে।
দেহমার্জন ও আত্মরক্ষা- ‘ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ’ মন্ত্রে করতলদ্বয় দ্বারা নিজদেহ মার্জনা করে হৃদয়ে হাত দিয়ে পাঠ করবে- ওঁ দুর্গে দুর্গে
রক্ষিণি স্বাহা। ওঁ আং হূঁ ফট্ স্বাহা।
প্রাণায়াম- ডান হাতের তর্জনী ও মধ্যমা মুষ্ঠিবদ্ধ করে অঙ্গুষ্ঠ দিয়ে ডান নাসা টিপে বন্ধ করে বাম নাসাপুটে বায়ু আকর্ষণ করতে করতে ৪
বার ‘ওঁ’ (অথবা ‘ঐং’) জপ করবে। অতঃপর অনামিকা ও কনিষ্ঠা দ্বারা বাম নাসাপুট টিপে বায়ু রুদ্ধ রেখে ‘ওঁ’ (অথবা ‘ঐং’মন্ত্র ১৬ বার জপ
করবে। অনন্তর ডান নাসা থেকে অঙ্গুষ্ঠ সরিয়ে নিয়ে ঐ নাসাপুট দ্বারাই ধীরে ধীরে বায়ু রেচন করবে। রেচনকালে ‘ওঁ’ (অথবা ‘ঐং’মন্ত্র ৮
বার জপ করবে। এইভাবে পূরক, কুম্ভক ও রেচক করলে একত্রে একটি প্রাণায়াম হয়। এই পদ্ধতিতে অবিচ্ছেদে তিনবার প্রাণায়াম
করবে। সমর্থ হলে ১৬/৬৪/৩২ সংখ্যায়ও প্রাণায়াম করা যেতে পারে।
ভূতশুদ্ধি (সংক্ষিপ্ত)- স্বক্রোড়ে বাম হাতের উপর ডান হাত চিৎভাবে স্থাপন করে নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করবে-
ওঁ ভূতশৃঙ্গাটাচ্ছিরঃ সুষুম্নাপথেন
জীবশিবং পরমশিবপদে যোজয়ামি স্বাহা ।।১।।
ওঁ যং লিঙ্গশরীরং শোষয় শোষয় স্বাহা ।।২।।
ওঁ রং সংঙ্কোচশরীরং দহ দহ স্বাহা ।।৩।।
ওঁ পরমশিব সুষুম্নাপথেন
মূলশৃঙ্গাটমুল্লসোল্লস জ্বল জ্বল প্রজ্বল প্রজ্বল
সোহহং হংসঃ স্বাহা ।।৪।।
এখানে, পূজক যে দেবতার পূজা করতে অগ্রসর, তিনি স্বয়ং সেই দেবতায় রূপান্তরিত হয়েছেন, এরূপ দৃঢ় ভাবনা করতে হবে।
ব্যাপকন্যাস- ‘আং হূঁ ফট্ স্বাহা’ মন্ত্রে মাথা থেকে পায়ের আঙ্গুল এবং পায়ের আঙ্গুল থেকে মাথা পর্যন্ত উভয় হাত দ্বারা তিনবার মার্জনা
করবে। এতদ্বারা নিজ শরীর, বাক্য ও মন শুদ্ধ হল বলে চিন্তা করবে।
জীবন্যাস- নতুন রচিত দিব্যদেহে ইষ্টদেবতার (যে দেবতার পূজা করছে) প্রাণ-প্রতিষ্ঠা করার জন্য ‘সোহহং’ (তিনিই আমি) ভাবনা করে
লেলিহান মুদ্রায় হৃদয় স্পর্শ করে পাঠ করবে ও আপনাকে দেবতাময় ভাবনা করবে-
ওঁ আং হ্রীঁ ক্রোং যং রং লং বং শং ষং সং হৌঁ হংসঃ অস্যা শ্রীসরস্বতী-দেব্যাঃ প্রাণা ইহ প্রাণাঃ।
ওঁ আং হ্রীঁ ক্রোং যং রং লং বং শং ষং সং হৌঁ হংসঃ অস্যা শ্রীসরস্বতী-দেব্যাঃ জীব ইহ স্থিতঃ।
ওঁ আং হ্রীঁ ক্রোং যং রং লং বং শং ষং সং হৌঁ হংসঃ অস্যা শ্রীসরস্বতী-দেব্যাঃ সর্বেন্দ্রিয়াণি।
ওঁ আং হ্রীঁ ক্রোং যং রং লং বং শং ষং সং হৌঁ হংসঃ অস্যা শ্রীসরস্বতী-দেব্যাঃ বাঙ্ মনশ্চক্ষুস্ত্বক-শ্রোত্র-ঘ্রাণপ্রাণা ইহাগত্য সুখং চিরং তিষ্ঠন্তু
স্বাহা।
মাতৃকান্যাস- কৃতাঞ্জলিপুটে পাঠ- ওঁ অস্য মাতৃকামন্ত্রস্য ব্রহ্ম ঋষির্গায়ত্রীচ্ছন্দো দেবী মাতৃকা সরস্বতী দেবতা, হলো বীজানি স্বরাঃ শক্তয়ঃ
অব্যক্তং কীলকং সর্বাভীষ্টসিদ্ধয়ে লিপিন্যাসে বিনিয়োগঃ।
তত্ত্বমুদ্রায় স্পর্শ করে বলবে : মস্তকে- ওঁ ব্রহ্মণে ঋষয়ে নমঃ; মুখে- ওঁ গায়ত্রীচ্ছন্দসে নমঃ; হৃদয়ে- ওঁ মাতৃকাসরস্বত্যৈ দেবতায়ৈ নমঃ;
মূলাধারে- ওঁ হলভ্যো বীজেভ্যো নমঃ; পাদদ্বয়ে- ওঁ স্বরেভ্যঃ শক্তিভ্যো নমঃ; সর্বাঙ্গে- ওঁ অব্যক্তকীলকায় নমঃ।
করন্যাস- উভয় হাতের তর্জনী সেই সেই হাতের অঙ্গুষ্ঠ-পৃষ্ঠে দিয়ে বলবে- অং কং খং গং ঘং ঙং আং অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ। উভয় হাতের
অঙ্গুষ্ঠ উভয় হাতের তর্জনীর পৃষ্ঠে দিয়ে পাঠ করবে- ইং চং ছং জং ঝং ঞং ঈং তর্জনীভ্যাং স্বাহা। উভয় হাতের অঙ্গুষ্ঠ উভয় হাতের
মধ্যমার পৃষ্ঠে দিয়ে পাঠ করবে- উং টং ঠং ডং ঢং ণং ঊং মধ্যমাভ্যাং বষট্ । উভয় হাতের অঙ্গুষ্ঠ উভয় হাতের অনামিকার পৃষ্ঠে রেখে
পাঠ করবে- এং তং থং দং ধং নং ঐং অনামিকাভ্যাং হূঁ । উভয় হাতের অঙ্গুষ্ঠ উভয় হাতের কনিষ্ঠার পৃষ্ঠে দিয়ে পাঠ করবে- ওং পং ফং
বং ভং মং ঔং কনিষ্ঠাভ্যাং বৌষট্। অতঃপর অং যং রং লং বং শং ষং সং হং লং ক্ষং অঃ করতলপৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায় ফট্- এই মন্ত্র পাঠ করে
ডান হাতের যুক্ত তর্জনী ও মধ্যমা দ্বারা বাম হাতের তল ও পৃষ্ঠ স্পর্শ করে বাম করতলে তালি দিবে।
অঙ্গন্যাস- ডান হাতের তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকার অগ্রভাগ দ্বারা বক্ষঃস্থল স্পর্শ করে পাঠ করবে- অং কং খং গং ঘং ঙং আং হৃদয়ায়
নমঃ। ইং চং ছং জং ঝং ঞং ঈং শিরসে স্বাহা- মন্ত্রে তর্জনী ও মধ্যমার অগ্রভাগ দ্বারা মস্তক; উং টং ঠং ডং ঢং ণং ঊং শিখায়ৈ বষট্- মন্ত্রে
বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠের দ্বারা শিখা; এং তং থং দং ধং নং ঐং কবচায় হূঁ- মন্ত্রে ডান হাতের পঞ্চাঙ্গুলির অগ্রভাগ দ্বারা বাম বাহুমূল এবং বাম হাতের
পঞ্চাঙ্গুলির অগ্রভাগ দ্বারা ডান বাহুমূল; ওং পং ফং বং ভং মং ঔং নেত্রত্রয়ায় বৌষট্- মন্ত্রে তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকার অগ্রভাগ দ্বারা
যথাক্রমে দক্ষিণ নেত্র, ঊর্ধ্ব নেত্র (নাসামূল) ও বাম নেত্র স্পর্শ করবে। অং যং রং লং বং শং ষং সং হং লং ক্ষং অঃ করতলপৃষ্ঠাভ্যাং
অস্ত্রায় ফট্- মন্ত্রে ডান হাতের যুক্ত তর্জনী ও মধ্যমা দ্বারা বাম হাতের তল ও পৃষ্ঠ স্পর্শ করে বাম করতলে তালি দিবে।
গুর্বাদিপূজা- গুরু ও গণেশাদি পঞ্চদেবতার পূজা নিম্নোক্ত মন্ত্রে গন্ধপুষ্পে করা যেতে পারে। সমস্ত পূজাই সন্মুখবর্তী তাম্রকুণ্ডস্থ জলে
করবে।
ওঁ ঐঁ এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীগুরবে নমঃ।
ওঁ গং এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীগণেশায় নমঃ।
ওঁ নমঃ শিবায় এতে গন্ধপুষ্পে শিবায় নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীসূর্যায় নমঃ।
ওঁ নমো নারায়ণায় এতে গন্ধপুষ্পে নারায়ণায় নমঃ।
ওঁ হ্রীঁ এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীজয়দুর্গায়ৈ নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে আদিত্যাদি-নবগ্রহেভ্যো নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ইন্দ্রাদি-দশদিকপালেভ্যো নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে কাল্যাদি-দশমহাবিদ্যাভ্যো নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে মৎস্যাদি-দশাবতারেভ্যো নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে সর্বেভ্যো দেবেভ্যো নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে সর্বাভ্যো দেবীভ্যো নমঃ।
পীঠন্যাস- মৃগমুদ্রায় বক্ষস্থল স্পর্শ করে বলবে- ওঁ হ্রীং পীঠদেবতাভ্যো নমঃ; ওঁ হ্রীং পীঠশক্তিভ্যো নমঃ।
ঋষ্যাদিন্যাস- হাত জোড় করে পাঠ করবে- ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ ইত্যস্য মন্ত্রস্য কণ্বঋষির্বিরাড্ গায়ত্রীচ্ছন্দঃ বাগীশ্বরী দেবতা মম
সর্বাভীষ্টসিদ্ধয়ে শ্রীসরস্বতী পূজনে বিনিয়োগঃ।
তত্ত্বমুদ্রায় স্পর্শ করবে; মস্তকে- ওঁ কণ্বায় ঋষয়ে নমঃ; মুখে- ওঁ বিরাড্ গায়ত্র্যৈচ্ছন্দসে নমঃ; হৃদয়ে- ওঁ বাগীশ্বর্যৈ দেবতায়ৈঃ নমঃ।
করন্যাস- (স্পর্শ প্রভৃতি পূর্বোক্ত করন্যাসের অনুরূপ) সাং অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ; সীং তর্জনীভ্যাং স্বাহা; সূং মধ্যমাভ্যাং বষট্; সৈং অনামিকাভ্যাং
হূং; সৌং কনিষ্ঠাভ্যাং বৌষট্; সঃ করতল পৃষ্ঠাভ্যাম্ অস্ত্রায় ফট্।
অঙ্গন্যাস- (স্পর্শ প্রভৃতি পূর্বোক্ত অঙ্গন্যাসের অনুরূপ) সাং হৃদয়ায় নমঃ; সীং শিরসে স্বাহা; সূং শিখায়ৈ বষট্; সৈং কবচায় হূং; সৌং
নেত্রত্রয়ায় বৌষট্; সঃ করতল পৃষ্ঠাভ্যাম্ অস্ত্রায় ফট্।
ব্যাপকন্যাস- ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ- মন্ত্রে পাঁচবার দুই হাতে মাথা থেকে পা পর্যন্ত এবং পা থেকে মাথা পর্যন্ত মার্জনা করবে।
ধ্যান- কূর্মমুদ্রায় হাতে ফুল নিয়ে হৃদয়ে জ্যোতির্ময় মূর্তি ভাবনাপূর্বক ধ্যান করবে-
ওঁ তরুণশকলমিন্দোর্বিভ্রতী শুভ্রকান্তিঃ
কুচভর-নমিতাঙ্গী সন্নিষন্না সিতাব্জে।
নিজ-করকমলোদ্যল্লেখনীপুস্তকশ্রীঃ
সকলবিভবসিদ্ধ্যৈ পাতু বাগদেবতা নঃ।।
মানসপূজা- ধ্যানান্তে হাতের ফুল মাথায় স্থাপন করে কোলে বাম করতলের উপর দক্ষিণ করপৃষ্ঠ রেখে মানস উপচারে পূজা করবে।
হৃদয়কেই দেবতার আসন কল্পনা করে সেখানে তাঁর আবাহন করবে। অতঃপর সহস্রদলকমল-নিঃসৃত সুধারূপ পাদ্য, মনোরূপ অর্ঘ্য,
পূর্বোক্ত সুধারূপ আচমনীয় ও স্নানীয়, আকাশতত্ত্বরূপ বসন, ক্ষিতিতত্ত্বরূপ গন্ধ, চিত্তরূপ পুষ্প, প্রাণরূপ ধূপ, তেজস্তত্ত্বরূপ দীপ,
সুধাসমুদ্ররূপ নৈবেদ্য মনে মনে প্রদান করবে।
বিশেষার্ঘ্য স্থাপন- পূজক নিজের সামনে কোশার বাম দিকে একটি নিম্নমুখ ত্রিকোণ, তার বাইরে
বৃত্ত ও তার বাইরে চতুষ্কোণ মণ্ডল এঁকে সামান্যার্ঘ্যের জল দ্বারা প্রোক্ষণ করবে এবং ‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে আধারশক্তয়ে নমঃ’ মন্ত্রে মণ্ডল
পূজা করবে। মণ্ডলের উপর ত্রিপদিকা স্থাপন করে ‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে মং বহ্নিমণ্ডলায় দশকলাত্মনে নমঃ’ মন্ত্রে ত্রিপদিকায় পূজা করবে। ‘হূঁ
ফট্’ মন্ত্রে শঙ্খ ধুয়ে ত্রিপদিকার উপর রেখে ‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে অং অর্কমণ্ডলায় দ্বাদশকলাত্মনে নমঃ’ মন্ত্রে পূজা করবে। পরে ‘ঐং’ মন্ত্র
উচ্চারণ করে শঙ্খের তিনভাগ জল দ্বারা পূর্ণ করবে এবং ‘নমঃ’ মন্ত্রে গন্ধপুষ্প, দুর্বা ও আতপ তণ্ডুল দিয়ে অর্ঘ্য রচনা করে তদুপরি
স্থাপনপূর্বক ‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে উং সোমমণ্ডলায় ষোড়শকলাত্মনে নমঃ’ মন্ত্রে অর্ঘ্য জলে পূজা করবে। পরে অঙ্কুশ মুদ্রায় ঐ জল স্পর্শ করে
‘ওঁ গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরি সরস্বতি নর্মদে সিন্ধুকাবেরি জলেহস্মিন্ সন্নিধিং কুরু’ মন্ত্রে সূর্যমণ্ডল থেকে তীর্থ আবাহন করবে এবং ‘ওঁ
এতে গন্ধপুষ্পে তীর্থেভ্যো নমঃ’ মন্ত্রে তীর্থ পূজা করবে। পরে ‘বষট্’ মন্ত্রে গালিনী মুদ্রা দেখিয়ে পূজা করবে- ‘ওঁ ঐং এতে গন্ধপুষ্পে
শ্রীসরস্বতীদেবতাভ্যো নমঃ’। অতঃপর আবাহন্যাদি পঞ্চমুদ্রা দেখিয়ে শঙ্খে দেবতার আবাহন করবে-
‘ওঁ ঐং সরস্বতী দেবি ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ (আবাহনী মুদ্রা দ্বারা); ইহ তিষ্ঠ ইহ তিষ্ঠ (স্থাপনী মুদ্রা দ্বারা); ইহ সন্নিধেহি ইহ সন্নিধেহি
(সন্নিধাপনী মুদ্রা দ্বারা); ইহ সন্নিরুধ্যস্ব ইহ সন্নিরুধ্যস্ব (সংরোধনী মুদ্রা দ্বারা); ইহ সম্মুখী ভব ইহ সম্মুখী ভব (সম্মুখীকরণ মুদ্রা দ্বারা)
অত্রাধিষ্ঠানং কুরু, মম পূজাং গৃহাণ’ (করজোড়ে) বলবে। পরে ‘ওঁ ঐং এতে গন্ধপুষ্পে সরস্বত্যৈ নমঃ’ মন্ত্রে গন্ধপুষ্প দ্বারা পূজা করে
মৎস্যমুদ্রায় অর্ঘ্য আচ্ছাদনপূর্বক ‘ওঁ’ মন্ত্র দশবার জপ করবে। তারপর বাম করতলে দক্ষিণ হস্তের তর্জনী ও মধ্যমা যোগে ‘ফট্’ মন্ত্রে
ঊর্ধ্বোর্ধ্বে তালত্রয় দিয়ে ধেনু, যোনি ও পরমীকরণ মুদ্রা প্রদর্শন করবে। শঙ্খ কাৎ করে কিঞ্চিৎ জল কুশীতে ঢেলে সেই জল ‘ওঁ ঐং
সরস্বত্যৈ নমঃ’ মন্ত্রে নিজের মাথায় ও পূজাদ্রব্যে ছিটিয়ে দিবে।
পীঠপূজা- ‘ওঁ হ্রীং এতে গন্ধপুষ্পে পীঠদেবতাভ্যো নমঃ; ওঁ হ্রীং এতে গন্ধপুষ্পে পীঠশক্তিভ্যো নমঃ’ মন্ত্রে তাম্রকুণ্ডে পূজা করবে। পুনরায়-
করন্যাস- (স্পর্শ প্রভৃতি পূর্বোক্ত করন্যাসের অনুরূপ) সাং অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ; সীং তর্জনীভ্যাং স্বাহা; সূং মধ্যমাভ্যাং বষট্; সৈং অনামিকাভ্যাং
হূং; সৌং কনিষ্ঠাভ্যাং বৌষট্; সঃ করতল পৃষ্ঠাভ্যাম্ অস্ত্রায় ফট্।
অঙ্গন্যাস- (স্পর্শ প্রভৃতি পূর্বোক্ত অঙ্গন্যাসের অনুরূপ) সাং হৃদয়ায় নমঃ; সীং শিরসে স্বাহা; সূং শিখায়ৈ বষট্; সৈং কবচায় হূং; সৌং
নেত্রত্রয়ায় বৌষট্; সঃ করতল পৃষ্ঠাভ্যাম্ অস্ত্রায় ফট্।
ব্যাপকন্যাস- ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ- মন্ত্রে পাঁচবার দুই হাতে মাথা থেকে পা পর্যন্ত এবং পা থেকে মাথা পর্যন্ত মার্জনা করবে।
ধ্যান- কূর্মমুদ্রায় হাতে ফুল নিয়ে হৃদয়ে জ্যোতির্ময় মূর্তি ভাবনাপূর্বক ধ্যান করবে-
‘ওঁ তরুণশকলমিন্দোর্বিভ্রতী শুভ্রকান্তিঃ
কুচভর-নমিতাঙ্গী সন্নিষন্না সিতাব্জে।
নিজ-করকমলোদ্যল্লেখনীপুস্তকশ্রীঃ
সকলবিভবসিদ্ধ্যৈ পাতু বাগদেবতা নঃ’।।
ধ্যানান্তে হৃদয়স্থ অষ্টদলপদ্মের দেবতার জ্যোতির্ময় মূর্তি হস্তস্থিত পুষ্পে আবির্ভূত ভাবনা করে সেই পুষ্প তাম্রকুণ্ডে বা পূজাধারে স্থাপন
করবে।
[ এখন অপ্রতিষ্ঠিত মূর্তি বা পট হলে সেই মূর্তিতে বা পটে এবং ঘটে পূজা হলে ঘটে আবাহন করতে হবে।]
আবাহন- আবাহন্যাদি পঞ্চমুদ্রায় আবাহন করবে-
‘ওঁ ঐং সরস্বতী দেবি ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ (আবাহনী মুদ্রা দ্বারা); ইহ তিষ্ঠ ইহ তিষ্ঠ (স্থাপনী মুদ্রা দ্বারা); ইহ সন্নিধেহি ইহ সন্নিধেহি
(সন্নিধাপনী মুদ্রা দ্বারা); ইহ সন্নিরুধ্যস্ব ইহ সন্নিরুধ্যস্ব (সংরোধনী মুদ্রা দ্বারা); ইহ সম্মুখী ভব ইহ সম্মুখী ভব (সম্মুখীকরণ মুদ্রা দ্বারা)
অত্রাধিষ্ঠানং কুরু, মম পূজাং গৃহাণ’ (করজোড়ে)। অতঃপর ‘হূং’ মন্ত্রে মূর্তিতে বা পটে বা ঘটে অবগুণ্ঠন মুদ্রা দেখিয়ে দেবতার অঙ্গে
ষড়াঙ্গন্যাস করতে হবে।
ষড়াঙ্গন্যাস- এক একটি ফুল নিয়ে ‘সাং হৃদয়ায় নমঃ; সীং শিরসে স্বাহা; সূং শিখায়ৈ বষট্; সৈং করচায় হূং; সৌং নেত্রত্রয়ায় বৌষট্; সঃ
করতল পৃষ্ঠাভ্যাং অস্ত্রায় ফট্’ ইত্যাদি ক্রমে দেবতার অঙ্গে নিক্ষেপ করতে হবে। পরে ধেনু মুদ্রা ও পরমীকরণ মুদ্রা প্রদর্শন করবে।
[অপ্রতিষ্ঠিত মূর্তি বা পটে পূজা হলে এখন চক্ষুদান ও প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ঘটে বা শালগ্রামে পূজা হলে এর দরকার নেই।]
চক্ষুদান- ঘৃত দ্বারা একটি বিল্বপত্রে কাজল প্রস্তুত করে আর একটি বিল্বপত্রের বোঁটা দ্বারা সেই কাজল নিয়ে ‘ওঁ বাগ্দেব্যৈ বিদ্মহে
কামরাজায় ধীমহি তন্নো দেবি প্রচোদয়াৎ ওঁ’ –সরস্বতীর এই গায়ত্রী মন্ত্র পাঠপূর্বক প্রথমে ঊর্ধ্বনেত্রে পরে বামনেত্রে তৎপরে দক্ষিণ নেত্রের
মণিতে দিয়ে চক্ষুদান করবে।
প্রাণ প্রতিষ্ঠা- প্রতিমার গণ্ডদ্বয় ধরে পাঠ করবে-
ওঁ হংসঃ শুচিষদ্ বসুরন্তরিক্ষসদ্ হোতা বেদিসদ্ অতিথিঃ দুরোণসদ্ নৃষদ্ বরসদ্ ব্যোমসদ্ অব্জা গোজা ঋতজা অদ্রিজা ঋতং বৃহৎ।
ওঁ প্রতদ্বিষ্ণুঃ স্তবতে বীর্য্যেণ মৃগো ন ভীমঃ কুচরো গিরিষ্ঠা, যস্যোরুষু ত্রিষু বিক্রমণেষ্বধিক্ষিয়ন্তি ভুবানি বিশ্বাঃ।
ওঁ তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ দিবীব চক্ষুরাততম্।
ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্। উর্ব্বারুকমিব বন্ধনান্মৃত্যোঃ মুক্ষীয়মামৃতাৎ।
ওঁ তদ্বিপ্রাসো বিপণ্যবো জাগৃবাংসঃ সম….
সরস্বতী পূজা-পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্র, প্রণাম মন্ত্র, স্তব ও প্রার্থনা মন্ত্র::
পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্র (৩ বার পাঠসহ)
ওঁ জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে। বীনারঞ্জিত পুস্তক হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমহস্তুতে।। নমঃভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ। বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যা-স্থানেভ্য এব চ।। এস স-চন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বতৈ নমঃ।।
সোর্স - sanatandharmatattva.wordpress.com

জিতাঅষ্টমী কি এবং কেন পালন করা হয় জিতাঅষ্টমী ? jita ashtami Festivals

জিতাঅষ্টমী কি এবং কেন পালন করা হয় জিতাঅষ্টমী ? jita ashtami


জিতাষ্টমী [jitāṣṭamī] বি. আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি-যে তিথিতে স্ত্রীলোকেরা পুত্রলাভের জন্য জিমূতবাহনের পূজা করে; জিমূতাষ্টমী।

জিতুআঃ (jita ashtami)

 একাদশীর চাঁদের কৃষ্ণপক্ষে অষ্টমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় মায়েদের জিতা পূজা। কুড়মালি "জিতিআ" অর্থে জননী। নিরন্ন উপবাস দিয়ে মায়েরা আদিমাতা ষষ্ঠীর পূজা (জিতা ষাইঠ) করেন ঐ দিন। শশাফল কে কাঁখ (কোল) হড় (মানুষ/সন্তান) হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এই পূজা মাতৃত্ব অর্জনের বা সন্তানের মঙ্গল কামনার পূজা।
জিতাঅষ্টমী কি এবং কেন পালন করা হয় জিতাঅষ্টমী ? jita ashtami

মা ষষ্ঠী নিছক বাংলার এক গ্রামদেবী নন, শীতলা ও মনসার মতোই তিনিও ভারতের নানা যায়গায় পূজিত হন। কেএআরও মতে তিনি হলেন প্রসুতি ও শিশুর রক্ষায়িত্রি। আবার হারাপ্পাতেও এএমওএন মূর্তির সন্ধান পাওয়া গেছে যা দেখে মনে হয় সিন্ধু সভ্যতার আমলেও এই দেবীর পূজা হতো। এমনকি এই পূজার সাথে প্রাচীন এউরোপের লোকচারের মিল পাওয়া যায়। কেউ যাতে নিজের প্রাপ্যর বেশি না পায়, যৌথ পরিবার ধরে রাখার জন্য যা খুব জরুরী। মা ষষ্ঠীর কাহিনী এসইআই শিক্ষা দেয়। 5TH CENTURY BC- তে হিন্দু যুদ্ধদেবতা স্কন্দ ও তাঁর সহযোগী যৌধেয়র সঙ্গে ষষ্ঠীকে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। 1ST CENTURY AD - 3RD CENTURY AD তে তাঁর ছটি মাথা দেখানো হয়েছে বিভিন্ন মুদ্রায় ও শাস্ত্রে। 5TH CENTURY AD তে বায়ুপুরাণে তাঁকে ৪৯ দেবীর অন্যতমা ও আর ইকেটিআই পুরাণে তাঁকে সমস্ত দেবীর মধ্যে আরাধ্যতমা বিওএলই বর্ণনা করা হয়েছে। 4TH -5TH CENTURY AD যজ্ঞবল্ক্যস্মৃতিতে তিনি স্কন্দদেবের পালিকা-মা। কিন্তু পরবর্তি কাহিনীতে তিনি তাঁর সঙ্গিনী ও স্ত্রী। ষষ্ঠীর কাহিনী পাওয়া যায় ষষ্ঠীমঙ্গল কাব্যে। সেখানে তাঁর সাথে সর্পদেবীর ঘনিষ্ট সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। বিহারে সন্তান জন্মের পরে ৬ দিনের অনুষ্ঠানটিকে ছটি বলা হয়। ষষ্ঠী ওখানে ছটিমাতা। ওড়িশায় সন্তান জন্মের ৬দিন ও ২১দিনে এই দেবী পূজিত হন। উত্তর ভারতের কোথাও কোথাও বিয়ের সময় এই দেবী পূজিত হন। ষষ্ঠীকে দেখা যায় সাধারণত জননী রূপে, মার্জারবাহিনী, কোলে এক বা একাধিক শিশু। তাঁর নানা প্রতীক, মাটির কলসী, বটগাছ, বটগাছের নিচে লাল পাথর ইত্যাদি। কোথাও ষষ্ঠীকে বলা হয় অমঙ্গলের দেবী। তিনি কুপিত হলে মা ও শিশুদের দুঃখো দেন। 5TH CENTURY-র কাশ্যপ সংহিতায় ষষ্ঠীকে বলা হয়েছে জাতহরণী, যিনি মাতৃগর্ভ থেকে ভ্রূণ অপহরণ করেন, সন্তান জন্মের ৬দিনের মধ্যে তাকে ভক্ষণ করেন। তাই শিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পরে ষষ্ঠ দিনে তাঁকে পূজা করা বিধেয়। আবার শিশু জন্মের ২১ দিনে একুশ্য পালন করা হয়। সেদিন বাড়ির উত্তর পশ্চিম কোনে বটবৃক্ষমূলে সিঁদুর লিপ্ত করে, মর্কট প্রস্তরময়ী যে ষষ্ঠী বুড়ী আছেন তাঁর পূজা আবশ্যক। ছোটবেলায় খেতে গিয়ে গলায় লাগলে অনেকে বলে ওঠেন ‘ষাঠ-ষাঠ’ - মনে ষষ্ঠী দেবীর নাম করে বিপদভঞ্জন করা। বলে রাখা ভাল, প্রাচীন বঙ্গে অনার্য জাতি গোষ্ঠীর দ্বারা এই দেবী পুজিতা হতেন। অসুর নামক আদিম জাতি গোষ্ঠীও এই দেবীর পূজক ছিলেন। ধর্মমঙ্গলে আছে মায়াপুরে এই দেবীর পূজা করেছিলেন জয়ন্ত অসুর। মানভুমের লোকায়েত জীবনেও সন্তান জন্মানোর ছ’দিন পরে ষষ্ঠী ও ২১দিন পর একুশা’য় ষষ্ঠী দেবীর পূজা করা হয়। চৈতন্যভাগবত-এ দেখা যায় চৈতন্য-র জন্মের ছ’দিন পর ষষ্ঠী দেবীর পূজা করা হয়। বাঁকুড়া-পুরুলিয়া পশ্চিম-মেদনীপুর-এ দুর্গা অষ্টমীর ঠিক ১৫দিন আগে জিতা-অষ্টমী হয়। এই তিথিতে জিতা-ষষ্ঠীর ব্রত ও পূজা হয়। মনে করা হয় এই জিতা পূজারই সুত্র আছে জাতহরণী বা বাংলাদেশ-র জাতাপহারিণীতে। এই দেবী অশুভ দেবী, সন্তানকে মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। তাই এই পূজা করা হয় ওই দেবীর প্রকোপ থেকে বাঁচতে। বাংলার মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে আছে বাংলাদেশে ১২মাসে ১২ রকম ষষ্ঠীর পূজা হয়। জৈষ্ঠে হয় অরণ্যষষ্ঠী যা পরিণত হয়েছে জামাই ষষ্ঠীতে। জামাতাও আসলে সন্তান, আর জামাইকে ভজন করান হয় সন্তান লাভের জন্য। সংগৃহীত

বিশ্বকর্মা পূজা কি এবং কেন পালন করা হয়? জেনে নিন তার মাহাত্ম্য Festivals

বিশ্বকর্মা পূজা কি এবং কেন পালন করা হয়? জেনে নিন তার মাহাত্ম্য

শিল্পী ও নির্মাতাদের দেবতা বিশ্বকর্মা। ব্রহ্মাপুত্র বিশ্বকর্মাই গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নকশা তৈরি করেন। ঈশ্বরের প্রাসাদের নির্মাতাও বিশ্বকর্মা। দেবতাদের রথ ও অস্ত্রও তৈরি করেছিলেন এই বিশ্বকর্মাই।
মহাভারত অনুযায়ী বিশ্বকর্মা হলের শিল্পকলার দেবতা, সকল দেবতার প্রাসাদ, সকল প্রকার অলঙ্কারের নির্মাতা। বিবরণ অনুযায়ী তাঁর চার বাহু, মাথায় রাজার মুকুট, হাতে জলের কলস, বই, দড়ির ফাঁস ও অপর হাতে একটি যন্ত্র।
আজ বছরের সেই দিন যে দিন ঘুড়িতে ঘুড়িতে ছেয়ে উঠেছে আকাশ। প্রতিবছর এই সময় আসেন বিশ্বকর্মা আর ছড়িয়ে দিয়ে যান একমুঠো দুর্গাপুজোর গন্ধ, একরাশ ভাললাগা। কিন্তু কে এই বিশ্বকর্মা? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

বিশ্বকর্মা পূজা কি এবং কেন পালন করা হয়?
বিশ্বকর্মা পূজা কি এবং কেন পালন করা হয়? জেনে নিন তার মাহাত্ম্য


হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বিশ্বকর্মা দেবতাদের শিল্পী। তিনি দেবশিল্পী নামে পরিচিত। বৃহস্পতির ভগিনী যোগসিদ্ধা তাঁর মাতা এবং অষ্টম বসু প্রভাস তাঁর পিতা। বিশ্বকর্মার বাহন হাতি।

বিশ্বকর্মা পূজার মাহাত্ম্য

বিশ্বকর্মা বৈদিক দেবতা, ঋগবেদের ১০ম মণ্ডলে ৮১ এবং ৮২ সূক্তদ্বয়ে বিশ্বকর্মার উল্লেখ আছে। ঋগবেদ অনুসারে তিনি সর্বদর্শী এবং সর্বজ্ঞ। তাঁর চক্ষু, মুখমণ্ডল, বাহু ও পদ সবদিকে পরিব্যাপ্ত। তিনি বাচস্পতি, মনোজব, বদান্য, কল্যাণকর্মা ও বিধাতা অভিধায় ভূষিত। তিনি ধাতা, বিশ্বদ্রষ্টা ও প্রজাপতি।

বিশ্বকর্মা পূজার ধ্যানমন্ত্র

    দংশপালঃ মহাবীরঃ সুচিত্রঃ কর্মকারকঃ।
    বিশ্বকৃৎ বিশ্বধৃকতঞ্চ বাসনামানো দণ্ডধৃক।।
    ওঁ বিশ্বকর্মণে নমঃ।


বিশ্বকর্মা পূজার কীর্তি ও স্থাপত্য

বিশ্বকর্মা লঙ্কা নগরীর নির্মাতা। তিনি বিশ্বভুবন নির্মাণ করেন। বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিব এর ত্রিশূল, কুবের এর অস্ত্র, ইন্দ্রের বজ্র, কার্তিকেয়র শক্তি প্রভৃতি তিনি তৈরি করেছেন। শ্রীক্ষেত্রর প্রসিদ্ধ জগন্নাথ মূর্তিও তিনি নির্মাণ করেছেন।
বিশ্বকর্মা পূজা

ভাদ্রমাসের সংক্রান্তির দিন বিশ্বকর্মার পূজা করা হয়। সূতার-মিস্ত্রিদের মধ্যে এঁর পূজার প্রচলন সর্বাধিক। তবে বাংলাদেশে স্বর্ণকার,কর্মকার এবং দারুশিল্প, স্থাপত্যশিল্প, মৃৎশিল্প প্রভৃতি শিল্পকর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিগণও নিজ নিজ কর্মে দক্ষতা অর্জনের জন্য বিশ্বকর্মার পূজা করে থাকেন। সোর্স -উইকিপিডিয়া

★ আপনার প্রিয় তালিকা

তালিকা খালি আছে।

ক্যাটাগরি