দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর মহকুমার কুশমাণ্ডি ব্লক। নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সবুজ মাঠ আর গ্রামবাংলার নিসর্গ দৃশ্য। কিন্তু এই শান্ত গ্রামীণ পরিবেশের মাঝেই লুকিয়ে আছে এক ইতিহাসের নীরব সাক্ষী— বাগড়াই তলা মন্দির।
আমার মনে আছে, ছোটবেলায় ঠাকুমা গল্প করতেন। বলতেন, "ওই মন্দিরের দেওয়ালে দেওয়ালে কত ইতিহাস জড়িয়ে আছে কে জানে!" তখন ওসব গল্প শুনতে ভালো লাগলেও খুব একটা মাথায় ঢুকত না। কিন্তু সেদিন যখন প্রথম বাগড়াই তলা মন্দিরের সামনে দাঁড়ালাম, ঠাকুমার সেই গল্পগুলো যেন প্রাণ পেল।
মন্দিরটা দেখে প্রথমেই চোখ আটকে গেল তার টেরাকোটার কাজে। পোড়ামাটির এত সূক্ষ্ম কারুকার্য! দেয়ালের গায়ে খোদাই করা আছে রামায়ণ-মহাভারতের নানা দৃশ্য। কোনোটা ক্ষয়ে গেছে, কোনোটা এখনও অক্ষত। হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দেখলাম সেই পাথর আর ইট। রোমাঞ্চকর একটা অনুভূতি হলো— এই পাথরগুলোও যেন হাজার কণ্ঠে গল্প বলে যায়। বলে যায় কোন রাজা তৈরি করেছিলেন, কোন শিল্পী এখানে নিজের প্রাণ ঢেলে দিয়েছিলেন।
স্থানীয়রা বলেন, একদা এই মন্দির এলাকা ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চার এক পীঠস্থান। উৎসবের দিনগুলিতে এখানে মেলা বসত, কীর্তনের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠত চারিদিক। এখন অবশ্য খুব একটা জৌলুস নেই। মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে নীরবতা আর ইট-পাথরের মধ্যে খোঁজার চেষ্টা করলাম সেই হারানো দিনগুলির গন্ধ।
তবু, এখনও মানুষের বিশ্বাসের কমতি নেই। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন, পুজো দেন, মানত করেন। এক বৃদ্ধা এসেছিলেন, বললেন, "বছর বছর আসি। এখানে এসে বড় শান্তি লাগে।"
আমি তাকিয়ে রইলাম মন্দিরের চূড়ার দিকে। কিছু জিনিস শুধু দেখার জন্য নয়, অনুভব করার জন্য। বাগড়াই তলা মন্দিরও তেমনই এক জায়গা। ইতিহাস, শিল্প আর অটুট বিশ্বাসের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। আপনার যদি কখনও দক্ষিণ দিনাজপুর যাওয়া হয়, কুশমাণ্ডির এই মন্দিরটা একবার দেখে আসবেন। ইতিহাসের কাছ থেকে কিছু মুহূর্ত চুরি করে নেবেন।
একবার না হয় আপনিও দাঁড়িয়ে শুনবেন, মন্দিরের দেওয়ালগুলো কি বলে?
Kushmandi Bagrai Tala Temple -Photo
Live Video-Bagrai Tala Temple Kushmandi
Kushmandi Bagrai Tala Temple
Near by -1km (kilometre) Kushmandi from kushmandi Bus Stand
Beside- Kushmandi Hospital
Village-Ukhuliya
Po-Kushmandi
District-Dakshin Dinajpur
Pin-733132
West Bengal,India
আপনি কি কখনও এমন কোনও জায়গায় গেছেন, যা দেখে আপনার ভিতরটায় দলা পাকিয়ে গেছে?
বাগড়াই তলা মন্দির আমার কাছে তেমনই এক জায়গা। যদি কখনও কুশমাণ্ডি যান, একটু সময় করে এখানে বসুন। মন্দিরের নীরবতা শুনুন। ইতিহাসের পাতারা মৃদু সুরে গল্প বলবে আপনাকে। বিশ্বাস করুন, না বললে মন্দিরও কাঁদে।