দুর্গাপূজা শেষ হওয়ার পর মনটা যখন একটু ভার হয়ে থাকে, ঠিক তখনই প্রকৃতিতে হিমেল হাওয়ার পরশ নিয়ে হাজির হন দেবী জগদ্ধাত্রী। তিনি 'জগৎ-ধাত্রী', অর্থাৎ যিনি এই জগতকে ধারণ করে আছেন। কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে মা আসেন আমাদের মাঝে।
অনেকেই মনে করেন, জগদ্ধাত্রী পূজা আসলে দুর্গাপূজারই এক সংক্ষিপ্ত রূপ। কিন্তু এর আবেদন আর আভিজাত্য একদম আলাদা।
চন্দননগর ও কৃষ্ণনগরের সেই চেনা আভিজাত্য
জগদ্ধাত্রী পূজার কথা বললে প্রথমেই মাথায় আসে চন্দননগর আর কৃষ্ণনগরের নাম। চন্দননগরের বিশালাকার প্রতিমা আর চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা দেখার জন্য সারা রাজ্য থেকে মানুষ ভিড় জমায়। গঙ্গার ধারের সেই মণ্ডপগুলো আর আলোকশিল্পীদের কারুকার্য দেখলে মনে হয়, যেন স্বর্গ নেমে এসেছে মর্ত্যে।
অন্যদিকে, কৃষ্ণনগরের বুড়োমা-র মাহাত্ম্য মুখে মুখে ঘোরে। শোনা যায়, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় প্রথম এই পূজার প্রচলন করেছিলেন। এখানকার মা-র রূপ অতি প্রাচীন এবং শান্ত।
কেন করা হয় এই পূজা? (পৌরাণিক পটভূমি)
পুরাণ মতে, দেবতারা যখন অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন যে তারাই মহিষাসুরকে বধ করেছেন, তখন দেবী চণ্ডিকা তাদের ভ্রম ভাঙাতে এক যক্ষ রূপ ধারণ করেন। দেবতাদের শক্তি পরীক্ষা করতে তিনি একটি তৃণ (ঘাস) ছিঁড়তে বলেন। ইন্দ্র, অগ্নি, বায়ু কেউই তা পারলেন না। তখন তারা বুঝতে পারেন, আদিশক্তির বিনাশ নেই। সেই মহাশক্তিই হলেন দেবী জগদ্ধাত্রী। তিনি সিংহের পিঠে আসীন এবং তার পায়ের নিচে থাকে এক হাতি— যা আসলে আমাদের মনের 'অহংকার'-এর প্রতীক।
জগদ্ধাত্রী পূজার বিশেষ আকর্ষণ
একচালা প্রতিমা: বেশিরভাগ জগদ্ধাত্রী মূর্তিতে ডাকের সাজ আর একচালা লক্ষ্য করা যায়, যা এক অনন্য আভিজাত্য বজায় রাখে।
নবমী পূজা: একদিনেই সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর বিহিত পূজা সম্পন্ন করার রীতি অনেক জায়গায় আছে, তবে নবমীর গুরুত্ব এখানে সবচেয়ে বেশি।
ভাসান শোভাযাত্রা: চন্দননগরের আলোকসজ্জিত শোভাযাত্রা পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ এবং সুন্দর শোভাযাত্রা হিসেবে পরিচিত।
উৎসবের আমেজে মাতুন আপনিও
আপনি যদি ভিড় এড়াতে চান, তবে ষষ্ঠী বা সপ্তমীর দিকেই ঠাকুর দেখে নেওয়া ভালো। আর যদি আলোকসজ্জার পূর্ণ রূপ দেখতে চান, তবে নবমী বা দশমীর রাত আপনার জন্য সেরা সময়। বন্ধুদের সাথে রাস্তার ধারের স্টল থেকে ঘুগনি-চপ বা আইসক্রিম খেতে খেতে ঠাকুর দেখার আনন্দই আলাদা!
উপসংহার: জগদ্ধাত্রী পূজা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাঙালির মিলন উৎসব। এই বছর আপনার পূজার প্ল্যান কী? চন্দননগর যাচ্ছেন নাকি পাড়ার মণ্ডপেই আড্ডা জমবে? কমেন্টে আমাদের অবশ্যই জানান!
সবাইকে জগদ্ধাত্রী পূজার প্রীতি ও শুভেচ্ছা!
