নতুন বছর এলেই মন চায় বদলাতে। সেফটি পিন থেকে ডায়েরি – কীভাবে করবেন শুরু, জেনে নিন সহজ টিপস।
নতুন বছর আসছে – শুধু তারিখ বদলায় না, বদলাক আপনার গল্পও
হ্যাপি নিউ ইয়ার!
লিখতে গিয়েই হাসি পাচ্ছে। কারণ এই কথাটা বলতে বলতেই বছর ঘুরে দাঁড়ায়।
আমার নিজের মনে আছে, ছোটবেলায় নতুন বছর মানে ছিল নতুন জামা, আর বাড়িতে পান্তা-ইলিশ। এখন সেটা অনেকটাই পাল্টে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘নতুন আমি’ তৈরির হিড়িক পড়ে যায়।
কিন্তু সত্যি কথা বলি? শুধু স্ট্যাটাস দিলেই হয় না। লাগে একটু পরিকল্পনা, একটু ফুর্তি, আর একটু আন্তরিকতা।
তো চলুন, আজ জানি কীভাবে নতুন বছরকে স্বাগত জানাবেন, যা আপনাকে সত্যিই ভালো রাখবে।
ওল্ড ডায়েরি ফেলে আসুন, নতুন শুরু করুন
কথায় বলে না – অতীতকে বিদায় না দিলে ভবিষ্যৎ আসে না।
আমার এক দোস্ত ছিল। ও প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বর রাতে পুরনো ডায়েরি পুড়িয়ে ফেলে। বলত, "মনে যা আছে থাক, কাগজের বোঝা বহন করতে চাই না"।
আপনি হয়তো ডায়েরি পোড়ানোর পক্ষে নন। কিন্তু অন্তত একটা কাজ করুন – পুরনো ভুলগুলোকে বিদায় দিন।
ছিঁড়ে ফেলুন সেই সম্পর্কের টক্সিক চিঠিগুলো। ডিলিট করুন মোবাইলের অপ্রয়োজনীয় নম্বর। আর হ্যাঁ, ফেসবুকের সেই ‘ফ্রেন্ড’ যারা শুধু নেতিবাচকতা ছড়ায় – আনফ্রেন্ড বাটনে ক্লিক করুন নির্দ্বিধায়।
সেফটি পিনের ছোট্ট জাদু
খুব ছোট একটা কথা বলি।
প্রতি বছর ১ জানুয়ারি আমি একটা নতুন সেফটি পিন কিনি। পকেটে পুরনোটা খুলে ফেলে নতুনটা লাগাই। ওটার দাম মাত্র এক টাকা। কিন্তু এর মানে অনেক বড়।
আমি নিজের সাথে একটা চুক্তি করি – এই পিন টা যেন মনে করিয়ে দেয়, আমি সুরক্ষিত। সব আঁটকে যাওয়া জিনিস খুলে ফেলার অধিকার আমার আছে।
আপনি চাইলে একটা ছোট্ট নুড়ি পাথরও রাখতে পারেন পকেটে। অথবা একটা লাল সুতো বেঁধে রাখুন হাতে। নতুন বছরের শুরুতেই নিজেকে একটা প্রতীক উপহার দিন।
সবাইকে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ জানান, কিন্তু ভিন্নভাবে
অনেকেই আগের রাত ১২টায় সবাইকে একই মেসেজ কপি-পেস্ট করে পাঠান।
"আপনি এবং আপনার পরিবার সুস্থ থাকুন" – ওগুলো বোধহয় রোবটরাও পাঠায়।
আমার বন্ধু রিয়ার অভ্যাস অন্যরকম। ও প্রতি বছর ১ জানুয়ারি সকালে ঘুম থেকে উঠে সবচাইতে কাছের ১০ জনকে ফোন করে। ওদের বলত, "শোন, তোকে খুব মিস করি। তুই আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ"।
একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, ফোন করে বলার এত দরকার কি না? ওর উত্তর শুনে অবাক হয়েছিলাম।
ও বলেছিল, "এই ফোনটাই হয়তো কারো শেষ ফোন হতে পারে। তো দেরি করে লাভ কী?"
এবার আপনি试试 করুন। জন্মদিনের মতো করে, শুধু ‘শুভ নববর্ষ’ নয়, বলে ফেলুন ভালোবাসার জিনিসগুলো।
নির্ধারণ করুন ‘না’ বলার ক্যালেন্ডার
লক্ষ্য নির্ধারণের পোস্টের শেষ নেই। ওজন কমানো, টাকা বাঁচানো, ইংরেজি শেখা – সবাই করে।
কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো – 'না' বলা শেখা।
একটা ছোট লিস্ট তৈরি করি:
যেখানে আপনার সময় নষ্ট হয়, সেখানে ‘না’
যেখানে মানসিক শান্তি বিঘ্নিত হয়, সেখানে ‘না’
পছন্দের কাজের জন্য যখন অজুহাত খাড়া করান, সেই ভাবনাকে ‘না’
আর হ্যাঁ, বিনা কারণে অতিরিক্ত স্ক্রলিং-কে ‘না’
বছর শেষে দেখবেন, এই ‘না’ গুলো আপনার জন্য হ্যাঁ উৎপাদন করেছে।
পুরনো জামাকাপড় দিন, নতুন সুখ কিনুন
আমি নিজে প্রতি বছর ৩০ বা ৩১ ডিসেম্বর আলমারি খুলে বসি। এক একটা জামা দেখি – কবে শেষ পরেছিলাম।
যে জামা দুই বছরে একবারও পরা হয়নি, সেটা কারো না কারো কাজে লাগবেই।
গত বছর একটা পুরনো জ্যাকেট দিয়েছিলাম আমাদের বাড়ির ক্যাশবাবুকে। ওর ছেলেটা স্কুলে পরে ঘুরত। ওই ছেলেটার মুখের হাসি দেখে আমার মনে হয়েছিল, এটাই বোধহয় সবচেয়ে বড় নিউ ইয়ার গিফট।
আপনিও করে দেখুন। এক টুকরো সুখ দেওয়ার চেয়ে বড় ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ আর হয় না।
চুপ করে বসে থাকার একটা দিন ঠিক করুন
আমি জানি, সবাই ফাটায় ফাটায়, ঘুরতে যায়, পার্টি দেয়। সেটা খারাপ কিছু না। আমিও করি।
কিন্তু জানেন, নতুন বছর মানে তো শুধু আওয়াজ নয়। কিছুটা নীরবতাও দরকার।
এই বছর অন্তত বেছে নিন একটা দিন – যেদিন কোনো ফোন, কোনো ল্যাপটপ, কোনো কথা না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধু নিজের সাথে।
বসুন জানালায়। একটা চা বানিয়ে নিন। ভাবুন – “আমি আসলে কী চাই?”
এই একদিন আপনার পুরো বছরটার দিক বদলে দিতে পারে। বিশ্বাস না হলে试试 দেখুন।
FAQ – নতুন বছর ঘিরে কিছু সাধারণ প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: নিউ ইয়ার রেজুলেশন কেন কাজ করে না বেশিরভাগের?
খুব বড় লক্ষ্য নেওয়া, আর রোজ পালন না করার অঙ্গীকার – এই দুটো কারণে। ছোট ছোট ধাপে ভাগ করুন। যেমন ‘ব্যায়াম করব’ না বলে ‘সপ্তাহে ৩ দিন ২০ মিনিট হাঁটব’ বলুন।
প্রশ্ন ২: একা মানুষ কীভাবে নিউ ইয়ার উদযাপন করবে?
একা থাকা মানে একা উদযাপন নয়। নিজের প্রিয় সিনেমা দেখুন, ভালো কিছু রান্না করুন। দিন শেষে আয়নায় নিজেকে বলুন – ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার, ফ্রেন্ড’।
প্রশ্ন ৩: ছোট বাচ্চাদের জন্য কী করবেন?
ওদের সাথে নিয়ে একটি ‘উইশ জার’ তৈরি করুন। রঙিন কাগজে ওরা তাদের স্বপ্ন লিখে জারে ভরুক। সারাবছর ওগুলো পড়তে পড়তে ভালো লাগবে।
প্রশ্ন ৪: কোন সময়ে মেসেজ দেয়া উচিত?
১২টার সময় সবাই busy থাকে। ১ জানুয়ারি ভোরবেলা বা সকাল ৭-৯টার মধ্যে মেসেজ দিলে মানুষ বেশি মনযোগ দেয়।
প্রশ্ন ৫: নতুন বছরে সবচেয়ে বড় ভুল কী?
পুরনো বছরের সব টেনশন নিয়ে নতুন বছরে পা দেওয়া। জাস্ট লেট গো।
পোস্ট পড়ে যদি একটুও ভালো লাগে, তাহলে এই লেখাটি আপনার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। কারণ শুধু নতুন বছর নয়, নতুন করে শুরু করার অনুপ্রেরণা সবারই দরকার।
হ্যাপি নিউ ইয়ার আবারও!
