মূল কনটেন্টে যান

সাম্প্রতিক লেখা

মহরম: ইসলামের ইতিহাসে ত্যাগ, সত্য ও ন্যায়ের এক অবিস্মরণীয় স্মরণ দিবস | Maharam Festival-date

মহরম: ইসলামের ইতিহাসে ত্যাগ, সত্য ও ন্যায়ের এক অবিস্মরণীয় স্মরণ দিবস | Maharam

মহরম কী, কেন পালন করা হয় এবং কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনার গুরুত্ব কী? ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মরণ দিবস মহরম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
মহরম: ইসলামের ইতিহাসে ত্যাগ, সত্য ও ন্যায়ের এক অবিস্মরণীয় স্মরণ দিবস

মহরম: ত্যাগ ও সত্যের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহরম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র একটি মাস। ইসলামি হিজরি বছরের প্রথম মাস হলো মহরম। এই মাস শুধু নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর কিন্তু অনুপ্রেরণাময় ঘটনার স্মৃতিও বহন করে।

বিশেষ করে ১০ মহরম, যা আশুরা নামে পরিচিত, মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে গভীর তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এই দিনেই সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা—কারবালার যুদ্ধ।

মহরম কী?

মহরম হলো ইসলামি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস। এটি ইসলামের চারটি পবিত্র মাসের অন্যতম, যেখানে শান্তি, সংযম ও ইবাদতের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিম সম্প্রদায় এই মাসকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে।

কারবালার ঘটনা: ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়

৬৮০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান ইরাকের কারবালা প্রান্তরে সংঘটিত হয় এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

এই যুদ্ধে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।

সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীরা কারবালার প্রান্তরে শহীদ হন।

কারবালার এই ঘটনা আজও মানবতার জন্য ত্যাগ, সাহস ও ন্যায়বিচারের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করা হয়।

কেন মহরম পালন করা হয়?

মহরম পালন করার মূল উদ্দেশ্য হলো:

✅ সত্য ও ন্যায়ের আদর্শ স্মরণ করা

✅ কারবালার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো

✅ আত্মত্যাগের শিক্ষা গ্রহণ করা

✅ মানবতা, ধৈর্য ও নৈতিকতার গুরুত্ব উপলব্ধি করা

আশুরার গুরুত্ব

১০ মহরম বা আশুরা ইসলামের ইতিহাসে একটি বিশেষ দিন।

এই দিনে মুসলিম সম্প্রদায়:

  • দোয়া ও ইবাদত করেন
  • ধর্মীয় আলোচনা সভায় অংশ নেন
  • কারবালার ইতিহাস স্মরণ করেন
  • মানবতার কল্যাণ কামনা করেন

অনেকেই এই দিনে রোজাও পালন করেন।

কারবালার শিক্ষা আজও কেন প্রাসঙ্গিক?

কারবালার ঘটনা শুধু একটি ধর্মীয় ইতিহাস নয়, এটি মানবতার জন্য একটি চিরন্তন বার্তা।

এই ঘটনা আমাদের শেখায়—

✔ অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যাবে না

✔ সত্যের পথে থাকলে ত্যাগ স্বীকার করতে হতে পারে

✔ ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করা মানবিক দায়িত্ব

✔ আদর্শের জন্য আত্মত্যাগ ইতিহাসে অমর হয়ে থাকে

কুশমণ্ডি ও মহরম

কুশমণ্ডি সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মহরম উপলক্ষে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা এবং শোক স্মরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এই দিনটি শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সম্প্রীতি, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা বহন করে।

উপসংহার

মহরম আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সত্য, ন্যায় এবং মানবতার জন্য সংগ্রাম কখনও বৃথা যায় না।

কারবালার প্রান্তরে যে আত্মত্যাগের ইতিহাস রচিত হয়েছিল, তা আজও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

আসুন, মহরমের এই পবিত্র উপলক্ষে আমরা মানবতা, সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করি।

হ্যালো কুশমণ্ডির পক্ষ থেকে

🌙 মহরম আমাদের শেখায়—সত্যের পথে অবিচল থাকাই জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

সকলকে মহরমের পবিত্র স্মরণ দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শান্তির বার্তা।

২০২৬ জামাই ষষ্ঠী কবে | পূজার সময় ও সম্পূর্ণ সূচি 2026 - Jamai Sasthi Puja Date & Time Festival-date

২০২৬ জামাই ষষ্ঠী কবে | পূজার সময় ও সম্পূর্ণ সূচি 2026 - Jamai Sasthi Puja Date & Time

২০২৬ সালের জামাই ষষ্ঠী কবে পালন করা হবে, পূজার শুভ সময়, নিয়ম, গুরুত্ব ও সম্পূর্ণ সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। SEO Friendly বাংলা ব্লগ পোস্ট।

জামাই ষষ্ঠী


🌿 ২০২৬ সালের জামাই ষষ্ঠী কবে?

বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় পারিবারিক উৎসব হলো জামাই ষষ্ঠী। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এই বিশেষ উৎসব পালন করা হয়।

📅 ২০২৬ সালে জামাই ষষ্ঠী পালিত হবে:

👉 ২২ মে ২০২৬, শুক্রবার (সম্ভাব্য বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী)


🪔 জামাই ষষ্ঠী পূজার শুভ সময় ২০২৬

⏰ সম্ভাব্য পূজার শুভ সময়

  • সকাল: ৮:১৫ মিনিট থেকে ১১:৪৫ মিনিট পর্যন্ত
  • বিকাল: ৪:০০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিট পর্যন্ত

⚠️ অঞ্চলভেদে পঞ্জিকার সময় সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।

🌸 জামাই ষষ্ঠী কী?

জামাই ষষ্ঠী হলো বাঙালি হিন্দুদের একটি ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক উৎসব। এই দিনে শাশুড়ি মা জামাইয়ের মঙ্গল কামনায় ষষ্ঠী দেবীর পূজা করেন এবং জামাইকে আদর-আপ্যায়ন করা হয়।

বাংলার সংস্কৃতিতে এই উৎসব পারিবারিক ভালোবাসা, সম্পর্ক ও আনন্দের প্রতীক।


🙏 কেন জামাই ষষ্ঠী পালন করা হয়?

এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো —

✅ জামাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা
✅ পরিবারের সুখ ও শান্তি
✅ সম্পর্ক আরও মজবুত করা
✅ পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় রাখা

🍛 জামাই ষষ্ঠীর বিশেষ আয়োজন

এই দিনে সাধারণত জামাইয়ের জন্য নানা ধরনের পছন্দের খাবার তৈরি করা হয়।

🍲 জনপ্রিয় খাবারের তালিকা

  • ভাত
  • মাছ
  • মাংস
  • চিংড়ি মালাইকারি
  • ইলিশ মাছ
  • পোলাও
  • মিষ্টি ও দই

🌿 পূজার নিয়ম

🪔 কীভাবে জামাই ষষ্ঠী পূজা করা হয়?

১️⃣ সকালে ঘর পরিষ্কার করা হয়
২️⃣ ষষ্ঠী দেবীর পূজা করা হয়
৩️⃣ জামাইকে নতুন পোশাক ও উপহার দেওয়া হয়
৪️⃣ কলাপাতায় ভোজ পরিবেশন করা হয়
৫️⃣ পরিবারের সবাই একসঙ্গে আনন্দ উদযাপন করেন

🎉 জামাই ষষ্ঠীর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

জামাই ষষ্ঠী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির আবেগ ও পারিবারিক বন্ধনের প্রতীক।

এই দিনে —

  • আত্মীয়স্বজন একত্রিত হন
  • পারিবারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়
  • আনন্দ ও হাসির পরিবেশ তৈরি হয়

📌 ২০২৬ জামাই ষষ্ঠী সূচি এ

বিষয়

তথ্য

উৎসবের নাম

জামাই ষষ্ঠী

তারিখ

২২ মে ২০২৬

বার

শুক্রবার

তিথি

জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী

প্রধান পূজা সময়

সকাল ও বিকাল শুভ মুহূর্ত

বিশেষ আয়োজন

জামাই আপ্যায়ন ও ষষ্ঠী পূজা

🌼 উপসংহার

জামাই ষষ্ঠী হলো বাঙালির ঐতিহ্য, ভালোবাসা ও পারিবারিক সম্পর্কের একটি সুন্দর উৎসব। ২০২৬ সালের এই বিশেষ দিনে পরিবারের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটান এবং ঐতিহ্যকে আরও সুন্দরভাবে উদযাপন করুন।

🌿 সবাইকে অগ্রিম শুভ জামাই ষষ্ঠী ❤️

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের পর্বদিনের তালিকা: ছুটির ক্যালেন্ডার এক নজরে । West Bengal Festivals List Festival-date

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের পর্বদিনের তালিকা: ছুটির ক্যালেন্ডার এক নজরে । West Bengal Festivals List

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান উৎসব, সরকারি ছুটি ও পর্বদিনের সম্ভাব্য তালিকা দেখুন। দুর্গাপূজা, ঈদ, কালীপূজা, সরস্বতী পূজা সহ সব গুরুত্বপূর্ণ দিন।[ ২০২৬ ছুটির তালিকা, পশ্চিমবঙ্গ পর্বদিন, West Bengal Holiday List 2026, দুর্গাপূজা ২০২৬, ঈদ ২০২৬, কালীপূজা ২০২৬, বাংলা উৎসব ]
পশ্চিমবঙ্গের পর্বদিনের তালিকা


২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের পর্বদিনের তালিকা: ছুটির ক্যালেন্ডার এক নজরে

নতুন বছর শুরু হলেই অনেকেই প্রথমে খোঁজ করেন—কবে কোন উৎসব, কবে সরকারি ছুটি, আর কবে দীর্ঘ উইকএন্ড পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী এবং ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে এই তথ্যগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ সালেও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে নানা ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উৎসব পালিত হবে। দুর্গাপূজা থেকে ঈদ, সরস্বতী পূজা থেকে বড়দিন—সারা বছর জুড়েই উৎসবের আমেজ থাকবে।

চলুন দেখে নেওয়া যাক ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ পর্বদিনগুলোর সম্ভাব্য তালিকা।

জানুয়ারি ২০২৬

১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার)

ইংরেজি নববর্ষ

নতুন বছরের শুরু। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস ও সামাজিক সংগঠনে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

১২ জানুয়ারি (সোমবার)

স্বামী বিবেকানন্দ জয়ন্তী / জাতীয় যুব দিবস

২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার)

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী

পশ্চিমবঙ্গে দিনটি বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়।

২৬ জানুয়ারি (সোমবার)

প্রজাতন্ত্র দিবস

ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সরস্বতী পূজা

শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক মহলের অন্যতম প্রিয় উৎসব।

স্কুল, কলেজ এবং বিভিন্ন ক্লাবে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

শিবরাত্রি

শিবভক্তদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

মার্চ ২০২৬

দোলযাত্রা ও হোলি

রঙের উৎসব হিসেবে সারা ভারতজুড়ে পরিচিত।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় আবির ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি উদযাপিত হয়।

শবে বরাত

মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় রাত।

এপ্রিল ২০২৬

বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ)

বাংলা ১৪৩৩ সালের সূচনা।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালখাতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা আয়োজন করা হয়।

মহাবীর জয়ন্তী

জৈন সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব।

মে ২০২৬

বুদ্ধ পূর্ণিমা

গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ এবং মহাপরিনির্বাণ স্মরণে পালিত হয়।

রবীন্দ্র জয়ন্তী

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়।

জুন ২০২৬

ঈদ-উল-আযহা (কুরবানি ঈদ) (চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল)

মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব।

জুলাই ২০২৬

মহরম

ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্মরণ দিবস।

আগস্ট ২০২৬

স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট)

ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের স্মরণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

জন্মাষ্টমী

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব।

সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বকর্মা পূজা

শিল্প প্রতিষ্ঠান, কারখানা, গ্যারেজ এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিশেষভাবে পালিত হয়।

পশ্চিমবঙ্গে এই উৎসবের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি।

অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজা

পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় উৎসব।

গুরুত্বপূর্ণ দিনসমূহ:

  • মহালয়া
  • ষষ্ঠী
  • সপ্তমী
  • অষ্টমী
  • নবমী
  • বিজয়া দশমী

দুর্গাপূজার সময় পুরো রাজ্য উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়, দুর্গাপূজার সময় গ্রামের পরিবেশ আর শহরের পরিবেশ—দুটোরই আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।

নভেম্বর ২০২৬

কালীপূজা

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব।

দীপাবলি

আলোর উৎসব হিসেবে সারা দেশে পালিত হয়।

জগদ্ধাত্রী পূজা

বিশেষ করে চন্দননগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয়।

গুরু নানক জয়ন্তী

শিখ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব।

ডিসেম্বর ২০২৬

বড়দিন (২৫ ডিসেম্বর)

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব।

পশ্চিমবঙ্গেও দিনটি আনন্দ ও উৎসবের আবহে পালিত হয়।

পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে জনপ্রিয় উৎসব কোনগুলো?

যদি জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে তালিকা করা হয়, তাহলে সাধারণত এগুলো সবচেয়ে বেশি উদযাপিত হয়:

  1. দুর্গাপূজা
  2. কালীপূজা
  3. সরস্বতী পূজা
  4. ঈদ-উল-ফিতর
  5. ঈদ-উল-আযহা
  6. বাংলা নববর্ষ
  7. দোলযাত্রা
  8. বড়দিন
  9. বিশ্বকর্মা পূজা
  10. জন্মাষ্টমী

ছুটির পরিকল্পনা আগে থেকেই কেন করবেন?

অনেকেই পরিবার নিয়ে ভ্রমণ, আত্মীয়দের বাড়ি যাওয়া বা ব্যক্তিগত কাজের জন্য ছুটির পরিকল্পনা আগে থেকে করেন।

ছুটির তালিকা দেখে:

  • ভ্রমণ পরিকল্পনা করা যায়
  • টিকিট বুকিং সহজ হয়
  • অফিস ছুটি ম্যানেজ করা যায়
  • ব্যবসার পরিকল্পনা করা যায়

মনে রাখবেন

কিছু ধর্মীয় উৎসব যেমন:

  • ঈদ
  • মহরম
  • শবে বরাত

চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে একদিন এদিক-ওদিক হতে পারে।

তাই সরকারি গেজেট প্রকাশের পর চূড়ান্ত তারিখ যাচাই করে নেওয়া উচিত।

FAQ – ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের পর্বদিন নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

১. ২০২৬ সালে দুর্গাপূজা কবে?

সরকারি ক্যালেন্ডার প্রকাশের পর নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত হবে।

২. কুরবানি ঈদ কি নির্দিষ্ট তারিখে হয়?

না, এটি চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল।

৩. পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বড় উৎসব কোনটি?

দুর্গাপূজাকে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে ধরা হয়।

৪. বাংলা নববর্ষ কবে পালিত হয়?

প্রতি বছর ১৪ বা ১৫ এপ্রিলের মধ্যে পহেলা বৈশাখ পালিত হয়।

৫. সরকারি ছুটির তালিকা কোথায় পাওয়া যাবে?

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল হলিডে নোটিফিকেশনে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।

রিডিং টাইম: প্রায় ৬ মিনিট

📅 ২০২৬ সালের উৎসব ও ছুটির পরিকল্পনা এখনই শুরু করুন। পোস্টটি শেয়ার করুন, যাতে পরিবার ও বন্ধুদেরও পর্বদিনের তালিকা সম্পর্কে জানা থাকে।

২০২৬ দুর্গা পূজা ক্যালেন্ডার ও সময়সূচি – Durga Puja 2026 Date & Time (বাংলা ক্যালেন্ডার) Festival-date

২০২৬ দুর্গা পূজা ক্যালেন্ডার ও সময়সূচি – Durga Puja 2026 Date & Time (বাংলা ক্যালেন্ডার)

দুর্গা পূজা বাঙালিদের সবচেয়ে বড় উৎসব। প্রতি বছর আশ্বিন মাসে দেবী দুর্গার আগমনে চারদিকে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। অনেকেই আগে থেকেই জানতে চান ২০২৬ সালের দুর্গা পূজার তারিখ, মহালয়া, ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীর সময়সূচি।

এই পোস্টে আপনি সহজভাবে জানতে পারবেন Durga Puja 2026 Date & Time, সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডার এবং প্রতিটি দিনের গুরুত্ব।

দুর্গা পূজা ক্যালেন্ডার ও সময়সূচি

২০২৬ দুর্গা পূজা ক্যালেন্ডার (Durga Puja 2026 Calendar)

২০২৬ সালে শারদীয়া দুর্গা পূজা অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর তালিকা দেওয়া হলো।

পূজার দিন

তারিখ

বার

মহালয়া

১০ অক্টোবর ২০২৬

শনিবার

মহা পঞ্চমী

১৬ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার

মহা ষষ্ঠী

১৭ অক্টোবর ২০২৬

শনিবার

মহা সপ্তমী

১৮ অক্টোবর ২০২৬

রবিবার

মহা অষ্টমী

১৯ অক্টোবর ২০২৬

সোমবার

মহা নবমী

১৯ অক্টোবর ২০২৬

সোমবার

বিজয়া দশমী

২০ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলবার


মহালয়া ২০২৬ (Mahalaya 2026)

📅 তারিখ: ১০ অক্টোবর ২০২৬

মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয় দেবী দুর্গার আগমনের আহ্বান। এই দিনে ভোরবেলা “মহিষাসুর মর্দিনী” শোনা বাঙালিদের একটি ঐতিহ্য।

মহালয়ার মাধ্যমে পিতৃপক্ষ শেষ হয়ে দেবীপক্ষ শুরু হয়।

মহা ষষ্ঠী ২০২৬ (Durga Puja Maha Shashthi)

📅 তারিখ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬

এই দিন থেকে মূল দুর্গা পূজা শুরু হয়।
এই দিনে প্রধান অনুষ্ঠানগুলো হলো:

  • বোধন
  • অধিবাস
  • আমন্ত্রণ

এই দিনেই দেবী দুর্গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মণ্ডপে আহ্বান করা হয়।

মহা সপ্তমী ২০২৬ (Maha Saptami)

📅 তারিখ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মহা সপ্তমীর সকালে নবপত্রিকা স্নান করা হয়।
কলাবউ স্নান করিয়ে দেবীর পাশে স্থাপন করা হয়।

এই দিন থেকেই পূজার আনন্দ পুরোপুরি শুরু হয়ে যায়।

মহা অষ্টমী ২০২৬ (Maha Ashtami)

📅 তারিখ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গা পূজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো মহা অষ্টমী।

এই দিনের বিশেষ আচার:

  • অষ্টমী পূজা
  • অঞ্জলি
  • কুমারী পূজা
  • সন্ধিপুজা

সন্ধিপুজা অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়।

মহা নবমী ২০২৬ (Maha Navami)

📅 তারিখ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নবমীর দিন দেবী দুর্গার শেষ পূজা করা হয়।
এই দিন মহা আরতি ও হোম যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়।

বিজয়া দশমী ২০২৬ (Vijaya Dashami)

📅 তারিখ: ২০ অক্টোবর ২০২৬

এই দিন দেবী দুর্গার বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গা পূজা শেষ হয়।

বিজয়া দশমীর বিশেষ রীতি:

  • সিঁদুর খেলা
  • দেবীর বিসর্জন
  • বিজয়া প্রণাম
  • মিষ্টি খাওয়া

এই দিন সবাই একে অপরকে “শুভ বিজয়া” জানায়।

দুর্গা পূজার গুরুত্ব

দুর্গা পূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় উৎসব।

এই উৎসবের মূল অর্থ হলো
👉 সৎ শক্তির জয় এবং অসুর শক্তির পরাজয়।

দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই দুর্গা পূজা উদযাপিত হয়।

“পুষ্পা ঞ্জলি”
  • সপ্তমী :- সচন্দনপুষ্প ওবিল্বপত্র নিয়ে বলুন (1) নমঃ আয়ুর্দ্দেহি যশো দেহি ভাগ্যং ভগবতি দেহি মে | পুত্রান্ দেহি ধনং দেহি সর্ব্বান্ কামাশ্চ দেহি মে ||
    (2) হর পাপং হর ক্লেশং হর শোকং হরাসুখম্ | হর রোগং হর ক্ষোভং হর মারীং হরপ্রিয়ে ||
    এষ সচন্দন-পুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলিঃ নমঃ দক্ষযঞ্জ বিনাশিন্যে মহাঘোরায়ৈ যোগিনী কোটিপরিবৃতায়ৈ ভদ্রকাল্যৈ ভগবত্যৈ দুর্গায়ৈ নমঃ ||
    (3) সংগ্রামে বিজয়ং দেহি ধনং দেহি সদা গৃহে | ধর্ম্মার্থকামসম্পত্তিং দেহি দেবী নমোস্তু তে ||
এষ সচন্দন-পুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলিঃ নমঃ দক্ষযঞ্জ বিনাশিন্যে মহাঘোরায়ৈ যোগিনী কোটিপরিবৃতায়ৈ ভদ্রকাল্যৈ ভগবত্যৈ দুর্গায়ৈ নমঃ ||
  • প্রণাম মন্ত্র :- সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বাথসাধিকে | শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোস্তু তে ||
  • অষ্টমী :- (1) নমঃ মহিষগ্নি মহামায়ে চামুন্ডে মুন্ডমালিনি | আয়ুরারোগ্য বিজয়ং দেহি দেবী নমোস্তুতে ||
    (2) নমঃ সৃষ্টিস্তিতিবিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনি | গুণাশ্রয়ে গুণময়ে নারায়ণি নমোস্তু তে ||
    (3) নমঃ শরণাগতদীর্নাত পরিত্রাণপরায়ণে | সর্বস্যাতিহরে দেবী নারায়ণি নমোস্তু তে ||
এষ সচন্দন-পুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলিঃ নমঃ দক্ষযঞ্জ বিনাশিন্যে মহাঘোরায়ৈ যোগিনী কোটিপরিবৃতায়ৈ ভদ্রকাল্যৈ ভগবত্যৈ দুর্গায়ৈ নমঃ ||
  • প্রণাম মন্ত্র :- জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী | দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোস্তু তে ||
  • নবমী :- (1) কালি কালি মহাকালি কালিকে কালরাত্রিকে | ধম্মকামপ্রদে দেবি নারায়ণি নমোস্তু তে ||
    (2) লক্ষ্মি লজ্জে মহাবিদ্যে শ্রদ্ধে পুষ্টি স্বধে ধ্রুবে | মহারাত্রি মহামায়ে নারায়ণি নমোস্তু তে ||
    (3) কলাকাষ্ঠাদিরূপেণ পরিণামপ্রদায়িনি | বিশ্বস্যোপরতৌ শক্তে নারায়ণি নমোস্তু তে ||
এষ সচন্দন-পুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলিঃ নমঃ দক্ষযঞ্জ বিনাশিন্যে মহাঘোরায়ৈ যোগিনী কোটিপরিবৃতায়ৈ ভদ্রকাল্যৈ ভগবত্যৈ দুর্গায়ৈ নমঃ ||
  • প্রনাম মন্ত্র :- সর্বস্বরূপে সর্বেশে সর্বশক্তিসমন্বি তে | ভয়েভ্যস্ত্রাহি নো দেবি দুর্গে দেবি নমোস্তু তে ||
জেনে নিন- ২০২৭ দুর্গা পূজা সময় ও তারিখ

Durga Puja 2026 date, ২০২৬ দুর্গা পূজার তারিখ, Durga Puja 2026 calendar, Mahalaya 2026 date, Durga Puja 2026 West Bengal, Durga Puja 2026 Bengali calendar
কালী পূজা ২০২৬: অমাবস্যার তিথি ও নির্ঘণ্ট! জানুন মা শ্যামার পূজার সঠিক সময় ও তারিখ | Kali Puja Festival-date

কালী পূজা ২০২৬: অমাবস্যার তিথি ও নির্ঘণ্ট! জানুন মা শ্যামার পূজার সঠিক সময় ও তারিখ | Kali Puja

শরতের হিমেল হাওয়ার পরেই যখন হেমন্তের আগমন ঘটে, তখনই চারপাশ সেজে ওঠে প্রদীপের আলোয়। বাঙালির কাছে কালী পুজো বা শ্যামা পুজো মানেই এক অন্যরকম আবেগ। দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের প্রতীক মা কালীর আরাধনা নিয়ে আমাদের প্রস্তুতির শেষ থাকে না।

কালী পূজা

আপনি কি ২০২৬ সালের কালী পূজার সঠিক তারিখ এবং সময় খুঁজছেন? তবে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকের ব্লগে আমরা জানাব ২০২৬ সালের শ্রী শ্রী শ্যামা পূজার নির্ঘণ্ট ও বিশেষ কিছু তথ্য।


১. ২০২৬ সালে কালী পূজা কবে? (তারিখ)

২০২৬ সালে কালী পূজা বা দীপাবলি পালিত হবে ৮ই নভেম্বর, রবিবার (বাংলা তারিখ অনুযায়ী এটি কার্তিক মাসের শেষ দিকে পড়বে)।

এই দিনটিতেই সারা দেশ জুড়ে অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে মা কালীর আরাধনা করা হবে এবং ঘরে ঘরে দীপাবলির আলো জ্বালানো হবে।

২. শ্রী শ্রী শ্যামা পূজার সময়সূচি ও অমাবস্যার তিথি

কালী পূজা মূলত অমাবস্যা তিথিতে নিশি রাতে করা হয়। ২০২৬ সালের পূজার সম্ভাব্য সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো (বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা ভেদে সামান্য সময়ের পার্থক্য হতে পারে):

  • অমাবস্যা তিথি শুরু: ৮ই নভেম্বর (রবিবার) বিকেলে।
  • অমাবস্যা তিথি শেষ: ৯ই নভেম্বর (সোমবার) বিকেলে।
  • নিশিপালন ও প্রধান পূজা: ৮ই নভেম্বর দিবাগত রাতেই মূল কালী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: পূজার সঠিক লগ্ন বা মুহূর্তগুলো স্থানীয় পঞ্জিকা দেখে পুনরায় মিলিয়ে নেওয়া ভালো, কারণ স্থানভেদে কয়েক মিনিটের এদিক-ওদিক হতে পারে।


৩. কেন আমরা মা শ্যামার পূজা করি?

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, যখন অসুরদের অত্যাচারে স্বর্গ-মর্ত্য টালমাটাল হয়ে উঠেছিল, তখন দেবী দুর্গার ললাট থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন মা কালী। তিনি আসুরিক শক্তি ধ্বংস করে সৃষ্টিকে রক্ষা করেন।

  • অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা: কালী পূজা আমাদের শেখায় মনের ভেতরের অন্ধকার আর ভয়কে জয় করে আলোর পথে চলতে।
  • শক্তির আরাধনা: গৃহস্থ বাড়িতে মা কালীর ‘লক্ষ্মী রূপ’ এবং মন্দিরে বা শ্মশানে ‘করাল বদনী’ রূপে তাঁর পূজা করা হয়।

৪. ২০২৬ কালী পূজার প্রস্তুতি নেবেন কীভাবে?

১. ঘরবাড়ি পরিষ্কার: দীপাবলির আগে ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়। ২. দীপদান: পূজার সন্ধ্যায় বাড়ির প্রবেশদ্বার ও প্রতিটি কোণ প্রদীপ দিয়ে সাজিয়ে তুলুন। ৩. ভোগ ও প্রসাদ: মা শ্যামার প্রিয় খিচুড়ি ভোগ, লাবড়া আর বলির পর নিরামিষ মাংসের প্রসাদ রান্নার প্রস্তুতি আগে থেকেই সেরে রাখুন। ৪. সচেতনতা: বাজি পোড়ানোর সময় অবশ্যই ছোটদের এবং পশুপাখিদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখুন।


৫. শেষ কথা

২০২৬ সালের কালী পূজা আপনার জীবনে নিয়ে আসুক সুখ, শান্তি আর সমৃদ্ধি। মা কালীর আশীর্বাদে আমাদের সবার মনের অন্ধকার দূর হোক। মনে রাখবেন, মা কেবল শক্তির দেবী নন, তিনি পরম করুণাময়ী মাতাও বটে।

আপনার এলাকায় কালী পূজার বিশেষ আকর্ষণ কী? বড় কোনো প্যান্ডেল নাকি বাড়ির পূজা— কোনটা আপনার বেশি প্রিয়? কমেন্টে আমাদের জানান!

ছট পূজা ২০২৬: ভক্তি, শুদ্ধতা এবং সূর্য বন্দনার এক পবিত্র মহোৎসব । Chhath Puja Festival-date

ছট পূজা ২০২৬: ভক্তি, শুদ্ধতা এবং সূর্য বন্দনার এক পবিত্র মহোৎসব । Chhath Puja

২০২৬ সালের ছট পূজা কবে? জানুন ছট পূজার নিয়ম, মাহাত্ম্য এবং কেন এই পূজা পরিবেশবান্ধব। সূর্যদেবের আরাধনার এই মহা উৎসব নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।
Chhath Puja


দীপাবলির কয়েকদিন পরেই যখন আকাশ পরিষ্কার হয়ে আসে এবং হিমেল হাওয়ার ছোঁয়া লাগে, তখনই শুরু হয় লোক-আস্থার মহাপর্ব— ছট পূজা। এটি কেবল একটি পূজা নয়, এটি ত্যাগ, সংযম এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর এক অনন্য মাধ্যম।

আজকের ব্লগে আমি আপনাদের সাথে ভাগ করে নেব ছট পূজার সেই বিশেষ অনুভূতিগুলো, যা আমাদের প্রতিটি বাঙালির মনেও জায়গা করে নিয়েছে।

কেন ছট পূজা অনন্য?

ছট পূজা হলো বিশ্বের একমাত্র উৎসব যেখানে কেবল উদীয়মান সূর্য নয়, বরং অস্তগামী সূর্যকেও অর্ঘ্য নিবেদন করা হয়। এটি আমাদের জীবনের এক গভীর সত্য মনে করিয়ে দেয়— যাঁর শেষ আছে, তাঁর আবার নতুন শুরুও আছে। এই পূজায় কোনো মূর্তি উপাসনা হয় না, সরাসরি শক্তির উৎস সূর্যদেব এবং তাঁর শক্তি ‘ছট মৈয়া’-র আরাধনা করা হয়।

চার দিনের কঠিন ব্রত: আত্মশুদ্ধির পথ

ছট পূজা কোনো সাধারণ উপবাস নয়। এটি টানা চার দিনের এক কঠিন সাধনা:

  1. নাহায়-খায়: প্রথম দিন স্নান সেরে শুদ্ধাচারে নিরামিষ আহার গ্রহণ।

  2. খরনা: দ্বিতীয় দিন সারাদিন উপবাসের পর সন্ধ্যায় গুড়-চালের ক্ষীর খেয়ে শুরু হয় ৩৬ ঘণ্টার নির্জলা উপবাস।

  3. সন্ধ্যা অর্ঘ্য: তৃতীয় দিন বিকেলে নতুন পোশাকে সেজে ডালা নিয়ে ঘাটে যাওয়া এবং অস্তগামী সূর্যকে প্রণাম জানানো।

  4. ঊষা অর্ঘ্য: চতুর্থ দিন ভোরে উদীয়মান সূর্যকে প্রণাম জানিয়ে ব্রত ভঙ্গ করা।

পরিবেশবান্ধব উৎসবের এক উদাহরণ

ছট পূজা আমাদের শেখায় কিভাবে প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে থাকতে হয়। বাঁশের ঝুড়ি (ডালা), মাটির প্রদীপ, কলা, আদা, লেবু আর আখের মতো প্রাকৃতিক উপাদানেই সাজানো হয় পুজোর ডালি। গঙ্গার ঘাটে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হলেও এক অপূর্ব শৃঙ্খলা আর পবিত্রতা বজায় থাকে।

সেই জিভে জল আনা 'ঠেকুয়া'

ছট পূজার প্রসাদের কথা হবে আর 'ঠেকুয়া'-র নাম আসবে না, তা কি হয়? গমের আটা, গুড় আর ঘি দিয়ে তৈরি এই প্রসাদের স্বাদ অন্য সব মিষ্টিকে হার মানায়। এর গন্ধ পেলেই বোঝা যায় মা আসছেন!

২০২৬ সালের ছট পূজার নির্ঘণ্ট

২০২৬ সালে ছট পূজা পালিত হবে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে। যারা বাড়িতে বা ঘাটে পূজা করার পরিকল্পনা করছেন, তারা এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিন।

উপসংহার

ছট পূজা আমাদের শেখায় ভেদাভেদ ভুলে একসাথে প্রকৃতির আরাধনা করতে। গঙ্গার ঘাটে যখন হাজার হাজার প্রদীপ জ্বলে ওঠে, তখন মনে হয় আমাদের সংস্কৃতি কত সমৃদ্ধ।

আপনার এলাকায় ছট পূজা কেমন হয়? ঘাটে যাওয়ার কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা থাকলে আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না!

2027 পশ্চিমবঙ্গের ছুটির তালিকা : সরকারি ও বেসরকারি ছুটির সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডার | West Bengal 2027 Holiday List Festival-date

2027 পশ্চিমবঙ্গের ছুটির তালিকা : সরকারি ও বেসরকারি ছুটির সম্পূর্ণ ক্যালেন্ডার | West Bengal 2027 Holiday List

বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২০২৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ছুটির তালিকা। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর – কোন তারিখে কী ছুটি, পরিকল্পনা করে ফেলুন।

West Bengal Holiday List

শুরু করার আগে একটা কথা

২০২৭ সালের ছুটি দেখার আগে একটা বিষয় জেনে রাখা ভালো – নীচের ছুটির তালিকা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের ভিত্তিতে তৈরি নয়। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে কিছু ধর্মীয় ছুটির তারিখ বদলাতে পারে। সরকারি চাকরিজীবী থেকে শুরু করে বেসরকারি অফিসের কর্মী, ছাত্রছাত্রী বা ব্যবসায়ী – সবার জন্যই এই ক্যালেন্ডার কাজে লাগবে। তাহলে ২০২৭ সালের ছুটির হিসেবে দেখে নেওয়া যাক।

জানুয়ারি মাস দিয়ে শুরু

বছরের প্রথম মাসেই পড়ে দুটি জাতীয় দিবস আর একটি সাংস্কৃতিক ছুটি।

তারিখদিননাম
১২ জানুয়ারীমঙ্গলবারস্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন
২৩ জানুয়ারীশনিবারনেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন
২৬ জানুয়ারীমঙ্গলবারপ্রজাতন্ত্র দিবস

নেতাজির জন্মদিন আর প্রজাতন্ত্র দিবস সপ্তাহের তিন দিনের ব্যবধানে পড়েছে। এই দুই দিন ছাড়াও ২৩ জানুয়ারী বসন্তপঞ্চমীর ছুটিও একসঙ্গে পড়েছে – কারণ সেদিন পঞ্জিকা অনুযায়ী বসন্তপঞ্চমী।

ফেব্রুয়ারি – শীতের মাঝে একটি রঙিন ছুটি

ফেব্রুয়ারি মাসে একটি মাত্র বড় ছুটি। ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ বৃহস্পতিবার পড়েছে বসন্তপঞ্চমী। এই দিন বাংলার ঘরে ঘরে সরস্বতী পুজো হয়।

মার্চ – দোল আর ঈদ দুটোই

মার্চ মাসে দুটি প্রধান ছুটি পড়েছে।

  • ১০ মার্চ (বুধবার): রমজান / ঈদ-উল-ফিতর (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল)

  • ২২ মার্চ (সোমবার): দোলযাত্রা

এইবার দোলযাত্রা সোমবার পড়ায় টানা তিনদিন ছুটি পাওয়ার সুযোগ আছে। ২০-২১ শনিবার-রবিবার মিলিয়ে দোল উৎসব বেশ জমে উঠবে।

এপ্রিল – বর্ষবরণের মাস

এপ্রিল মাসের শুরুটাই ছুটিতে মোড়ানো।

তারিখদিননাম
২৬ মার্চশুক্রবারগুড ফ্রাইডে
১৪ এপ্রিলবুধবারআম্বেদকর জয়ন্তী
১৫ এপ্রিলবৃহস্পতিবারপয়লা বৈশাখ (বঙ্গাব্দ ১৪৩৪)

গুড ফ্রাইডে মার্চের শেষে পড়লেও ছুটির ক্যালেন্ডারে এপ্রিলের আগেই চলে আসে। ১৪ ও ১৫ এপ্রিল – দুইদিন পরপর ছুটি। পয়লা বৈশাখ বৃহস্পতিবার হওয়ায় বঙ্গাব্দের সকালে হালখাতা আর পান্তা-ইলিশের আয়োজন করাটা অনেকের জন্যই সহজ হবে।

মে – পাঁচটি ছুটির মাস

মে মাস ২০২৭ সালে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ছুটি নিয়ে আসছে।

  • ১ মে (শনিবার): শ্রমদিবস ও বুদ্ধ পূর্ণিমা (দুটি ছুটি একই দিনে পড়েছে)

  • ৯ মে (রবিবার): রবীন্দ্রজয়ন্তী

  • ১৭ মে (সোমবার): বকরি ঈদ / ঈদ-উল-জোহা (চাঁদনির্ভর)

একই দিনে শ্রমদিবস আর বুদ্ধ পূর্ণিমা পড়ায় কোনো অফিস বা স্কুলে অতিরিক্ত ছুটি বাড়বে না। রবীন্দ্রজয়ন্তী রবিবার হওয়ায় কোনো ক্ষতিপূরণের ছুটি কিনা – সেটা নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানা যাবে। বকরি ঈদ সোমবার পড়ায় সপ্তাহের শুরুতেই টানা তিনদিনের ছুটি মিলবে (১৭, ১৮, ১৯ মে) – তবে ১৮ ও ১৯ মে সরকারি ছুটি না, তাই নিজের প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে নিতে হবে।

জুন – একটি মাত্র ছুটি

১৫ জুন (মঙ্গলবার) পড়েছে মহরম। এটি ইসলামিক ক্যালেন্ডারের প্রথম মাসের দশম দিন। এই ছুটির দিনটিও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।

আগস্ট – স্বাধীনতার ছুটি

১৫ আগস্ট (রবিবার) স্বাধীনতা দিবস। ২০২৭ সালে এটি রবিবার হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আলাদা ছুটি থাকবে কিনা – খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণত রবিবার জাতীয় দিবস পড়লে পরের কার্যদিবসে ছুটি দেওয়া হয়।

সেপ্টেম্বর – পিতৃপক্ষ ও দুর্গাপুজোর আগাম号召

  • ২৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার): মহালয়া

মহালয়ার দিন থেকেই দেবীপক্ষের সূচনা। এই দিনটি পশ্চিমবঙ্গের ঘরে ঘরে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, যদিও সব প্রতিষ্ঠানে বন্ধ থাকে না।

অক্টোবর – বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব

দুর্গাপুজো ২০২৭ সালে অক্টোবরেই পড়েছে। পুরো তালিকাটা দেখে নেওয়া যাক –

তারিখদিননাম
৬ অক্টোবরবুধবারমহাষষ্ঠী
৮ অক্টোবরশুক্রবারমহাসপ্তমী
৯ অক্টোবরশনিবারমহাঅষ্টমী
১০ অক্টোবররবিবারমহানবমী ও বিজয়া দশমী
২৯ অক্টোবরশুক্রবারলক্ষ্মীপুজো ও দীপাবলি

দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ করো – (১) ২০২৭ সালে মহাঅষ্টমী ও মহানবমী টানা পড়েনি, একদিনের ফাঁক আছে। (২) বিজয়া দশমী রবিবার, তাই কিছু প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী বিসর্জনের জন্য পরের দিন সোমবার ছুটি দেওয়া হতে পারে। (৩) দীপাবলি ও লক্ষ্মীপুজো একইদিন ২৯ অক্টোবর পড়েছে।

নভেম্বর ও ডিসেম্বর – বছরের শেষ ছুটি

  • ১৪ নভেম্বর (রবিবার): গুরু নানক জয়ন্তী

  • ২৫ ডিসেম্বর (শনিবার): বড়দিন (ক্রিসমাস)

গুরু নানকের জন্মদিন রবিবার পড়ায় আলাদা ছুটির দিন কমে যেতে পারে। বড়দিন শনিবার – তাই শুক্রবার অনেক বেসরকারি অফিস বাড়তি ছুটি দিতে পারে।

মোট ছুটি কতদিন?

২০২৭ সালে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে আনুমানিক ছুটির দিন সংখ্যা:

  • প্রায় ২০-২২টি ছুটি জাতীয় ও রাজ্যস্তরীয়

  • ৩ টি রবিবার ছাড়া অন্যান্য ছুটি কার্যদিবসে পড়েছে

  • সবচেয়ে বেশি ছুটি – অক্টোবর (পুজোকে ঘিরে)

  • সবচেয়ে কম ছুটি – ফেব্রুয়ারি ও জুন

বেসরকারি অফিসের ক্ষেত্রে দোল, পুজো ও দীপাবলির চারপাশের দিনগুলোতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ছুটি দিয়ে থাকে। তাই আলোচনা করে আগেভাগেই প্ল্যান করে রাখা ভালো।

শেষ কথা – ক্যালেন্ডারটা হাতের কাছেই রাখো

ছুটির দিন মানেই বিশ্রাম, ঘুরতে যাওয়া বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। ২০২৭ সালের শুরুতেই এই ক্যালেন্ডারটা হাতে নিয়ে নিলে বাকি বছর পরিকল্পনা মাফিক চলবে।

তবে একটা কথা ভুললে চলবে না – উল্লিখিত ধর্মীয় ছুটির বেশিরভাগই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। আর সরকারি ছুটির চূড়ান্ত তালিকা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হোম অ্যান্ড হিল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে জেনে নেওয়া সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।

সূত্র: PublicHolidays.in (বাংলা ভার্সন) ও চাঁদনির্ভর ছুটির আনুমানিক ক্যালেন্ডার।

★ আপনার প্রিয় তালিকা

তালিকা খালি আছে।

ক্যাটাগরি