সব খবর এখন আপনার মোবাইলে. ডাউনলোড অ্যাপ

জগদ্ধাত্রী পূজা: দেবী দুর্গারই অন্য রূপ? কেন ও কীভাবে এই পুজোর প্রচলন হলো? Jagadhatri Puja

শারদীয়া দুর্গোৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার উৎসবের আমেজ। চারদিকে যখন হিমেল হাওয়ার পরশ, তখনই মর্ত্যে আগমন ঘটে দেবী জগদ্ধাত্রীর।

শারদীয়া দুর্গোৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার উৎসবের আমেজ। চারদিকে যখন হিমেল হাওয়ার পরশ, তখনই মর্ত্যে আগমন ঘটে দেবী জগদ্ধাত্রীর। কিন্তু আমরা কি জানি, এই পুজোর মাহাত্ম্য ঠিক কোথায়? কেনই বা মা দুর্গাকে আবার ‘জগদ্ধাত্রী’ রূপে পুজো করা হয়?

আজকের ব্লগে আমরা জানব জগদ্ধাত্রী পুজোর আদি অন্ত এবং এর পেছনে থাকা কিছু চমকপ্রদ কাহিনী।

 
জগদ্ধাত্রী পূজা

১. জগদ্ধাত্রী কে? (পরিচয় ও রূপ)

‘জগদ্ধাত্রী’ শব্দটির অর্থ হলো— যিনি জগৎকে ধারণ করে আছেন। তিনি দেবী দুর্গারই একটি বিশেষ রূপ। মা দুর্গা যখন মহিষাসুরকে বধ করেন, তখন দেবতারা খানিকটা অহংকারী হয়ে পড়েছিলেন। তারা ভেবেছিলেন তাদের অস্ত্র ও শক্তির মাধ্যমেই অসুর নিধন সম্ভব হয়েছে। দেবতাদের সেই দর্প চূর্ণ করতেই দেবী এই চতুর্ভুজা মূর্তিতে আবির্ভূত হন।

মূর্তির বৈশিষ্ট্য:

  • দেবী সিংহবাহিনী এবং চতুর্ভুজা।

  • তাঁর চার হাতে থাকে শঙ্খ, চক্র, ধনুক ও বাণ।

  • পায়ে থাকে মৃত হস্তীমুণ্ড (যাকে 'করীন্দ্রাসুর' বলা হয়)।

২. কেন এই পূজা করা হয়? (পৌরাণিক প্রেক্ষাপট)

পুরাণ মতে, যক্ষ-দেবতাদের মনে হওয়া ‘অহংকার’ দূর করতে দেবী এক পরম শক্তিরূপে ধরা দেন। দেবী দেবতাদের সামনে একটি তৃণখণ্ড বা ঘাসের টুকরো রাখেন এবং তা ধ্বংস করতে বলেন। কিন্তু অগ্নিদেব সেই ঘাস পোড়াতে পারেননি, বায়ুদেব তা ওড়াতে পারেননি। শেষে দেবতারা বুঝতে পারেন যে, ব্রহ্মার মূল শক্তি আসলে দেবীর মধ্যেই নিহিত। দেবতাদের সেই অহংকার দমনের প্রতীক হিসেবেই জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা।

৩. বাংলায় জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাস: কৃষ্ণনগর ও চন্দননগর

বাংলাদেশে এবং পশ্চিমবঙ্গে এই পুজোর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। তবে জগদ্ধাত্রী পুজো বললেই দুটি জায়গার নাম সবার আগে মাথায় আসে:

  • কৃষ্ণনগর: মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় এই পুজোর প্রচলন করেন। লোকগাথা অনুযায়ী, নবাব আলিবর্দী খাঁ যখন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে বন্দি করেছিলেন, তখন তিনি দুর্গাপুজো করতে পারেননি। কারাগারে বসেই তিনি স্বপ্নে দেবীর আদেশ পান এবং মুক্ত হয়ে কার্তিক মাসের শুক্লা নবমীতে এই পুজো শুরু করেন।

  • চন্দননগর: চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো বিখ্যাত তার বিশাল প্রতিমা এবং আলোকসজ্জার জন্য। ফরাসি স্থাপত্য আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে এই পুজো এখন বিশ্ববিখ্যাত।


৪. কেন জগদ্ধাত্রী পুজো আপনার দেখা উচিত?

১. ঐতিহ্য ও শিল্পকলা: বিশাল বড় বড় প্যান্ডেল আর সাবেকী প্রতিমা দেখার অভিজ্ঞতা একদম আলাদা। ২. আলোকসজ্জা: বিশেষ করে চন্দননগরের আলোর কাজ না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন যে সাধারণ টুনি বাল্ব দিয়ে কী অসাধারণ শিল্প তৈরি করা যায়। ৩. বিসর্জন শোভাযাত্রা: রাজকীয় ঢঙে দেবীর বিদায় অনুষ্ঠান দেখার মতো এক দৃশ্য।


৫. শেষ কথা

জগদ্ধাত্রী পুজো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যত বড় শক্তিই হোক না কেন, অহংকার পতনের মূল। পরম করুণাময়ী মা জগদ্ধাত্রী কেবল জগৎকে ধারণই করেন না, তিনি আমাদের অন্তরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথে নিয়ে যান।

আপনার এলাকায় জগদ্ধাত্রী পুজো কেমন হয়? অথবা চন্দননগরের পুজো দেখার কোনো পরিকল্পনা আছে কি? আমাদের কমেন্ট করে জানান!

Post a Comment

NextGen Digital Welcome to WhatsApp chat
Howdy! How can we help you today?
Type here...