সব খবর এখন আপনার মোবাইলে. ডাউনলোড অ্যাপ

দোল পূর্ণিমা: রঙের জোয়ারে কেন ভাসে গোটা দেশ? জানুন এর আসল মাহাত্ম্য | Dol Yatra

ওরে গৃহবাসী, খোল দ্বার খোল, লাগল যে দোল।" দোল বা হোলি মানেই একরাশ আনন্দ, এক মুঠো আবির আর অনেক দিনের জমে থাকা অভিমান ধুয়ে ফেলার দিন

বসন্তের বাতাস বইতে শুরু করলেই বাঙালির মনে পড়ে যায়, "ওরে গৃহবাসী, খোল দ্বার খোল, লাগল যে দোল।" দোল বা হোলি মানেই একরাশ আনন্দ, এক মুঠো আবির আর অনেক দিনের জমে থাকা অভিমান ধুয়ে ফেলার দিন। কিন্তু আপনারা কি জানেন, কেন আমরা এই দিনটিতে রঙের খেলায় মেতে উঠি? বা কেনই বা একে 'দোলযাত্রা' বলা হয়?

আজকের ব্লগে আমরা দোল এবং হোলির সেই অজানা ইতিহাস ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করব।

দোল পূর্ণিমা:

 


১. দোলযাত্রা কী? (শান্তিনিকেতন থেকে বৃন্দাবন)

দোলযাত্রা মূলত হিন্দুদের একটি ধর্মীয় উৎসব। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধিকার বিগ্রহকে দোলায় চড়িয়ে পুজো করা হয় বলে এর নাম দোলযাত্রা। বিশেষ করে শান্তিনিকেতনের ‘বসন্তোৎসব’ এই দিনটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যেখানে রঙের চেয়েও সংস্কৃতির ছোঁয়া বেশি পাওয়া যায়।

২. কেন এই পূজা করা হয়? (পৌরাণিক প্রেক্ষাপট)

দোল বা হোলি পালনের পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ প্রচলিত আছে:

  • রাধাকৃষ্ণের প্রেমগাথা: পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, এই দিনটিতেই বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ শ্রীরাধা এবং অন্য গোপিনীদের সাথে আবির ও রঙের খেলায় মেতে উঠেছিলেন। সেই থেকেই ভালোবাসার এই উৎসবটি ‘দোলযাত্রা’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

  • হোলিকা দহন: ভারতের অনেক জায়গায় দোলের আগের দিন ‘ন্যাড়াপোড়া’ বা ‘হোলিকা দহন’ করা হয়। ভক্ত প্রহ্লাদকে পুড়িয়ে মারার জন্য দানবরাজ হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা তাকে নিয়ে আগুনে বসেন। কিন্তু শ্রীবিষ্ণুর আশীর্বাদে প্রহ্লাদ বেঁচে যান এবং হোলিকা ভস্মীভূত হন। এটি মূলত অশুভ শক্তির বিনাশ আর শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক

৩. আধ্যাত্মিক তাৎপর্য: রঙের সমতায় সব এক

রঙের উৎসবে আমরা যখন একে অপরকে আবির মাখাই, তখন কে ধনী, কে গরিব বা কার কী জাত— সেসব ভুলে যাই। সবাই তখন রঙের চাদরে ঢাকা। দোল আমাদের শেখায়, জীবনের দুঃখ-কষ্ট ভুলে গিয়ে বসন্তের মতো রঙিন হয়ে বাঁচতে।


৪. আধুনিক দোল ও সচেতনতা

উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে আমাদের নজর রাখা জরুরি।

  • ভেষজ আবির ব্যবহার করুন: রাসায়নিক রং ত্বকের ক্ষতি করে, তাই চেষ্টা করুন প্রাকৃতিক রং বা ভেষজ আবির ব্যবহার করতে।

  • পশু-পাখির যত্ন: অবলা জীবজন্তু যেমন কুকুর বা বিড়ালের গায়ে রং দেবেন না, এটি তাদের জন্য মারাত্মক হতে পারে।

  • সম্মতি জরুরি: ‘বুর না মানো হোলি হ্যায়’ বলে কারো অনিচ্ছায় তাকে রং মাখানো ঠিক নয়।


৫. শেষ কথা

দোল মানেই মিলনের উৎসব। পুরনো সব গ্লানি ভুলে গিয়ে প্রিয়জনের হাতটি ধরার দিন। এই বসন্তে আপনার জীবনও যেন রাধাকৃষ্ণের প্রেমের মতো পবিত্র আর রঙের মতো রঙিন হয়ে ওঠে, সেই কামনাই করি।

এই দোলে আপনার সবথেকে প্রিয় রং কোনটি? আর দোল উপলক্ষে বাড়িতে স্পেশাল কী রান্না হচ্ছে? কমেন্ট করে আমাদের সাথে শেয়ার করুন!


Post a Comment

NextGen Digital Welcome to WhatsApp chat
Howdy! How can we help you today?
Type here...