ছট পূজা ২০২৬: ভক্তি, শুদ্ধতা এবং সূর্য বন্দনার এক পবিত্র মহোৎসব । Chhath Puja

ছট পূজা ২০২৬: ভক্তি, শুদ্ধতা এবং সূর্য বন্দনার এক পবিত্র মহোৎসব । Chhath Puja

ছট পূজা ২০২৬: ভক্তি, শুদ্ধতা এবং সূর্য বন্দনার এক পবিত্র মহোৎসব । Chhath Puja
২০২৬ সালের ছট পূজা কবে? জানুন ছট পূজার নিয়ম, মাহাত্ম্য এবং কেন এই পূজা পরিবেশবান্ধব। সূর্যদেবের আরাধনার এই মহা উৎসব নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।
Chhath Puja


দীপাবলির কয়েকদিন পরেই যখন আকাশ পরিষ্কার হয়ে আসে এবং হিমেল হাওয়ার ছোঁয়া লাগে, তখনই শুরু হয় লোক-আস্থার মহাপর্ব— ছট পূজা। এটি কেবল একটি পূজা নয়, এটি ত্যাগ, সংযম এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর এক অনন্য মাধ্যম।

আজকের ব্লগে আমি আপনাদের সাথে ভাগ করে নেব ছট পূজার সেই বিশেষ অনুভূতিগুলো, যা আমাদের প্রতিটি বাঙালির মনেও জায়গা করে নিয়েছে।

কেন ছট পূজা অনন্য?

ছট পূজা হলো বিশ্বের একমাত্র উৎসব যেখানে কেবল উদীয়মান সূর্য নয়, বরং অস্তগামী সূর্যকেও অর্ঘ্য নিবেদন করা হয়। এটি আমাদের জীবনের এক গভীর সত্য মনে করিয়ে দেয়— যাঁর শেষ আছে, তাঁর আবার নতুন শুরুও আছে। এই পূজায় কোনো মূর্তি উপাসনা হয় না, সরাসরি শক্তির উৎস সূর্যদেব এবং তাঁর শক্তি ‘ছট মৈয়া’-র আরাধনা করা হয়।

চার দিনের কঠিন ব্রত: আত্মশুদ্ধির পথ

ছট পূজা কোনো সাধারণ উপবাস নয়। এটি টানা চার দিনের এক কঠিন সাধনা:

  1. নাহায়-খায়: প্রথম দিন স্নান সেরে শুদ্ধাচারে নিরামিষ আহার গ্রহণ।

  2. খরনা: দ্বিতীয় দিন সারাদিন উপবাসের পর সন্ধ্যায় গুড়-চালের ক্ষীর খেয়ে শুরু হয় ৩৬ ঘণ্টার নির্জলা উপবাস।

  3. সন্ধ্যা অর্ঘ্য: তৃতীয় দিন বিকেলে নতুন পোশাকে সেজে ডালা নিয়ে ঘাটে যাওয়া এবং অস্তগামী সূর্যকে প্রণাম জানানো।

  4. ঊষা অর্ঘ্য: চতুর্থ দিন ভোরে উদীয়মান সূর্যকে প্রণাম জানিয়ে ব্রত ভঙ্গ করা।

পরিবেশবান্ধব উৎসবের এক উদাহরণ

ছট পূজা আমাদের শেখায় কিভাবে প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে থাকতে হয়। বাঁশের ঝুড়ি (ডালা), মাটির প্রদীপ, কলা, আদা, লেবু আর আখের মতো প্রাকৃতিক উপাদানেই সাজানো হয় পুজোর ডালি। গঙ্গার ঘাটে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হলেও এক অপূর্ব শৃঙ্খলা আর পবিত্রতা বজায় থাকে।

সেই জিভে জল আনা 'ঠেকুয়া'

ছট পূজার প্রসাদের কথা হবে আর 'ঠেকুয়া'-র নাম আসবে না, তা কি হয়? গমের আটা, গুড় আর ঘি দিয়ে তৈরি এই প্রসাদের স্বাদ অন্য সব মিষ্টিকে হার মানায়। এর গন্ধ পেলেই বোঝা যায় মা আসছেন!

২০২৬ সালের ছট পূজার নির্ঘণ্ট

২০২৬ সালে ছট পূজা পালিত হবে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে। যারা বাড়িতে বা ঘাটে পূজা করার পরিকল্পনা করছেন, তারা এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিন।

উপসংহার

ছট পূজা আমাদের শেখায় ভেদাভেদ ভুলে একসাথে প্রকৃতির আরাধনা করতে। গঙ্গার ঘাটে যখন হাজার হাজার প্রদীপ জ্বলে ওঠে, তখন মনে হয় আমাদের সংস্কৃতি কত সমৃদ্ধ।

আপনার এলাকায় ছট পূজা কেমন হয়? ঘাটে যাওয়ার কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা থাকলে আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না!

★ আপনার প্রিয় তালিকা

তালিকা খালি আছে।