শ্রাবণের ঝমঝমে বৃষ্টি আর চারদিকে সবুজের সমারোহ—এই আবহাওয়াতেই গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে বেজে ওঠে মা মনসার আগমণী সুর। মা মনসা, যাঁকে আমরা ‘বিষহরি’ বা ‘পদ্মাবতী’ নামেও জানি। তিনি সর্পকুলের দেবী, আবার ভক্তের কাছে তিনি পরম করুণাময়ী জননী।
আজকের ব্লগে আমি শেয়ার করব কেন এই পূজা আমাদের কাছে এতোটা আবেগের এবং এর পেছনের কিছু অজানা কথা।
কেন মা মনসার আরাধনা?
সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বাড়ে। তাই সাপের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং পরিবারের মঙ্গল কামনায় সর্পদেবী মনসার পূজা করা হয়। তবে কেবল ভয় থেকে নয়, ভক্তি থেকেও মা-কে তুষ্ট করার রীতি বহু প্রাচীন। তিনি শুধু বিষ হরণ করেন না, তিনি সন্তানদাত্রী এবং ধন-ধান্যদাত্রী দেবী হিসেবেও পূজিত হন।
বেহুলা-লখিন্দর: এক অমর প্রেমের উপাখ্যান
মনসা পূজার কথা উঠলেই যে কাহিনীটি আমাদের চোখে জল আনে, তা হলো সতী বেহুলা আর লখিন্দরের গল্প। চাঁদ সওদাগরের দম্ভ চূর্ণ করা এবং মা মনসার দেবীত্ব প্রতিষ্ঠার এই লড়াইয়ে বেহুলা দেখিয়েছিলেন নারী শক্তির অসীম সাহস। কলার মান্দাসে স্বামীর মৃতদেহ নিয়ে সেই উত্তাল গাঙ্গুড় নদী বেয়ে স্বর্গে যাওয়ার গল্প আমাদের ছোটবেলা থেকেই শিহরিত করে। এই কাহিনীই মনে করিয়ে দেয়, শুদ্ধ ভক্তি আর ভালোবাসার কাছে মৃত্যুও হার মানে।
কিভাবে পালিত হয় এই পূজা?
শহর বা গ্রামভেদে পুজোর ধরনে কিছুটা তফাত থাকলেও মূল সুরটি একই।
ঝাঁপান উৎসব: পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গায় মনসা পূজা উপলক্ষে 'ঝাঁপান' উৎসব পালিত হয়, যেখানে সাপুড়েরা তাদের কসরত দেখান।
মনসামঙ্গল গান: রাতভর পালাগান বা মনসামঙ্গল শোনার রেওয়াজ আজও বহু গ্রামে টিকে আছে।
অরন্ধন: রান্নাবাড়ির পূজা বা বিষহরি পূজার দিনে অনেক বাড়িতেই উনুন জ্বালানো হয় না। আগের দিন রান্না করা বাসি খাবার মা-কে নিবেদন করা হয় এবং প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
২০২৬ সালে মনসা পূজা কবে?
আগামী ২০২৬ সালের শ্রাবণ সংক্রান্তির দিনেই (সাধারণত অগাস্ট মাসের মাঝামাঝি) মা মনসার মূল পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর আগে নাগপঞ্চমীতেও দেবী মনসার বিশেষ আরাধনা করা হয়ে থাকে।
শেষ কথা
প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়ে গেলেও মা মনসার প্রতি আমাদের এই বিশ্বাস একবিন্দুও কমেনি। মা যেন সবার ঘর বিপদমুক্ত রাখেন এবং সবার জীবনে শান্তি বর্ষণ করেন।
আপনার এলাকায় মনসা পূজা কিভাবে কাটল? বা কোনো বিশেষ স্মৃতি আছে কি মা-কে নিয়ে? কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
