একটি স্কুল শুধু ইট-পাথরের দেয়াল নয়, এটি একটি অঞ্চলের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ এবং কয়েক প্রজন্মের সংগ্রামের গল্প। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি ব্লকের এক কোণে অবস্থিত চৌষা টি. এ. হাই স্কুল তেমনই এক অনুপ্রেরণার নাম। আজ আমরা জানবো কীভাবে সাধারণ মানুষের হাত ধরে একটি স্কুল বড় হয়ে উঠলো এবং একটি গোটা জনপদকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব নিল।
স্বপ্নের সূচনা: যখন ইচ্ছা ছিল কিন্তু সম্বল ছিল না
গল্পটা আজ থেকে কয়েক দশক আগের। কুশমণ্ডি পূর্ব এলাকার একদল শিক্ষানুরাগী ও সমাজহিতৈষী মানুষ স্বপ্ন দেখেছিলেন—এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা যেন ঘরের কাছেই শিক্ষার সুযোগ পায়। কিন্তু পথটা সহজ ছিল না। কোনো সরকারি অনুদান বা অবকাঠামো ছাড়াই শুরু হয়েছিল সেই যুদ্ধ।
এলাকার কিছু পরোপকারী গ্রামবাসী এগিয়ে এলেন। কেউ দান করলেন নিজের কষ্টের জমানো টাকা, কেউবা পৈতৃক জমি। সেই সময়ের বেকার যুবকদের কথা না বললেই নয়; তাঁরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই দিন-রাত স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে খেটেছেন স্কুলটিকে দাঁড় করাতে। তাঁদের সেই শ্রম আর ঘামেই একটি 'অর্গানাইজিং স্কুল' হিসেবে এটি মাথা তুলে দাঁড়ায়।
স্বীকৃতির পথে এবং উত্তরণ
ধীরে ধীরে স্কুলটি সবার নজর কাড়ে এবং এলাকাবাসীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৮৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) থেকে জুনিয়র স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৭০ সালের সেই ছোট অঙ্কুরটি আজ এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে, যা কুশমণ্ডি এলাকার কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে দিচ্ছে।
কেন এই স্কুলটি স্পেশাল?
চৌষা টি. এ. হাই স্কুল শুধুমাত্র একটি পাঠশালা নয়, এটি জনগণের স্কুল। এর ভিত্তিপ্রস্তর রাখা হয়েছে ত্যাগের ওপর। আজ এটি এলাকার অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ হিসেবে সুপরিচিত, যেখানে শৃঙ্খলা এবং গুণগত মানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এক নজরে স্কুলের তথ্যাদি:
যেকোনো প্রয়োজনে বা বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনি সরাসরি স্কুলের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন:
অবস্থান: কুশমণ্ডি পূর্ব, দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ।
প্রতিষ্ঠা কাল: ১৯৭০ (আনুমানিক সূচনা)।
স্বীকৃতি: ১৯৮৭ (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ)।
ইমেইল: choushatahighschool1970@gmail.com
ফোন নম্বর: +91 9434965226
শেষ কথা
একটি পিছিয়ে পড়া এলাকাকে টেনে তুলতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। চৌষা টি. এ. হাই স্কুলের এই পথচলা আমাদের শেখায় যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে সাধারণ মানুষও অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করতে পারে। আপনি যদি এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র হয়ে থাকেন, তবে কমেন্টে আপনার স্মৃতি শেয়ার করতে ভুলবেন না!
শিক্ষা হোক সবার জন্য উন্মুক্ত ও আনন্দময়।
আপনার যদি এই স্কুলে ভর্তির প্রক্রিয়া বা বর্তমান ফলাফল সম্পর্কে আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে নিচের দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের স্থানীয় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এই পোস্টটি শেয়ার করুন।
